NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Geography Model Answers-6/2

Madhyamik Geography Model Answers-6

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-6) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Geography Model Answers-6

Madhyamik Geograpy Model Answers
Madhyamik Geograpy Model Answers

Geography (ভূগোল)

(Part-2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)

4.1 হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: হিমবাহ গলে গেলে হিমবাহ গলা জল ও বরফ একসাথে যে সঞ্চয় করে, তাকে নদী-হিমবাহের মিলিত কার্য বলে। প্রধান ভূমিরূপগুলি হল –
i. বহিঃবিধৌত সমভূমি: হিমবাহের শেষ প্রান্তে গলা জল নুড়ি, বালি, কাদা বহন করে বিস্তীর্ণ সমভূমিতে ছড়িয়ে দেয়। একে আউটওয়াশ প্লেন বলে।
ii. এসকার: হিমবাহের নিচে সুড়ঙ্গের মধ্যে নদীর স্রোতে নুড়ি ও বালি জমে দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা শৈলশিরা তৈরি হয়। এটি 10 থেকে 100 কিমি লম্বা হতে পারে।
iii. ড্রামলিন: উল্টানো নৌকা বা চামচের মতো টিলা। একসাথে অনেক ড্রামলিন থাকলে তাকে ডিমের ঝুড়ি ভূমিরূপ বলে। হিমবাহের দিকে খাড়া এবং বিপরীত দিকে মৃদু ঢাল।
iv. কেম ও কেটল হ্রদ: বরফের বড় চাঙর বালির মধ্যে চাপা পড়ে পরে গলে গর্ত সৃষ্টি করে, সেই গর্তে জল জমে কেটল হ্রদ হয়। তার পাশে বালি জমে যে টিলা হয়, তাকে কেম বলে।
v. ভ্যালি ট্রেন: পার্বত্য নদী উপত্যকায় হিমবাহের গলা জলে বাহিত পলি জমে যে দীর্ঘ সঞ্চয় হয়, তাকে ভ্যালি ট্রেন বলে।

4.2 ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: পার্থক্য:
বিষয় ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত
চাপ কেন্দ্রে নিম্নচাপ, বায়ু বাইরে থেকে ভিতরের দিকে ছুটে আসে। কেন্দ্রে উচ্চচাপ, বায়ু ভিতর থেকে বাইরের দিকে বেরিয়ে যায়।
আবহাওয়া মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। পরিষ্কার, শান্ত ও শুষ্ক আবহাওয়া।
ঘূর্ণনের দিক উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘোরে। উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে।
আকার ও প্রকৃতি আকার ছোট 100-1000 কিমি, ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক। আকার বড় 2000-3000 কিমি, শান্ত প্রকৃতির।
বৈশিষ্ট্য:
ঘূর্ণবাত: নিম্নচাপ কেন্দ্রে বায়ু উপরে ওঠে, ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টি হয়। মাঝখানে শান্ত চক্ষু থাকে। যেমন বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়।

প্রতীপ ঘূর্ণবাত: উচ্চচাপ কেন্দ্রে বায়ু নিচে নামে, ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকে। শীতকালে উত্তর ভারতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার পর প্রতীপ ঘূর্ণবাত আসে, তখন শীতল ও পরিষ্কার আবহাওয়া থাকে।

4.3 ভারতের জলবায়ুর ওপর হিমালয় ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাব লেখো।

উত্তর:
হিমালয়ের প্রভাব:
i. হিমালয় উত্তরের অতি শীতল সাইবেরিয়ান বায়ুকে আটকে দেয়। না হলে ভারতের তাপমাত্রা -10°C হয়ে যেত, ভারত শীতল মরুভূমি হয়ে যেত।
ii. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে আটকে উত্তর-পূর্ব ভারত ও গাঙ্গেয় সমভূমিতে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়। না হলে ভারত বৃষ্টিহীন মরুভূমি হতো।
iii. ভূমধ্যসাগর থেকে আসা পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে আটকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে শীতকালে বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটায়।

মৌসুমী বায়ুর প্রভাব:
i. ভারতের 75% বৃষ্টি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে হয়। ভারতের কৃষি এই বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল।
ii. মৌসুমী বায়ুর জন্যই ভারতে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত এই চারটি ঋতু দেখা যায়।
iii. বৃষ্টি অনিশ্চিত বলে কখনও খরা ও কখনও বন্যা হয়।
iv. উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু শীতকালে তামিলনাড়ু উপকূলে বৃষ্টি ঘটায়।

4.4 গঙ্গা সমভূমির শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: গঙ্গা সমভূমি প্রায় 7 লক্ষ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পলি দ্বারা গঠিত। একে তিন ভাগে ভাগ করা যায় –
i. উচ্চ গঙ্গা সমভূমি: দিল্লি থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত। এখানে ভাঙ্গর বা পুরনো পলি বেশি, জমি তুলনামূলক উঁচু। দুটি নদীর মধ্যবর্তী জমিকে দোআব বলে, যেমন গঙ্গা-যমুনা দোআব খুব উর্বর।
ii. মধ্য গঙ্গা সমভূমি: এলাহাবাদ থেকে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত। এখানে খাদর বা নতুন পলি বেশি, জমি নিচু ও বন্যা প্রবণ। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের পূর্ব অংশ এর মধ্যে পড়ে।
iii. নিম্ন গঙ্গা সমভূমি: রাজমহল থেকে সুন্দরবন ব-দ্বীপ পর্যন্ত। এটি ব-দ্বীপ সমভূমি, খাদর মাটি, জলাভূমি ও জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত অঞ্চল। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ এর মধ্যে পড়ে।

বৈশিষ্ট্য: উর্বর পলি মাটি, অত্যন্ত সমতল, ঘনবসতি প্রায় 500 জন/বর্গ কিমি, ধান, গম, পাট ও আখ চাষে উন্নত এবং দিল্লি, কানপুর, পাটনা, কলকাতার মতো বড় শিল্প ও নগর কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

Madhyamik Geography Model Answers-6

4.5 ভারতে ধান চাষের বন্টন ও উন্নতির উপায় লেখো।
উত্তর:
বন্টন: ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান উৎপাদক, প্রথম চীন। ভারতের 23% কৃষিজমিতে ধান চাষ হয়।
i. পশ্চিমবঙ্গ প্রথম – বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ।
ii. উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব – সবুজ বিপ্লবের ফলে এখানে ফলন বেশি।
iii. অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, বিহার, ওড়িশা, অসম।
ধানের তিনটি মরসুম আছে – আমন ধান বর্ষাকালে প্রধান ফসল, আউস শরৎকালে এবং বোরো গ্রীষ্মকালে সেচের মাধ্যমে চাষ হয়।

উন্নতির উপায়:
i. উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার – জয়া, IR8।
ii. সেচ ব্যবস্থার উন্নতি – নলকূপ, খাল।
iii. রাসায়নিক ও জৈব সার, কীটনাশক ব্যবহার।
iv. জোত একত্রীকরণ ও সমবায় চাষ।
v. শস্য বীমা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP, সহজ ঋণ, গুদাম ও বাজারের সুবিধা।
vi. SRI পদ্ধতি বা System of Rice Intensification – এতে জল কম লাগে ও ফলন বাড়ে।

4.6 ভারতে কফি চাষের অনুকূল পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর: কফি একটি ক্রান্তীয় বাগিচা ফসল, এর জন্য ছায়া দরকার।
i. জলবায়ু: 15°-25°C তাপমাত্রা, 150-200 সেমি বৃষ্টিপাত, ছায়াযুক্ত ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া প্রয়োজন। তুষারপাত সহ্য করতে পারে না। ফুল ফোটার সময় শুষ্ক আবহাওয়া দরকার।
ii. মাটি: লাল, ল্যাটেরাইট, অম্লযুক্ত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি প্রয়োজন। জল নিকাশি ভালো হতে হবে এবং জমি ঢালু হতে হবে।
iii. জমি: পাহাড়ের ঢালে 1000-1500 মিটার উচ্চতায় ভালো হয়। পশ্চিমঘাট পর্বতে কর্ণাটক, কেরল ও তামিলনাড়ুতে চাষ হয়।
iv. শ্রমিক: বীজ তোলা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন।
v. ছায়া: সরাসরি রোদ কফি সহ্য করতে পারে না, তাই কলা, কাঁঠাল গাছের ছায়ায় কফি চাষ করা হয়। কর্ণাটক ভারতের 60% কফি উৎপাদন করে – চিকমাগালুর, কুর্গ, হাসান জেলায়।

4.7 ভারতে পেট্রোরাসায়ন শিল্পের গুরুত্ব ও বন্টন লেখো।

উত্তর:
গুরুত্ব: খনিজ তেল থেকে প্লাস্টিক, সার, রঙ, ওষুধ, কৃত্রিম তন্তু, ডিটারজেন্ট ও পলিথিন তৈরি হয়।
i. এটি অন্যান্য শিল্পের কাঁচামাল যোগায় – বস্ত্র, ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্প পেট্রোরাসায়নিকের উপর নির্ভরশীল।
ii. প্রচুর কর্মসংস্থান ও রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন।
iii. কৃষিতে সার ও কীটনাশক হিসাবে ব্যবহার।
iv. দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিক ছাড়া জীবন অচল।

বন্টন:
i. মুম্বাই-ট্রম্বে – প্রথম কারখানা 1966 সালে।
ii. গুজরাট – বরোদায় IPCL, জামনগরে রিলায়েন্স – বিশ্বের বৃহত্তম শোধনাগার, হাজিরা, দাহেজ।
iii. পশ্চিমবঙ্গ – হলদিয়া।
iv. অসম – বঙ্গাইগাঁও।
কারণ: বোম্বে হাই ও গুজরাটে খনিজ তেল ও গ্যাসের সহজলভ্যতা, বন্দরের সুবিধা ও বাজারের চাহিদা। সমস্যা হল বায়ু ও জল দূষণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।

4.8 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার লেখো।
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য:
i. Survey of India বা SOI জরিপ করে এই মানচিত্র আঁকে। এতে সমোন্নতি রেখা বাদামি রঙে আঁকা থাকে।
ii. রঙের ব্যবহার – নীল – জলাশয়, সবুজ – বনভূমি, হলুদ – কৃষিজমি, কালো – জনবসতি ও রাস্তা, লাল – জাতীয় সড়ক।
iii. স্কেল থাকে – 1:50000, 1:250000, 1:1000000 স্কেলে আঁকা হয়, RF ও রৈখিক স্কেল থাকে।
iv. সাংকেতিক চিহ্ন থাকে – PO – ডাকঘর, PS – থানা, মন্দির, মসজিদ, কূপ, BM – Bench Mark, Spot Height।
v. অক্ষাংশ, দ্রাঘিমা, দিক নির্দেশক উত্তর থাকে।

ব্যবহার:
i. ভূমির উচ্চতা, ঢাল, নদী ও পাহাড়ের আকৃতি জানা যায়।
ii. রাস্তা, রেল, বাঁধ, সেচ ও নগর পরিকল্পনা করা যায়।
iii. সেনাবাহিনী, প্রশাসন, পর্যটন ও ট্রেকিং-এ ব্যবহার করা হয়।
iv. ভূগোল, ভূতত্ত্ব ও পরিবেশ গবেষণায় এবং নগর পরিকল্পনায় অপরিহার্য।

Madhyamik Geography Model Answers-6

বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)

5.1 নদীর ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কার্যের বৈশিষ্ট্য ও ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: নদী তিনটি প্রধান কাজ করে –
i. ক্ষয়: নদী চারভাবে ক্ষয় করে – অবঘর্ষ বা বালি দিয়ে ঘষে, ঘর্ষণ বা পাথরে পাথরে ঘষে, দ্রবণ বা লবণ গুলে এবং জলপ্রবাহের আঘাতে। উচ্চগতিতে ঢাল ও বেগ বেশি বলে ক্ষয় বেশি। সৃষ্ট ভূমিরূপ – V আকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত, ক্যানিয়ন যেমন গঙ্গার গিরিখাত, জলপ্রপাত যেমন হুড্রু, মন্থকূপ ও কর্তিত স্পার।
ii. বহন: নদী নুড়ি, বালি, কাদা চারভাবে বহন করে – ভাসিয়ে, লাফিয়ে লাফিয়ে বা Saltation, গড়িয়ে বা Traction এবং দ্রবণে। উচ্চগতিতে বড় পাথর এবং নিম্নগতিতে সূক্ষ্ম কাদা বহন করে। ষষ্ঠঘাত সূত্র অনুযায়ী – বেগ দ্বিগুণ হলে বহন ক্ষমতা 64 গুণ বাড়ে।
iii. সঞ্চয়: বেগ কমলে নদী পলি ফেলে দেয়, মধ্য ও নিম্নগতিতে সঞ্চয় বেশি। সৃষ্ট ভূমিরূপ – পলল শঙ্কু, প্লাবনভূমি, প্রাকৃতিক বাঁধ, মিয়েন্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, ব-দ্বীপ, চর ও বিনুনি নদী।
সংক্ষেপে – উচ্চগতিতে ক্ষয় প্রধান, মধ্যগতিতে ক্ষয় ও সঞ্চয় সমান এবং নিম্নগতিতে সঞ্চয় প্রধান। গঙ্গা নদী উচ্চগতিতে গিরিখাত, মধ্যগতিতে প্লাবনভূমি এবং নিম্নগতিতে সুন্দরবন ব-দ্বীপ তৈরি করেছে।

[চিত্র: উচ্চ-মধ্য-নিম্নগতির V উপত্যকা থেকে ব-দ্বীপ পর্যন্ত ক্রম আঁকবে, লেবেল দেবে]

5.2 বায়ুমণ্ডলের চাপের তারতম্যের কারণ ও চাপবলয়গুলির বর্ণনা দাও।
উত্তর:
চাপের তারতম্যের কারণ: i. উষ্ণতা – গরমে বায়ু হালকা হয়ে উপরে ওঠে, নিম্নচাপ হয়; ঠান্ডায় বায়ু ভারী হয়ে নিচে নামে, উচ্চচাপ হয়। ii. উচ্চতা – উপরে উঠলে চাপ কমে, প্রতি 10 মিটারে 1 মিলিবার। iii. জলীয় বাষ্প – জলীয় বাষ্প হালকা, তাই আর্দ্র বায়ুতে নিম্নচাপ। iv. পৃথিবীর আবর্তন – কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু বেঁকে যায়। v. স্থল ও জলের বন্টন।

চাপবলয় 7টি:
i. নিরক্ষীয় নিম্নচাপ 0°: সারা বছর গরম, বায়ু উপরে ওঠে, নিম্নচাপ, শান্ত বলয় বা Doldrum, বৃষ্টি বেশি।
ii. কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ 30° উত্তর ও দক্ষিণ: বায়ু নিচে নামে, উচ্চচাপ, শুষ্ক, এখানে মরুভূমি তৈরি হয়েছে – সাহারা ও থর, একে অশ্ব অক্ষাংশ বলে।
iii. সুমেরু ও কুমেরু নিম্নচাপ 60° উত্তর ও দক্ষিণ: উষ্ণ ও শীতল বায়ুর মিলনে নিম্নচাপ, ঝড়-বৃষ্টি হয়।
iv. মেরু উচ্চচাপ 90° উত্তর ও দক্ষিণ: প্রচণ্ড ঠান্ডা, ভারী বায়ু, উচ্চচাপ।
চাপের পার্থক্যের জন্যই নিয়ত বায়ু বয় – আয়ন বায়ু 30° থেকে 0°, পশ্চিমা বায়ু 30° থেকে 60° এবং মেরু বায়ু 90° থেকে 60°-তে প্রবাহিত হয়।

5.3 ভারতের অরণ্যের শ্রেণিবিভাগ করো ও যেকোনো দুটির বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: বৃষ্টি ও তাপমাত্রা অনুযায়ী 5 প্রকার –
i. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ: 200 সেমির বেশি বৃষ্টি, পশ্চিমঘাট, উত্তর-পূর্ব ও আন্দামানে। গাছ – রোজউড, মেহগনি, আয়রন উড, এবনি, সারা বছর সবুজ, অত্যন্ত ঘন, 60 মিটার উঁচু, পাতা চওড়া।
ii. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী: 100-200 সেমি বৃষ্টি, ভারতের 70% বন, শাল, সেগুন, শিমুল, মহুয়া, শীতকালে পাতা ঝরে যায়, কাঠ মূল্যবান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও ওড়িশায় বেশি।
iii. ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদ: 50 সেমির কম বৃষ্টি, রাজস্থানে, বাবলা, ক্যাকটাস, খেজুর, কাঁটাযুক্ত, পাতা ছোট।
iv. পার্বত্য উদ্ভিদ: হিমালয়ে উচ্চতা অনুযায়ী – 1000 মি পর্যন্ত শাল, 1000-2000 মি চিরহরিৎ, 2000-3000 মি পাইন, দেবদারু এবং 3000-4000 মি আল্পীয় তৃণভূমি।
v. ম্যানগ্রোভ: সুন্দরবন, লবণাক্ত জলে, সুন্দরী, গরান, গেওয়া, এদের শ্বাসমূল, ঠেসমূল ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়।

দুটির বৈশিষ্ট্য:
চিরহরিৎ: সারা বছর সবুজ থাকে, ঘন, জীববৈচিত্র্য বেশি, কাঠ শক্ত, আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
পর্ণমোচী: শীতকালে পাতা ঝরে যায়, আলো বেশি ঢোকে, কাঠ মূল্যবান, আসবাব ও রেল স্লিপার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

5.4 ভারতে গম চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো। সবুজ বিপ্লবের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর:
অনুকূল পরিবেশ: গম রবি শস্য, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বোনা হয় এবং মার্চ-এপ্রিল মাসে কাটা হয়।
i. জলবায়ু: বোনার সময় 10°-15°C, পাকার সময় 20°-25°C, 50-100 সেমি বৃষ্টি, 100 দিন তুষারমুক্ত থাকা দরকার, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার বৃষ্টি গমের জন্য ভালো এবং প্রচুর রোদ প্রয়োজন।
ii. মাটি: উর্বর দোআঁশ, পলি ও কৃষ্ণ মাটি, জল নিকাশি ভালো।
iii. জমি: সমতল জমি এবং সেচের সুবিধা যেমন ভাকরা-নাঙ্গাল, নলকূপ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় সেচে গম ভালো হয়।
iv. শ্রমিক, সার, উন্নত বীজ HD 2967, WH 542, যন্ত্র ও বাজার।

বন্টন: উত্তরপ্রদেশ 30% উৎপাদন করে প্রথম, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ফলন সবচেয়ে বেশি 4 টন/হেক্টর, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও বিহার। ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদক।

সমস্যা: i. ক্ষুদ্র জোত, ii. সেচের জলের অভাব ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়া, iii. মাটি ক্ষয় ও লবণাক্ততা, iv. রোগ ও শিলাবৃষ্টি, v. সংরক্ষণ, বাজার ও MSP কম, vi. জলবায়ু পরিবর্তন, শীত কমলে ফলন কমে।

সবুজ বিপ্লবের গুরুত্ব: 1960-এর দশকে উচ্চ ফলনশীল বীজ HYV, সার, সেচ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন 3 গুণ বাড়ে, ভারত খাদ্যে স্বনির্ভর হয়, আমদানি বন্ধ হয়, কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা ধনী হয়। জনক – এম. এস. স্বামীনাথন ভারতে এবং নরম্যান বোরলগ বিশ্বে। তবে ধনী-গরিব বৈষম্য এবং মাটি ও জল দূষণ বাড়ে।

Madhyamik Geography Model Answers-6

5.5 ভারতে শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি আলোচনা করো। পূর্ব ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প কেন্দ্রীভবনের কারণ কী?
উত্তর:
শিল্প গড়ে ওঠার কারণ: i. কাঁচামাল – লোহা, কয়লা, তুলো, আখ, পাট কাছে থাকতে হবে। ii. শক্তি – বিদ্যুৎ ও কয়লা। iii. শ্রমিক – সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক। iv. বাজার – পণ্য বিক্রির বাজার। v. পরিবহন – সড়ক, রেল ও বন্দর। vi. মূলধন, সরকারি নীতি ও জল।
পূর্ব ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প কেন্দ্রীভবনের কারণ: ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে ভারতের 90% লৌহ-ইস্পাত শিল্প আছে – জামশেদপুর, বার্নপুর, কুলটি, দুর্গাপুর, বোকারো, রাউরকেলা, ভিলাই।

কারণ: i. কাঁচামাল – ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ, কেন্দুঝর এবং ছত্তিশগড়ের বাইলাডিলায় লোহা, ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়ায় কয়লা, চুনাপাথর ও ম্যাঙ্গানিজ কাছে পাওয়া যায়। ii. জল – দামোদর ও সুবর্ণরেখা নদীর জল। iii. শ্রমিক – সস্তা ও দক্ষ আদিবাসী শ্রমিক। iv. পরিবহন – হাওড়া-মুম্বাই রেললাইন এবং কলকাতা বন্দর। v. বাজার – পূর্ব ও মধ্য ভারতে চাহিদা বেশি। vi. বিদ্যুৎ – DVC থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত – লিখিত বর্ণনা
উত্তর: খাতায় যেভাবে আঁকবে –
[A] নীলগিরি পর্বত: তামিলনাড়ু, কেরল ও কর্ণাটক সীমান্তে, পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাটের মিলনস্থলে অবস্থিত। সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দোদাবেতা 2637 মিটার, প্রতি 12 বছর অন্তর নীল ফুল ফোটে বলে নীলগিরি নাম, উটি শৈলশহর এখানে।
[B] ডাল হ্রদ: জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে অবস্থিত মিষ্টি জলের হ্রদ। হাউসবোট, শিকারা নৌকা, ভাসমান বাগান ও মুঘল গার্ডেন এর জন্য বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র।
[C] গোদাবরী নদী: মহারাষ্ট্রের নাসিকের কাছে ত্রিম্বক মালভূমি থেকে উৎপত্তি, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্য দিয়ে 1465 কিমি পূর্বে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এটি দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী, রাজমুন্দ্রি শহর এর তীরে অবস্থিত।
[D] একটি কৃষ্ণ মাটি অঞ্চল – দাক্ষিণাত্য মালভূমি: মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটকে ব্যাসল্ট লাভা থেকে সৃষ্ট কালো রেগুর মাটি, লোহা বেশি, জল ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি, তুলো, আখ ও সয়াবিন চাষে উন্নত।
[E] একটি পাট উৎপাদক অঞ্চল – হুগলি: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে উর্বর পলি ও 150 সেমি বৃষ্টিতে পাট চাষ হয়, হুগলি নদীর পাশে পাটকল আছে, ভারতের 70% পাট এখানে উৎপাদিত হয়।
[F] কোচি বন্দর: কেরলে আরব সাগরের তীরে অবস্থিত প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়, লেগুনে অবস্থিত। মশলা, চা, কফি, কাজু রপ্তানি হয় এবং জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র আছে।
[G] একটি কম জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্য – সিকিম: উত্তর-পূর্ব ভারতে অবস্থিত, জনঘনত্ব মাত্র 86 জন/বর্গ কিমি। পাহাড়ি, বনাঞ্চল, কম সমতল, কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত, কম শিল্পের কারণে জনবিরল।

—    ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading