Madhyamik Geography Model Answers-7
Madhyamik Geography Model Answers-7
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-7) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-7

Geography (ভূগোল)
বিভাগ – ক: MCQ – ব্যাখ্যা সহ
1.1 বহির্জাত প্রক্রিয়ার চালিকা শক্তি –
[A] সূর্য [B] পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপ
[C] মাধ্যাকর্ষণ [D] a ও c ✓
ব্যাখ্যা: বহির্জাত প্রক্রিয়া সূর্যের তাপে (বায়ু, বৃষ্টি) এবং মাধ্যাকর্ষণে (নদী, হিমবাহের প্রবাহ) চলে। অন্তর্জাত প্রক্রিয়া পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপে চলে।
1.2 পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ –
[A] মিসিসিপি ✓ [B] গঙ্গা
[C] নীল [D] সিন্ধু
ব্যাখ্যা: মিসিসিপির বদ্বীপ আঙুলের মতো শাখা বের হওয়ায় পাখির পায়ের মতো দেখায়। গঙ্গা ধনুকাকৃতি, নীলও ধনুকাকৃতি।
1.3 বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে আবহাওয়ার গোলযোগ ঘটে –
[A] ট্রপোস্ফিয়ার ✓ [B] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
[C] মেসোস্ফিয়ার [D] এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: ট্রপোস্ফিয়ারে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় সব হয়, তাই একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলে। বাকি স্তরে আবহাওয়া শান্ত।
1.4 ডলড্রাম অবস্থিত –
[A] নিরক্ষীয় অঞ্চলে ✓ [B] মেরু অঞ্চলে
[C] ক্রান্তীয় অঞ্চলে [D] নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখায় 5°N-5°S এর মধ্যে ITCZ তে বায়ু শান্ত থাকে, পালতোলা জাহাজ আটকে যেত, তাই একে ডলড্রাম বা নিরক্ষীয় শান্ত বলয় বলে।
1.5 ভারতের সর্বোচ্চ মালভূমি –
[A] লাদাখ ✓ [B] ছোটনাগপুর
[C] দাক্ষিণাত্য [D] মেঘালয়
ব্যাখ্যা: লাদাখ মালভূমি গড়ে 3000-5000 মিটার উঁচু, ভারতের উচ্চতম। একে তিব্বত মালভূমির অংশও বলা হয়।
1.6 কৃষ্ণা নদীর উৎস –
[A] মহাবালেশ্বর ✓ [B] ত্রিম্বক
[C] অমরকন্টক [D] ব্রহ্মগিরি
ব্যাখ্যা: মহারাষ্ট্রের মহাবালেশ্বর পাহাড় থেকে কৃষ্ণার উৎপত্তি। ত্রিম্বক গোদাবরীর, ব্রহ্মগিরি কাবেরীর উৎস।
1.7 ভারতের প্রাচীনতম মাটি –
[A] ল্যাটেরাইট ✓ [B] পলি
[C] কৃষ্ণ [D] লাল
ব্যাখ্যা: ল্যাটেরাইট মাটি সবচেয়ে পুরনো, তৃতীয় যুগে তৈরি। পলি মাটি সবচেয়ে নবীন।
1.8 ভারতে রাগি চাষ বেশি হয় –
[A] কর্ণাটকে ✓ [B] পাঞ্জাবে
[C] পশ্চিমবঙ্গে [D] অসমে
ব্যাখ্যা: কর্ণাটক রাগি বা ফিঙ্গার মিলেট উৎপাদনে প্রথম। এটি দক্ষিণ ভারতের খাদ্য।
1.9 জামশেদপুর ইস্পাত কেন্দ্র –
[A] ব্যক্তিগত ✓ [B] সরকারি
[C] যৌথ [D] কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা: TISCO জামশেদজি টাটার ব্যক্তিগত উদ্যোগে 1907 সালে গড়ে ওঠে, ভারতের প্রথম বৃহৎ বেসরকারি ইস্পাত কারখানা।
1.10 ভারতের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক –
[A] বেঙ্গালুরু ✓ [B] হায়দ্রাবাদ
[C] পুনে [D] চেন্নাই
ব্যাখ্যা: 1990 সালে বেঙ্গালুরুতে প্রথম STPI (Software Technology Parks of Indi[A] স্থাপিত হয়।
1.11 উপগ্রহ চিত্রে জলভাগের রঙ –
[A] নীল/কালো ✓ [B] লাল
[C] সবুজ [D] সাদা
ব্যাখ্যা: FCC তে পরিষ্কার জল কালো/গাঢ় নীল, অগভীর জল হালকা নীল দেখায়।
1.12 ভারতের টপো মানচিত্রের সংখ্যা –
[A] 4 [B] 3
[C] 2 [D] 5 ✓ – ব্যাখ্যা ভিন্ন
ব্যাখ্যা: SOI টপো মানচিত্র 5 রকম স্কেলে প্রকাশ করে – 1:1000000, 1:250000, 1:50000, 1:25000, 1:10000
1.13 পাহাড়ি অঞ্চলে জনবসতি –
[A] বিক্ষিপ্ত ✓ [B] গোষ্ঠীবদ্ধ
[C] রৈখিক [D] বৃত্তাকার
ব্যাখ্যা: পাহাড়ে ভূমি অসমতল, জমি কম, তাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিক্ষিপ্ত বসতি হয়।
1.14 ভারতে জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি –
[A] উত্তরপ্রদেশে ✓ [B] মহারাষ্ট্রে
[C] বিহারে [D] পশ্চিমবঙ্গে
ব্যাখ্যা: 2011 অনুযায়ী UP তে 19.9 কোটি, ভারতের 16% জনসংখ্যা, প্রথম। মহারাষ্ট্র দ্বিতীয়।
Madhyamik Geography Model Answers-7
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×16=16)
2.1 ক্ষয়সীমা কী?
উত্তর: নদী যে সর্বনিম্ন তল পর্যন্ত ক্ষয়কার্য করতে পারে, তাকে ক্ষয়সীমা বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ হল নদীর চূড়ান্ত ক্ষয়সীমা, কারণ সমুদ্রতলের নিচে নদী ক্ষয় করতে পারে না। হ্রদ, জলপ্রপাত বা বাঁধ হল নদীর অস্থায়ী ক্ষয়সীমা।
2.2 প্লায়া কী?
উত্তর: মরু অঞ্চলের চারদিক উঁচু, মাঝখান নিচু অববাহিকায় বৃষ্টির জল জমে যে অস্থায়ী লবণাক্ত হ্রদের সৃষ্টি হয়, তাকে প্লায়া বলে। জল শুকিয়ে গেলে এটি লবণাক্ত সমভূমি বা সল্ট ফ্ল্যাটে পরিণত হয়। রাজস্থানের সম্বর হ্রদ একটি প্লায়া হ্রদের উদাহরণ।
2.3 কেম কী?
উত্তর: হিমবাহের শেষ প্রান্তে হিমবাহ গলা জল দ্বারা বাহিত নুড়ি, বালি ও কাদা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে যে ত্রিকোণাকার টিলার মতো ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে কেম বলে। সাধারণত কেটল হ্রদের পাশে কেম ভূমিরূপ দেখা যায়।
2.4 উষ্ণতা বাড়লে বায়ুচাপের কী হয়?
উত্তর: উষ্ণতা বাড়লে বায়ু উত্তপ্ত হয়ে হালকা হয় এবং উপরে উঠে যায়, ফলে বায়ুচাপ কমে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে উষ্ণতা কমলে বায়ু শীতল হয়ে ভারী হয় এবং নিচে নেমে আসে, ফলে বায়ুচাপ বেড়ে যায় এবং উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। তাই নিরক্ষরেখায় নিম্নচাপ এবং মেরু অঞ্চলে উচ্চচাপ দেখা যায়।
2.5 ভারতে কালবৈশাখীকে কী বলে?
উত্তর: ভারতে অঞ্চলভেদে কালবৈশাখী বিভিন্ন নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে একে কালবৈশাখী, অসমে বরদৈছিলা, বিহার ও উত্তরপ্রদেশে আঁধি, কেরলে আম্রবৃষ্টি এবং কর্ণাটকে চেরি ব্লসম বা ফুল ফোটা বৃষ্টি বলে।
2.6 বেট কাকে বলে?
উত্তর: পাঞ্জাবের নদী প্লাবনভূমিতে নদীবাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর দ্বীপ বা উঁচু ভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে বেট বলে। যেমন বিপাশা ও শতদ্রু নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে বেট ভূমি দেখা যায়।
2.7 জুম চাষ কী?
উত্তর: পাহাড়ি অঞ্চলে বনভূমি কেটে ও পুড়িয়ে সেই ছাই দিয়ে যে আদিম পদ্ধতিতে চাষ করা হয়, তাকে জুম বা ঝুম চাষ বলে। উত্তর-পূর্ব ভারতে এবং ছোটনাগপুর মালভূমিতে আদিবাসীরা এই চাষ করে। দুই থেকে তিন বছর চাষ করার পর জমির উর্বরতা কমে গেলে তারা জমি ছেড়ে অন্য জমিতে চলে যায়। এটি পরিবেশের ক্ষতি করে।
2.8 ভারতের প্রধান অর্থকরী ফসল কী?
উত্তর: যে সকল ফসল সরাসরি বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা যায়, তাদের অর্থকরী ফসল বলে। তুলো, পাট, আখ, চা, কফি, তামাক ও তৈলবীজ হল ভারতের প্রধান অর্থকরী ফসল। এর মধ্যে তুলো অন্যতম প্রধান।
2.9 ম্যানচেস্টার অফ ইন্ডিয়া কাকে বলে?
উত্তর: ম্যানচেস্টার অফ ইন্ডিয়া বলা হয় গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরকে। এখানে প্রচুর তুলো ও কার্পাস বয়ন শিল্প কেন্দ্র গড়ে ওঠায় ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের সাথে তুলনা করে এই নামকরণ করা হয়েছে।
2.10 ভারতের দীর্ঘতম সড়ক সেতু কোনটি?
উত্তর: ভারতের দীর্ঘতম সড়ক সেতু হল ভূপেন হাজারিকা সেতু বা ঢোলা-সাদিয়া সেতু। এটি অসমে ব্রহ্মপুত্র নদের লোহিত শাখার উপর নির্মিত এবং এর দৈর্ঘ্য 9.15 কিলোমিটার।
2.11 দূর সংবেদনের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: ভূপৃষ্ঠকে সরাসরি স্পর্শ না করে দূর থেকে অর্থাৎ বিমান বা কৃত্রিম উপগ্রহে স্থাপিত সেন্সরের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের প্রতিফলিত আলো ও তাপ সংগ্রহ করে ছবি তোলা এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার পদ্ধতিকে দূর সংবেদন বা রিমোট সেন্সিং বলে।
2.12 টপো মানচিত্রে কালো রঙে কী দেখানো হয়?
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে কালো রঙে মানুষের তৈরি বিভিন্ন বিষয় দেখানো হয়। যেমন রাস্তা, রেলপথ, সেতু, জনবসতি, প্রশাসনিক সীমানা, মন্দির, মসজিদ, ডাকঘর ও থানা।
2.13 জনসংখ্যার ঘনত্ব কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
উত্তর: জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয় করা হয় মোট জনসংখ্যাকে মোট ক্ষেত্রফল দিয়ে ভাগ করে। অর্থাৎ জনঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা / মোট ক্ষেত্রফল। যেমন 2011 সালে ভারতের জনসংখ্যা 121 কোটি এবং ক্ষেত্রফল 32.8 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার, তাই জনঘনত্ব ছিল 382 জন প্রতি বর্গ কিলোমিটার।
2.14 ভারতে পুরুষ ও নারীর সাক্ষরতার হার কত?
উত্তর: 2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতে পুরুষ সাক্ষরতার হার 82.14 শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার 65.46 শতাংশ। ভারতের গড় সাক্ষরতার হার 74.04 শতাংশ।
2.15 ভারতের পূর্বতম রাজ্য কোনটি?
উত্তর: ভারতের পূর্বতম রাজ্য হল অরুণাচল প্রদেশ। এই রাজ্যের পূর্বতম স্থান হল কিবিথু, যা 97°25′ পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত।
2.16 ভূমিকম্প কী?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে পাত সঞ্চালন, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা শিলাস্তরে আকস্মিক চাপ সৃষ্টির ফলে ভূমির যে আকস্মিক কম্পন হয়, তাকে ভূমিকম্প বলে। ভূ-গর্ভে যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, তাকে কেন্দ্র বা ফোকাস বলে এবং ঠিক তার উপরে ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে উপকেন্দ্র বা এপিসেন্টার বলে। ভূমিকম্প রিখটার স্কেলে মাপা হয়।
Madhyamik Geography Model Answers-7
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×8=16)
3.1 নদীর বহন কার্যের প্রক্রিয়াগুলি লেখো।
উত্তর: নদী ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থগুলিকে চারটি প্রক্রিয়ায় বহন করে –
i. ভাসমান প্রক্রিয়া: অতি সূক্ষ্ম কাদা ও পলি জলে ভাসমান অবস্থায় বহন করে।
ii. লম্ফদান প্রক্রিয়া: বালিকণা নদীর তলদেশ থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
iii. আকর্ষণ বা গড়ানো প্রক্রিয়া: বড় নুড়ি ও পাথর নদীর তলদেশ দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে বাহিত হয়।
iv. দ্রবণ প্রক্রিয়া: লবণ, চুনাপাথর প্রভৃতি জলে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ রূপে বাহিত হয়। নদীর বেগ বেশি হলে বহন ক্ষমতাও বেশি হয়।
3.2 হিমবাহের প্রকারভেদ লেখো।
উত্তর: হিমবাহ প্রধানত তিন প্রকার –
i. মহাদেশীয় হিমবাহ: মেরু অঞ্চলে বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বরফের চাদরকে মহাদেশীয় হিমবাহ বলে। যেমন আন্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ।
ii. পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহ: উচ্চ পর্বত থেকে উপত্যকা বেয়ে নিচে নেমে আসা হিমবাহকে পার্বত্য হিমবাহ বলে। যেমন কারাকোরামের সিয়াচেন হিমবাহ এবং হিমালয়ের গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী হিমবাহ।
iii. পাদদেশীয় হিমবাহ: পর্বতের পাদদেশে অনেকগুলি উপত্যকা হিমবাহ মিলিত হয়ে যে বিস্তীর্ণ হিমবাহ গঠন করে, তাকে পাদদেশীয় হিমবাহ বলে। যেমন আলাস্কার মালাস্পিনা হিমবাহ।
3.3 বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ লেখো।
উত্তর: বৃষ্টিপাত প্রধানত তিন প্রকার –
i. পরিচলন বৃষ্টি: সূর্যের প্রচণ্ড তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি ঘটায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলবেলা এই ধরনের বৃষ্টি হয়।
ii. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি: আর্দ্র বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টি ঘটায়। পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টি হয় এবং পূর্ব ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি হয় যেখানে বৃষ্টি কম হয়।
iii. ঘূর্ণবাত বৃষ্টি: ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপের কারণে বায়ু উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টি ঘটায়। যেমন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের ফলে এই বৃষ্টি হয়।
3.4 ভারতের জলবায়ুতে এল-নিনোর প্রভাব লেখো।
উত্তর: এল-নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বে পেরু উপকূলের কাছে উষ্ণ সমুদ্র স্রোতের আবির্ভাব। ভারতের জলবায়ুতে এর প্রভাব হল –
i. এল-নিনোর বছরগুলিতে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে যায়, ফলে বৃষ্টিপাত কম হয় এবং খরা দেখা দেয়। যেমন 2002, 2009 ও 2014 সালের খরা এল-নিনোর কারণে হয়েছিল।
ii. এই সময় তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা কমে যায়।
iii. বৃষ্টি কম হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং দেশের GDP ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিপরীত অবস্থা হল লা-নিনা, যার ফলে ভারতে বৃষ্টি বেশি হয় এবং বন্যা দেখা দেয়।
3.5 ভারতের মালভূমি অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ভারতের মালভূমি বলতে প্রধানত দাক্ষিণাত্য মালভূমিকে বোঝায়, যা ভারতের বৃহত্তম মালভূমি। এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
i. এটি প্রাচীন গন্ডোয়ানা শিলা দ্বারা গঠিত এবং এর আকৃতি ত্রিভুজাকার।
ii. এর গড় উচ্চতা 600 থেকে 900 মিটার। পশ্চিম দিকে বেশি উঁচু এবং পূর্ব দিকে ক্রমশ নিচু হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে ঢালু হয়েছে।
iii. এই মালভূমি পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বত দ্বারা বেষ্টিত।
iv. গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী পূর্ববাহী নদী হিসাবে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে এবং নর্মদা ও তাপ্তি পশ্চিমবাহী নদী হিসাবে আরব সাগরে পড়েছে।
v. এখানে প্রচুর খনিজ সম্পদ যেমন লোহা, কয়লা ও ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়।
vi. এখানে কৃষ্ণ মাটি বা রেগুর মাটি দেখা যায়, যা তুলো ও আখ চাষের পক্ষে উপযোগী।
3.6 ভারতের নদনদীর উপকারিতা লেখো।
উত্তর: ভারতের নদনদীর উপকারিতাগুলি হল –
i. কৃষিতে: নদী পলি সঞ্চয় করে উর্বর সমভূমি গঠন করেছে এবং সেচের জল সরবরাহ করে। যেমন গঙ্গা সমভূমি ভারতের সবচেয়ে উর্বর কৃষি অঞ্চল।
ii. জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে: নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যেমন ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ।
iii. পরিবহন ও মৎস্য চাষে: নদীতে নৌ-পরিবহন করা হয় এবং প্রচুর মাছ ধরা হয়।
iv. পানীয় ও শিল্পে জল সরবরাহ: নদীর জল পানীয় জল হিসাবে এবং শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
v. ধর্ম ও পর্যটনে: গঙ্গা ভারতের পবিত্র নদী এবং হরিদ্বার ও বারাণসীর মতো তীর্থস্থান নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।
vi. ব-দ্বীপ ও বন্দর গঠন: নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ গঠিত হয় এবং নদীর তীরে কলকাতা ও হলদিয়ার মতো বন্দর গড়ে উঠেছে।
3.7 ভারতে কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের প্রভাব লেখো।
উত্তর:
সুফল:
i. সবুজ বিপ্লবের ফলে ভারতে খাদ্য উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পায়। 1965 সালে উৎপাদন ছিল 72 মিলিয়ন টন থেকে 2020 সালে প্রায় 300 মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়। ভারত খাদ্যে স্বনির্ভর হয় এবং খাদ্য আমদানি বন্ধ হয়।
ii. কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্য অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়।
iii. সার, কীটনাশক, যন্ত্রপাতি ও সেচের মতো সহায়ক শিল্পগুলির বিকাশ ঘটে।
কুফল:
i. ধনী ও দরিদ্র কৃষকের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। ছোট চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
ii. অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটি ও জল দূষিত হয়, ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যায় এবং পাঞ্জাবে ক্যান্সারের মতো রোগ বাড়ে।
iii. সবুজ বিপ্লব শুধুমাত্র গম ও ধানের ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, কিন্তু ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদনে তেমন সফল হয়নি।
iv. পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায়।
Madhyamik Geography Model Answers-7
3.8 ভারতে চা শিল্পের সমস্যা লেখো।
উত্তর: ভারতে চা শিল্পের সমস্যাগুলি হল –
i. পুরনো গাছ ও কম ফলন: ভারতে অনেক চা গাছ 100 বছরের বেশি পুরনো, ফলে ফলন কম। ভারতে ফলন হেক্টর প্রতি 2000 কেজি, যেখানে চীনে 3000 কেজি।
ii. শ্রমিক সমস্যা: শ্রমিক অসন্তোষ, কম মজুরি ও ঘন ঘন ধর্মঘটের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়।
iii. প্রতিযোগিতা ও রপ্তানি হ্রাস: কফি ও কোল্ড ড্রিংকসের মতো কৃত্রিম পানীয়ের সাথে প্রতিযোগিতা এবং ব্রিটেন ও রাশিয়ার মতো দেশে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি কমেছে।
iv. জলবায়ু পরিবর্তন: জলবায়ু পরিবর্তন, পোকার আক্রমণ ও রোগের কারণে চা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
v. অর্থনৈতিক সমস্যা: উৎপাদন ব্যয় বেশি, কিন্তু বাজারে দাম কম পাওয়া যায়।
3.9 ভারতে ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল কী কী?
উত্তর: ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পে যে কাঁচামালগুলি প্রয়োজন, তা হল –
i. লৌহ আকরিক: ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড় থেকে পাওয়া যায়।
ii. কোক কয়লা: ঝরিয়া ও রানীগঞ্জ থেকে পাওয়া যায়, তবে উন্নত মানের কোক কয়লা অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করতে হয়।
iii. চুনাপাথর: মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড় থেকে পাওয়া যায়, যা গলানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
iv. ম্যাঙ্গানিজ: ওড়িশা ও কর্ণাটক থেকে পাওয়া যায়, যা ইস্পাতকে শক্ত করে।
v. অন্যান্য: ইস্পাত শিল্পে প্রচুর জল, বিদ্যুৎ, সস্তা শ্রমিক, মূলধন, পরিবহন ব্যবস্থা ও বাজারের প্রয়োজন হয়।
3.10 উপগ্রহ চিত্রের সুবিধা লেখো।
উত্তর: উপগ্রহ চিত্রের প্রধান সুবিধাগুলি হল –
i. এর মাধ্যমে একসাথে বিশাল অঞ্চলের ছবি পাওয়া যায়।
ii. এটি নিয়মিত আপডেট পাওয়া যায়, যেমন প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে নতুন ছবি তোলা হয়।
iii. এটি ডিজিটাল আকারে পাওয়া যায়, তাই কম্পিউটারে সহজে বিশ্লেষণ করা যায় এবং GIS-এ ব্যবহার করা যায়।
iv. দুর্গম অঞ্চল যেমন হিমালয়, মরুভূমি ও ঘন বনভূমি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
v. আবহাওয়া, বন্যা, খরা, দাবানল ও দূষণ পর্যবেক্ষণে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
vi. এটি দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে সস্তায় তথ্য সরবরাহ করে। তবে এর অসুবিধা হল মেঘ থাকলে ছবি অস্পষ্ট হয় এবং বিশ্লেষণের জন্য দামি যন্ত্র ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হয়।
3.11 জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ লেখো।
উত্তর: ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলি হল –
i. উচ্চ জন্মহার ও নিম্ন মৃত্যুহার: ভারতে জন্মহার এখনও বেশি প্রায় প্রতি হাজারে 19 জন এবং মৃত্যুহার কম প্রায় প্রতি হাজারে 6 জন। উন্নত চিকিৎসা, টিকাকরণ ও পুষ্টির উন্নতির ফলে মৃত্যুহার কমেছে।
ii. সামাজিক কারণ: বাল্যবিবাহ, নিরক্ষরতা, ধর্মীয় কুসংস্কার এবং বেশি সন্তান হলে আয় বেশি হবে এই ধারণা।
iii. দারিদ্র্য: দরিদ্র পরিবারে সন্তানকে শ্রমিক হিসাবে দেখা হয়, তাই বেশি সন্তান নেওয়ার প্রবণতা থাকে।
iv. অভিবাসন: বাংলাদেশ ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রচুর মানুষ ভারতে আসায় জনসংখ্যা বাড়ছে।
v. পরিবার পরিকল্পনার অভাব: পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষা জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-8 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-7/2 » NIRYAS.IN