NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Geography Model Answers-7/2

Madhyamik Geography Model Answers-7

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-7) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Geography Model Answers-7

Madhyamik Geograpy Model Answers
Madhyamik Geograpy Model Answers

Geography (ভূগোল)

(Part-2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)

4.1 সমুদ্রের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্র সহ আলোচনা করো।
উত্তর: সমুদ্রতরঙ্গ, সমুদ্রস্রোত, জোয়ার-ভাটার জলীয় চাপ ও ঘর্ষণের ফলে উপকূলে ক্ষয় হয়।
i. সমুদ্র ভৃগু বা ক্লিফ: সমুদ্রতরঙ্গের ক্রমাগত ধাক্কায় উপকূলের শিলা ক্ষয়ে খাড়া পাড় তৈরি হয়, তাকে ক্লিফ বলে। যেমন বিশাখাপত্তনমের ক্লিফ।
ii. সমুদ্র গুহা: ক্লিফের নরম শিলা অংশে ফাটল বরাবর বায়ুর চাপে ও জলের ঘর্ষণে গুহা তৈরি হয়।
iii. আর্চ ও স্ট্যাক: দুই দিক থেকে দুটি গুহা মিলিত হয়ে সমুদ্র খিলান বা আর্চ তৈরি হয়। যেমন গোয়ার আর্চ। আর্চের ছাদ ভেঙে পড়লে সমুদ্রে বিচ্ছিন্ন স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে স্ট্যাক বলে।
iv. তরঙ্গ কর্তিত মঞ্চ বা Wave-cut Platform: ক্লিফের পাদদেশে ক্ষয় হয়ে সমতল পাথুরে মঞ্চ তৈরি হয়, যা ভাটার সময় দেখা যায় এবং জোয়ারে ডুবে যায়।
ক্ষয়ের পর্যায়টি হল – ক্লিফ > গুহা > আর্চ > স্ট্যাক > তরঙ্গ কর্তিত মঞ্চ।

4.2 বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা হ্রাসের কারণগুলি লেখো।
উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে উষ্ণতা কমে। প্রতি 1000 মিটারে 6.5°C হারে উষ্ণতা কমাকে নরমাল ল্যাপস রেট বলে।
কারণগুলি হল –
i. উচ্চতা বৃদ্ধি: উপরের দিকে বায়ু পাতলা হয়ে যায়, ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড কম থাকে, তাই তাপ ধরে রাখতে পারে না।
ii. ভূমি থেকে দূরত্ব: বায়ুমণ্ডল সরাসরি সূর্য থেকে গরম হয় না, ভূমি থেকে বিকিরিত তাপে পরোক্ষভাবে গরম হয়। তাই ভূমি থেকে দূরে গেলে উষ্ণতা কমে।
iii. বিকিরণ: উপরের স্তরে বিকিরণ বেশি হয়, তাপ দ্রুত মহাকাশে ফিরে যায়।
iv. চাপ কমে যাওয়া: উপরে বায়ুর চাপ কম, তাই বায়ু প্রসারিত হয় এবং প্রসারিত হলে বায়ু ঠান্ডা হয়। তাই এভারেস্টের চূড়া ঠান্ডা।

4.3 ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:
i. মৌসুমী জলবায়ু: ঋতুভেদে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়। গ্রীষ্মে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সমুদ্র থেকে স্থলে এবং শীতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু স্থল থেকে সমুদ্রে প্রবাহিত হয়।
ii. বৈচিত্র্যময় জলবায়ু: ভারতে জলবায়ুর প্রচুর বৈচিত্র্য। রাজস্থানের মরুতে তাপমাত্রা 50°C এবং লাদাখে -40°C। মেঘালয়ের মৌসিনরামে 1187 সেমি বৃষ্টি এবং রাজস্থানে 10 সেমি বৃষ্টি হয়।
iii. অনিশ্চিত প্রকৃতি: মৌসুমী বৃষ্টি অনিশ্চিত, ফলে কখনও খরা এবং কখনও বন্যা হয়।
iv. চারটি ঋতু: ভারতে চারটি ঋতু স্পষ্ট – গ্রীষ্মকাল মার্চ থেকে মে, বর্ষাকাল জুন থেকে সেপ্টেম্বর, এখানে 75% বৃষ্টি হয়, শরৎকাল অক্টোবর থেকে নভেম্বর এবং শীতকাল ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।
v. প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের প্রভাব: হিমালয়, মরুভূমি, সমভূমি, উপকূল ও মালভূমির জন্য ভারতের এক এক অঞ্চলে এক এক রকম জলবায়ু দেখা যায়।

4.4 ভারতের মৃত্তিকার সমস্যা ও সংরক্ষণ লেখো।
উত্তর:
সমস্যা:
i. মাটি ক্ষয়: বৃষ্টির জলে, বায়ুতে ও নদীতে প্রতি বছর ভারতে প্রায় 5 বিলিয়ন টন মাটি ক্ষয়ে যায়।
ii. লবণাক্ততা ও ক্ষারকীয়তা: অতিরিক্ত সেচের ফলে জমিতে লবণ জমে রেহ ও কল্লর মাটি তৈরি হয়, বিশেষ করে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানে।
iii. মরু সম্প্রসারণ: রাজস্থানে থর মরুভূমি পূর্ব দিকে বাড়ছে।
iv. অম্লতা: বেশি বৃষ্টির অঞ্চলে ল্যাটেরাইট মাটি অম্ল হয়ে যায়।
v. উর্বরতা হ্রাস: অতিরিক্ত চাষ, রাসায়নিক সার ব্যবহার ও জৈব পদার্থ কমে যাওয়ায় উর্বরতা কমছে।
vi. জলাবদ্ধতা: বন্যায় জমিতে জল জমে ফসল নষ্ট হয়।

সংরক্ষণ পদ্ধতি:
i. বনসৃজন ও সামাজিক বনসৃজন করা।
ii. পাহাড়ে ধাপ চাষ, ফালি চাষ ও সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ করা।
iii. ছোট ছোট বাঁধ ও Check Dam তৈরি করা।
iv. জৈব সার ব্যবহার ও ফসল আবর্তন করা।
v. অতিরিক্ত পশুচারণ ও ঝুম চাষ বন্ধ করা।
vi. কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা ও আইন প্রণয়ন করা।

Madhyamik Geography Model Answers-7

4.5 ভারতে ধান ও গম চাষের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় ধান গম
মরসুম ও জলবায়ু খরিফ শস্য, 20°-30°C তাপমাত্রা, 100-200 সেমি বৃষ্টি, জমিতে জল জমে থাকা দরকার। রবি শস্য, বোনার সময় 10°-15°C ও পাকার সময় 20°-25°C, 50-100 সেমি বৃষ্টি, শুষ্ক আবহাওয়া দরকার।
মাটি পলি ও দোআঁশ মাটি, জল ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি। উর্বর দোআঁশ ও কৃষ্ণ মাটি, জল নিকাশি ভালো, সেচ দরকার।
বন্টন পশ্চিমবঙ্গ প্রথম, এছাড়া উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ। উত্তরপ্রদেশ প্রথম, এছাড়া পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ।
ব্যবহার ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য, প্রায় 50% মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য, উত্তর ভারতের প্রধান খাদ্য রুটি।

4.6 ভারতে ইক্ষু ও কার্পাস চাষের তুলনা করো।
উত্তর:
বিষয় ইক্ষু বা আখ কার্পাস বা তুলো
জলবায়ু 20°-30°C তাপমাত্রা, 100-150 সেমি বৃষ্টি, প্রচুর রোদ, 1 বছর সময় লাগে। 20°-30°C তাপমাত্রা, 50-100 সেমি বৃষ্টি, তুষারমুক্ত 200 দিন, প্রচুর রোদ।
মাটি উর্বর দোআঁশ, পলি, কৃষ্ণ মাটি, চুনযুক্ত, জল নিকাশি ভালো। কৃষ্ণ মাটি বা রেগুর মাটি আদর্শ, দোআঁশ, জল নিকাশি ভালো।
বন্টন উত্তরপ্রদেশ 45% উৎপাদন করে, এছাড়া মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তেলেঙ্গানা বেশি উৎপাদন করে।
সমস্যা ফলন কম, রোগ, চিনিকলের বকেয়া টাকা না পাওয়া। ফলন কম, পোকা লাগা, কৃত্রিম তন্তুর সাথে প্রতিযোগিতা।

4.7 ভারতে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ লেখো।
উত্তর: ভারতে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ –
1928 সালে মুম্বাইতে প্রথম কারখানা স্থাপিত হয়। 1947 সালে হিন্দুস্তান মোটরস অ্যাম্বাসেডর গাড়ি তৈরি শুরু করে। 1983 সালে গুরুগ্রামে মারুতি-সুজুকি যৌথ উদ্যোগে ছোট গাড়ি তৈরি শুরু হওয়ার পর এই শিল্পে বিপ্লব আসে।
বর্তমানে প্রধান কেন্দ্রগুলি হল –
– চেন্নাই – হুন্ডাই, ফোর্ড, BMW – তাই চেন্নাইকে ভারতের ডেট্রয়েট বলা হয়।
– পুনে – টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা, Bajaj
– গুরুগ্রাম – মারুতি সুজুকি
– জামশেদপুর – টাটা ট্রাক এবং সানন্দ – টাটা ন্যানো।
বিকাশের কারণ: i. দক্ষ ও সস্তা শ্রমিক, ii. লৌহ-ইস্পাতের সহজলভ্যতা ও বিশাল বাজার, iii. সরকারি উদার নীতি ও বিদেশি বিনিয়োগ, iv. রাস্তা ও সোনালী চতুর্ভুজের উন্নতি।
সমস্যা: বায়ু দূষণ, যানজট ও বিদেশি কোম্পানির সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা।

4.8 জনবসতি গড়ে ওঠার কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: জনবসতি গড়ে ওঠার কারণগুলি হল –
i. প্রাকৃতিক কারণ: সমতল ভূমি, উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত জল ও অনুকূল জলবায়ু থাকলে ঘনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন গাঙ্গেয় সমভূমি ঘনবসতি। মরুভূমি, পাহাড় ও ঘন বন অঞ্চলে জনবসতি বিরল।
ii. অর্থনৈতিক কারণ: যেখানে চাকরি, শিল্প, ব্যবসা, বাজার ও খনিজের সুবিধা বেশি, সেখানে জনবসতি ঘন হয়। যেমন মুম্বাই, কলকাতা, জামশেদপুর।
iii. সামাজিক কারণ: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানকে কেন্দ্র করে জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন বারাণসী, অমৃতসর।
iv. রাজনৈতিক কারণ: রাজধানী, প্রশাসনিক কেন্দ্র ও প্রতিরক্ষার কারণে জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন দিল্লি, ভোপাল।
v. পরিবহন ও যোগাযোগ: রাস্তা, রেল, বন্দর ও বিমানবন্দরের কাছে জনবসতি ঘন হয়। যেমন হাওড়া স্টেশনের কাছে ঘনবসতি।

Madhyamik Geography Model Answers-7

বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)

5.1 নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির চিত্র সহ বর্ণনা করো।
উত্তর:
ক্ষয় কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ:
i. V-আকৃতি উপত্যকা: উচ্চগতিতে নদী নিচের দিকে ক্ষয় করে V তৈরি করে।
ii. গিরিখাত, ক্যানিয়ন: V উপত্যকা গভীর ও খাড়া হলে গিরিখাত, আরও গভীর হলে ক্যানিয়ন, যেমন সিন্ধুর গিরিখাত ও আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।
iii. জলপ্রপাত: কঠিন ও নরম শিলায় নরম শিলা বেশি ক্ষয়ে জলপ্রপাত তৈরি হয়, যেমন কর্ণাটকের যোগ জলপ্রপাত ও ঝাড়খণ্ডের হুড্রু।
iv. মন্থকূপ: নদীর তলদেশে পাথর ঘুরে ঘুরে গোল গর্ত তৈরি করে।
v. মিয়েন্ডার ও কর্তিত স্পার: পাহাড়ে নদী এঁকেবেঁকে চললে পাহাড়ের স্পার কেটে যায়।

সঞ্চয় কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ:
i. পলল শঙ্কু: পর্বতের পাদদেশে নদী পলি ফেলে শঙ্কু আকারে পলি জমা করে।
ii. প্লাবনভূমি: বর্ষায় নদী দুই কূল ছাপিয়ে পলি ফেলে যে উর্বর সমভূমি তৈরি করে।
iii. প্রাকৃতিক বাঁধ বা লেভি: প্লাবনভূমির দুই পাশে পলি জমে উঁচু বাঁধ তৈরি হয়।
iv. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: মিয়েন্ডার কেটে নদী সোজা হলে পুরনো বাঁক হ্রদে পরিণত হয়।
v. ব-দ্বীপ: মোহনায় নদী ভাগ হয়ে ত্রিকোণাকার ব-দ্বীপ তৈরি করে, যেমন সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ।

5.2 বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ, প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় আলোচনা করো।
উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়ন মানে গ্রীনহাউস গ্যাস বেড়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়া। গত 100 বছরে 1°C বেড়েছে, 2100 সালে 2°-4°C বাড়বে।
কারণ: গ্রীনহাউস গ্যাস CO2, মিথেন, CFC, N2O বেড়ে যাওয়া।
i. জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো – কলকারখানা, গাড়ি, বিদ্যুৎকেন্দ্র।
ii. বন কাটা, ফলে CO2 শোষণ কমে যায়।
iii. জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও নগরায়ণ।
iv. ধান ক্ষেত ও গবাদি পশু থেকে মিথেন নির্গত হয়।
v. ফ্রিজ ও AC থেকে CFC নির্গত হয়।
প্রভাব: i. মেরুর বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর 1 মিটার বাড়লে সুন্দরবন, মুম্বাই, কলকাতা, মালদ্বীপ ও নেদারল্যান্ডস ডুবে যাবে। ii. জলবায়ু পরিবর্তন – খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও এল-নিনো বাড়বে। iii. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ফসল নষ্ট ও রোগ বাড়বে, যেমন ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু। iv. খাদ্য সংকট।
প্রতিরোধ: i. বনসৃজন। ii. নবীকরণযোগ্য শক্তি যেমন সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুতের ব্যবহার। iii. গণপরিবহন ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়। iv. CFC ও মিথেন কমানো। v. কিয়োটো প্রোটোকল ও প্যারিস চুক্তি মেনে চলা। vi. সচেতনতা বৃদ্ধি। vii. জৈব কৃষি।

5.3 ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগগুলির বর্ণনা দাও ও গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: ভারতকে 5টি ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা যায় –
i. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল: হিমালয়, 2400 কিমি দীর্ঘ, তিনটি সমান্তরাল শ্রেণি – বৃহৎ হিমালয় 6000 মি, হিমবাহ যুক্ত, মধ্য হিমালয় 3700 মি, শৈলশহর যুক্ত এবং শিবালিক 1200 মি, দুন উপত্যকা যুক্ত। গুরুত্ব – জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, নদীর উৎস, বন, জলবিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষা ও পর্যটন।
ii. উত্তরের সমভূমি: সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি, 7 লক্ষ বর্গ কিমি, পলি দ্বারা গঠিত, উর্বর, ঘনবসতি, ভাবর, তরাই, খাদর ও ভাঙ্গর আছে। গুরুত্ব – কৃষি, শিল্প, জনবসতি ও সভ্যতার কেন্দ্র।
iii. উপদ্বীপীয় মালভূমি: দাক্ষিণাত্য, ছোটনাগপুর, মালব, বুন্দেলখণ্ড, প্রাচীন গন্ডোয়ানা শিলা, খনিজ যেমন লোহা, কয়লা, কৃষ্ণ মাটি এবং গোদাবরী, কৃষ্ণা নদী। গুরুত্ব – খনিজ, শিল্প, জলবিদ্যুৎ ও কৃষি।
iv. উপকূলীয় সমভূমি: পূর্ব উপকূল চওড়া, ব-দ্বীপ ও উর্বর এবং পশ্চিম উপকূল সরু, খাঁড়ি ও বন্দর যুক্ত। গুরুত্ব – বন্দর, বাণিজ্য, মৎস্য, কৃষি ও পর্যটন।
v. দ্বীপপুঞ্জ: আন্দামান-নিকোবর আগ্নেয়গিরি দ্বীপ যেমন ব্যারেন এবং লাক্ষাদ্বীপ প্রবাল দ্বীপ। গুরুত্ব – প্রতিরক্ষা, পর্যটন, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য।

5.4 ভারতে চা চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন, সমস্যা ও সমাধান আলোচনা করো।
উত্তর: চা একটি বাগিচা ফসল, ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক।
অনুকূল পরিবেশ: i. জলবায়ু – 20°-30°C তাপমাত্রা, 150-200 সেমি বৃষ্টি, প্রচুর রোদ, কুয়াশা, ঢালু, তুষারমুক্ত, 1000-2000 মি উচ্চতা। ii. মাটি – অম্লযুক্ত, লৌহযুক্ত দোআঁশ, জৈব বেশি, জল নিকাশি ভালো। iii. জমি – পাহাড়ের ঢালে, জল জমে না। iv. শ্রমিক – কচি পাতা তোলার জন্য দক্ষ নারী শ্রমিক, সস্তা।
বন্টন: আসাম 50% – ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ডিব্রুগড়, যোরহাট, পশ্চিমবঙ্গ – দার্জিলিং সুগন্ধি চা বিশ্ব বিখ্যাত, জলপাইগুড়ি, তামিলনাড়ু – নীলগিরি, কেরল – মুন্নার। দুই প্রকার – কালো ও সবুজ চা।
সমস্যা: i. পুরনো গাছ, কম ফলন, ii. শ্রমিক অসন্তোষ, কম মজুরি, iii. কৃত্রিম পানীয়ের প্রতিযোগিতা, রপ্তানি কম, iv. জলবায়ু পরিবর্তন, পোকা।
সমাধান: i. নতুন ক্লোন গাছ লাগানো, ii. শ্রমিক কল্যাণ ও মজুরি বাড়ানো, iii. জৈব চা, ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি বৃদ্ধি, iv. সরকারি ভর্তুকি, v. আধুনিক যন্ত্র।

Madhyamik Geography Model Answers-7

5.5 ভারতের জনসংখ্যার বন্টন ও বৃদ্ধির কারণ আলোচনা করো। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উপায় লেখো।
উত্তর:
বন্টন: ভারতে জনসংখ্যা অসম –
i. ঘনবসতি: গাঙ্গেয় সমভূমি ও উপকূল – বিহার 1106, পশ্চিমবঙ্গ 1029, কেরল 860 জন/বর্গ কিমি – উর্বর মাটি, জল, সমতল, শিল্প ও বন্দর।
ii. জনবিরল: হিমালয়, থর মরু, উত্তর-পূর্ব – অরুণাচল 17, মিজোরাম 52, সিকিম 86 জন – পাহাড়, মরু, বন, কম সমতল।
কারণ: প্রাকৃতিক – ভূপ্রকৃতি, মাটি, জলবায়ু, জল; অর্থনৈতিক – শিল্প, বাজার, চাকরি, পরিবহন; সামাজিক – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্ম; রাজনৈতিক – রাজধানী।
বৃদ্ধির কারণ: i. জন্মহার বেশি 19/1000, মৃত্যুহার কম 6/1000 – চিকিৎসা, টিকা, পুষ্টি উন্নতিতে মৃত্যুহার কমেছে। ii. বাল্যবিবাহ, নিরক্ষরতা, ধর্মীয় কুসংস্কার, পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষা। iii. দারিদ্র্য – সন্তান শ্রমিক। iv. অভিবাসন। ভারতে 1951-1981 সালে জনবিস্ফোরণ ঘটে।
নিয়ন্ত্রণের উপায়: i. পরিবার পরিকল্পনা – ‘হম দো হমারে দো’, ii. নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধ, iii. সচেতনতা – টিভি, রেডিও, আশা কর্মী, iv. গর্ভনিরোধক ও नसबंदी, v. অর্থনৈতিক উন্নতি, কর্মসংস্থান, vi. কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্য বীমা, vii. জনসংখ্যা নীতি 2000।

5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত – লিখিত বর্ণনা
উত্তর: খাতায় যেভাবে আঁকবে –
[A] গারো পাহাড়: মেঘালয়ে, শিলং মালভূমির পশ্চিমে অবস্থিত। গারো উপজাতি এখানে বাস করে, নকরেক জাতীয় উদ্যান এখানে, উচ্চতা 600-1400 মিটার, ঘন বন। মানচিত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতে চিহ্নিত করবে।
[B] চিল্কা হ্রদ: ওড়িশায় অবস্থিত ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ বা লেগুন, আয়তন 1100 বর্গ কিমি, বঙ্গোপসাগর থেকে বালিয়াড়ি দ্বারা বিচ্ছিন্ন, লবণাক্ত, পরিযায়ী পাখি আসে, রামসার সাইট এবং চিংড়ি চাষ হয়। মানচিত্রে পূর্ব উপকূলে চিহ্নিত করবে।
[C] তাপ্তি নদী: মধ্যপ্রদেশের সাতপুরা থেকে উৎপত্তি, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্য দিয়ে 720 কিমি পশ্চিমে আরব সাগরে পড়েছে। সুরাট শহর এর তীরে, রিফ্ট উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত, ব-দ্বীপ নেই। মানচিত্রে মধ্য ভারতে আঁকবে।
[D] একটি লাল মাটি অঞ্চল – তামিলনাড়ু: তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, ছোটনাগপুর ও ওড়িশায় লাল মাটি দেখা যায়, লোহা বেশি থাকায় লাল রঙ, কম উর্বর, রাগি, বাদাম ও আলু চাষ হয়। মানচিত্রে দক্ষিণ ভারতে লাল রঙে দেখাবে।
[E] একটি গম উৎপাদক অঞ্চল – পাঞ্জাব: পাঞ্জাবে গমের ফলন সবচেয়ে বেশি 4 টন/হেক্টর, লুধিয়ানা ও পাতিয়ালায়, উর্বর দোআঁশ, সেচ ভাকরা-নাঙ্গাল থেকে এবং সবুজ বিপ্লবের কেন্দ্র। মানচিত্রে উত্তর-পশ্চিম ভারতে চিহ্নিত করবে।
[F] চেন্নাই বন্দর: তামিলনাড়ুতে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত কৃত্রিম পোতাশ্রয়, ভারতের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বন্দর, গাড়ি, লৌহ আকরিক ও চা রপ্তানি হয়।
[G] একটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য অঞ্চল – আন্দামান: আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ম্যানগ্রোভ বন আছে, লবণাম্বু উদ্ভিদ যেমন সুন্দরী ও গরান, এদের শ্বাসমূল আছে, জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ, কুমির ও সাপ দেখা যায়।   ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading