NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Geography Model Answers-8

Madhyamik Geography Model Answers-8

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-8) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Geography Model Answers-8

Madhyamik Geograpy Model Answers
Madhyamik Geograpy Model Answers

Geography (ভূগোল)

⟽ Previous set

বিভাগ – ক: MCQ – ব্যাখ্যা সহ

1.1 নদীর বাঁকের ভেতরের দিকে –
[A] সঞ্চয় হয় ✓ [B] ক্ষয় হয়
[C] ক্ষয় ও সঞ্চয় উভয়ই হয় [D] কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা: নদী বাঁকে বাইরের দিকে গতি বেশি তাই ক্ষয়, ভেতরের দিকে গতি কম তাই বালি সঞ্চয় হয়ে পয়েন্ট বার গঠিত হয়।

1.2 করি বা সার্ক সৃষ্টি হয় –
[A] হিমবাহের ক্ষয়কার্যে ✓ [B] নদীর ক্ষয়কার্যে
[C] বায়ুর ক্ষয়কার্যে [D] সমুদ্রের ক্ষয়কার্যে
ব্যাখ্যা: উঁচু পর্বতে তুষার জমে হিমবাহ ক্ষয় করে হাতলওয়ালা চেয়ারের মতো গর্ত করে, একে করি বলে। এর মধ্যে জল জমে করি হ্রদ হয়।

1.3 ওজোন স্তর অবস্থান করে –
[A] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ✓ [B] ট্রপোস্ফিয়ারে
[C] মেসোস্ফিয়ারে [D] থার্মোস্ফিয়ারে
ব্যাখ্যা: 20-35 কিমি উচ্চতায় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে O3 গ্যাসের স্তর সূর্যের ক্ষতিকর UV রশ্মি শোষণ করে।

1.4 মৌসুমী বায়ুর শাখা কয়টি –
[A] 2 টি ✓ [B] 3 টি
[C] 4 টি [D] 1 টি
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর 2টি শাখা – আরব সাগরীয় শাখা (পশ্চিমঘাটে বৃষ্টি) ও বঙ্গোপসাগরীয় শাখা (পূর্ব ভারতে বৃষ্টি)।

1.5 ভারতের বৃহত্তম লেগুন বা উপহ্রদ –
[A] চিল্কা ✓ [B] পুলিকট
[C] ভেম্বানাদ [D] সম্বর
ব্যাখ্যা: চিল্কা 1165 বর্গ কিমি, ওড়িশায় অবস্থিত, বৃহত্তম লেগুন। ভেম্বানাদ কেরলে বৃহত্তম কয়াল।

1.6 কাবেরী নদীকে বলা হয় –
[A] দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা ✓ [B] বাংলার দুঃখ
[C] বিহারের দুঃখ [D] দাক্ষিণাত্যের গঙ্গা
ব্যাখ্যা: কাবেরী দক্ষিণ ভারতে পবিত্র ও উর্বর, সারাবছর জল থাকে তাই দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বলে। গোদাবরীকেও দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বলে, কিন্তু কাবেরী বেশি প্রচলিত।

1.7 রেগুর বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা বেশি দেখা যায় –
[A] মহারাষ্ট্রে ✓ [B] পশ্চিমবঙ্গে
[C] রাজস্থানে [D] কেরলে
ব্যাখ্যা: মহারাষ্ট্রের দাক্ষিণাত্য ব্যাসল্ট শিলা অঞ্চলে কৃষ্ণ মাটি বেশি, তুলা চাষের জন্য বিখ্যাত।

1.8 ভারতে আখ উৎপাদনে প্রথম রাজ্য –
[A] উত্তরপ্রদেশ ✓ [B] মহারাষ্ট্র
[C] পাঞ্জাব [D] তামিলনাড়ু
ব্যাখ্যা: UP মোট উৎপাদনে প্রথম, কিন্তু হেক্টর প্রতি ফলনে তামিলনাড়ু প্রথম।

1.9 ভারতের রূঢ় বলা হয় –
[A] দুর্গাপুরকে ✓ [B] জামশেদপুরকে
[C] ভিলাইকে [D] আসানসোলকে
ব্যাখ্যা: জার্মানির রূঢ় অঞ্চলের মতো দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলে কয়লা-ইস্পাত শিল্প বেশি তাই ভারতের রূঢ় বলে।

1.10 ভারতের বৃহত্তম তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা –
[A] TCS ✓ [B] Infosys
[C] Wipro [D] HCL
ব্যাখ্যা: Tata Consultancy Services (TCS) রাজস্ব ও কর্মী সংখ্যায় ভারতের বৃহত্তম IT কোম্পানি।

1.11 উপগ্রহ চিত্রে বনভূমিকে দেখানো হয় –
[A] লাল রঙে ✓ [B] নীল রঙে
[C] সবুজ রঙে [D] কালো রঙে
ব্যাখ্যা: False Colour Composite এ ঘন বন গাঢ় লাল, হালকা বন হালকা লাল দেখায়।

1.12 ভারতের ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা –
[A] Survey of India, দেরাদুন ✓ [B] ISRO
[C] NASA [D] NATMO
ব্যাখ্যা: SOI 1767 সালে প্রতিষ্ঠিত, সদর দপ্তর দেরাদুন, টপোশিট তৈরি করে।

1.13 উর্বর প্লাবন সমভূমিতে গড়ে ওঠে –
[A] পুঞ্জীভূত জনবসতি ✓ [B] বিক্ষিপ্ত জনবসতি
[C] রৈখিক জনবসতি [D] বৃত্তাকার জনবসতি
ব্যাখ্যা: উর্বর সমতলে কৃষি ভালো হয়, জল সহজলভ্য, তাই ঘন পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে।

1.14 2011 আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যা –
[A] 121.08 কোটি ✓ [B] 102 কোটি
[C] 130 কোটি [D] 140 কোটি
ব্যাখ্যা: 2011 এ 121.08 কোটি, 2001 এ 102 কোটি ছিল। 2025 এ প্রায় 144 কোটি।

Madhyamik Geography Model Answers-8

বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×16=16)

2.1 স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের জনক কে?
উত্তর: স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের জনক হলেন মার্কিন ভূবিজ্ঞানী উইলিয়াম মরিস ডেভিস। তিনি 1899 সালে স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের ধারণা দেন এবং ক্ষয়চক্রকে যৌবন, পরিণত ও বার্ধক্য এই তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেন।

2.2 জলপ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা পাশাপাশি অবস্থান করলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খাড়া ঢালের সৃষ্টি হয় এবং নদীর জল উপর থেকে নিচে প্রবল বেগে পড়ে জলপ্রপাতের সৃষ্টি করে। যেমন কর্ণাটকের যোগ জলপ্রপাত এবং ঝাড়খণ্ডের হুড্রু জলপ্রপাত।

2.3 হিমশৈল কী?
উত্তর: সমুদ্রের উপকূলে হিমবাহের শেষ প্রান্ত থেকে ভেঙে সমুদ্রে ভাসমান বিশাল বরফের স্তূপকে হিমশৈল বা আইসবার্গ বলে। এর প্রায় 90 শতাংশ অংশ জলের নিচে নিমজ্জিত থাকে। বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ হিমশৈলের ধাক্কায় ডুবে গিয়েছিল।

2.4 বায়ুচাপ বলয় কয়টি ও কী কী?
উত্তর: পৃথিবীতে বায়ুচাপ বলয় মোট 7টি। যথা ১) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় 0 ডিগ্রিতে, ২) কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় 30 ডিগ্রি উত্তরে, ৩) মকরীয় উচ্চচাপ বলয় 30 ডিগ্রি দক্ষিণে, ৪) সুমেরু বৃত্তীয় নিম্নচাপ বলয় 60 ডিগ্রি উত্তরে, ৫) কুমেরু বৃত্তীয় নিম্নচাপ বলয় 60 ডিগ্রি দক্ষিণে, ৬) সুমেরু উচ্চচাপ বলয় 90 ডিগ্রি উত্তরে এবং ৭) কুমেরু উচ্চচাপ বলয় 90 ডিগ্রি দক্ষিণে অবস্থিত।

2.5 আম্রবৃষ্টি কী?
উত্তর: দক্ষিণ ভারতে বিশেষ করে কেরল ও কর্ণাটকে গ্রীষ্মকালে এপ্রিল-মে মাসে আম পাকার সময় যে বৃষ্টিপাত হয়, তাকে আম্রবৃষ্টি বা ম্যাংগো শাওয়ার বলে। এই বৃষ্টি আম এবং কফি চাষের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।

2.6 দোয়াব কাকে বলে?
উত্তর: দুটি নদীর মধ্যবর্তী উর্বর পলল গঠিত অঞ্চলকে দোয়াব বলে। এটি একটি ফারসি শব্দ, যেখানে দো শব্দের অর্থ দুই এবং আব শব্দের অর্থ জল। যেমন গঙ্গা-যমুনা দোয়াব এবং সিন্ধু ও তার পাঁচটি উপনদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল পাঞ্জাব হল দোয়াবের উদাহরণ।

2.7 ভারতের দুটি অর্থকরী ফসলের নাম লেখো।
উত্তর: ভারতের দুটি প্রধান অর্থকরী ফসল হল তুলো ও পাট। এছাড়া চা, কফি, আখ, তামাক ও তৈলবীজও অর্থকরী ফসল, কারণ এই ফসলগুলি বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা যায়।

2.8 ভারতের মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ কৃষিতে নিযুক্ত?
উত্তর: ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় 55 থেকে 60 শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজে নিযুক্ত। যদিও ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদনে বা GDP-তে কৃষির অবদান প্রায় 18 শতাংশ।

2.9 ভারতে প্রথম সুতাকল কোথায় স্থাপিত হয়?
উত্তর: ভারতে প্রথম সুতাকল স্থাপিত হয় 1818 সালে কলকাতার কাছে ঘুষুড়িতে, কিন্তু তা সফল হয়নি। ভারতে প্রথম সফল সুতাকল স্থাপিত হয় 1854 সালে বোম্বেতে, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কাওয়াসজি ডাভর।

2.10 ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক কোনটি?
উত্তর: ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক হল NH 44, যা আগে NH 7 নামে পরিচিত ছিল। এটি জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় 3745 কিলোমিটার।

2.11 FCC ও TCC কী?
উত্তর: FCC-এর পুরো নাম হল False Colour Composite বা কৃত্রিম রঙের উপগ্রহ চিত্র। এতে উদ্ভিদকে লাল রঙে এবং জলকে নীল বা কালো রঙে দেখানো হয়, যা বনভূমি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়। TCC-এর পুরো নাম হল True Colour Composite বা প্রকৃত রঙের উপগ্রহ চিত্র, যেখানে ভূমিকে খালি চোখে যেমন দেখা যায় তেমন প্রকৃত রঙে দেখানো হয়, যেমন নীল আকাশ ও সবুজ বনভূমি।

2.12 সমোন্নতি রেখা কী?
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে সমান উচ্চতাবিশিষ্ট স্থানগুলিকে যুক্ত করে যে বাদামি রঙের বক্ররেখা আঁকা হয়, তাকে সমোন্নতি রেখা বা কন্ট্যুর বলে। মানচিত্রে ঘন সমোন্নতি রেখা খাড়া ঢাল, ফাঁকা রেখা মৃদু ঢাল, V আকৃতির রেখা নদী উপত্যকা এবং বৃত্তাকার রেখা পাহাড় বা টিলাকে নির্দেশ করে।

2.13 জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কী?
উত্তর: এক বছরে কোনো দেশের জনসংখ্যা শতকরা কত হারে বৃদ্ধি পায়, তাকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার = (জন্মহার – মৃত্যুহার + অভিবাসন) / 1000 x 100। বর্তমানে ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় 1.1 শতাংশ।

2.14 ভারতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা কত শতাংশ?
উত্তর: 2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতে 15 থেকে 59 বছর বয়সী কর্মক্ষম জনসংখ্যা হল মোট জনসংখ্যার প্রায় 63 শতাংশ। বাকি 37 শতাংশ হল অকর্মণ্য বা নির্ভরশীল জনসংখ্যা, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরা অন্তর্ভুক্ত।

2.15 ভারতের মাঝ দিয়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা বিস্তৃত?
উত্তর: ভারতের মাঝ দিয়ে বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখাটি হল কর্কটক্রান্তি রেখা, যা 23°30′ উত্তর অক্ষাংশ বরাবর বিস্তৃত। এটি ভারতের 8টি রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে। রাজ্যগুলি হল গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।

2.16 সুনামি কী?
উত্তর: সমুদ্রতলে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসের ফলে সমুদ্রে যে বিশাল 10 থেকে 30 মিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে, তাকে সুনামি বলে। এটি একটি জাপানি শব্দ, যেখানে সু শব্দের অর্থ বন্দর এবং নামি শব্দের অর্থ ঢেউ। 2004 সালে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় 2.3 লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

Madhyamik Geography Model Answers-8

বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×8=16)

3.1 নদীর জলপ্রবাহ পরিমাপের সূত্রটি লেখো।
উত্তর: নদীর জলপ্রবাহ পরিমাপের প্রধান সূত্রটি হল –
জলপ্রবাহ = প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল × বেগ
অর্থাৎ Q = A × V
এখানে Q = Discharge বা জলপ্রবাহ, যার একক ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড, A = নদীর প্রস্থ × গভীরতা অর্থাৎ প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল এবং V = জলপ্রবাহের বেগ।
এছাড়া নদীর বহন ক্ষমতা সম্পর্কিত ষষ্ঠঘাত সূত্রটি হল বহন ক্ষমতা = বেগ^6। অর্থাৎ বেগ দ্বিগুণ হলে বহন ক্ষমতা 64 গুণ বেড়ে যায়।

3.2 বার্খান ও রসে মতানের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় বার্খান রসে মতানে
উৎপত্তি ও অবস্থান বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে মরু অঞ্চলে সৃষ্ট অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি। হিমবাহের ক্ষয় কার্যের ফলে হিমবাহ অঞ্চলে সৃষ্ট ভেড়ার পিঠের মতো টিলা।
আকৃতি ও প্রকৃতি বায়ুপ্রবাহের দিকে উত্তল এবং বিপরীত দিকে অবতল। এর দুটি শিং থাকে যা বায়ুর দিকে বেরিয়ে থাকে। হিমবাহ প্রবাহের দিকে অর্থাৎ স্টস দিকে মসৃণ ও মৃদু ঢালু এবং বিপরীত দিকে অর্থাৎ লি দিকে খাড়া ও এবড়োখেবড়ো হয়।
3.3 মৌসুমী জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: মৌসুমী জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
i. ঋতুভেদে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়। গ্রীষ্মকালে বায়ু সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে এবং শীতকালে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়।
ii. মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় 75 শতাংশ বর্ষাকালে অর্থাৎ জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে হয়।
iii. এই জলবায়ুতে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত এই চারটি ঋতু স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
iv. বৃষ্টিপাত অত্যন্ত অনিশ্চিত। কখনও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা এবং কখনও কম বৃষ্টিতে খরা দেখা দেয়।
v. তাপমাত্রার বৈচিত্র্য বেশি। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা 40 ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে এবং শীতকালে 15 ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে।

3.4 মরু অঞ্চলে মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ লেখো।
উত্তর: মরু অঞ্চলে মৃত্তিকা ক্ষয়ের প্রধান কারণগুলি হল –
i. বায়ুর দ্বারা ক্ষয়: গাছপালা কম থাকায় প্রবল বায়ুপ্রবাহে বালি ও মাটি উড়ে যায়। রাজস্থানে বালিয়াড়ি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যায়।
ii. জলের দ্বারা ক্ষয়: হঠাৎ বৃষ্টিতে চাদর ক্ষয় বা Sheet Erosion হয়।
iii. লবণাক্ততা: অতিরিক্ত বাষ্পীভবনের ফলে মাটির উপরে লবণ জমে উসর মাটি সৃষ্টি হয়, ফলে উর্বরতা নষ্ট হয়।
iv. মানবীয় কারণ: অতিরিক্ত পশুচারণ, নির্বিচারে বন কাটা এবং ঝুম চাষের ফলে মাটি আলগা হয়ে যায়।
v. জৈব পদার্থের অভাব: মরু মাটিতে জৈব পদার্থ কম থাকায় মাটির গ্রথন দুর্বল হয় এবং উর্বরতা কমে যায়।

3.5 ভারতের দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ভারতে প্রধানত দুটি দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে –
i. আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ: এটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। এখানে মোট 572টি দ্বীপ রয়েছে। এখানে ব্যারেন দ্বীপে ভারতের একমাত্র জীবন্ত আগ্নেয়গিরি অবস্থিত। এখানে ঘন বনভূমি রয়েছে এবং ইন্দিরা পয়েন্ট হল ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু। প্রতিরক্ষা ও পর্যটনের ক্ষেত্রে এই দ্বীপপুঞ্জের গুরুত্ব অপরিসীম।
ii. লাক্ষাদ্বীপ: এটি আরব সাগরে অবস্থিত। এখানে মোট 36টি দ্বীপ রয়েছে। এই দ্বীপগুলি প্রবাল দ্বারা গঠিত। এখানে নারকেল চাষ, মৎস্য শিকার ও পর্যটন প্রধান অর্থনৈতিক কাজ।

3.6 উত্তর ভারতের নদী ও দক্ষিণ ভারতের নদীর পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় উত্তর ভারতের নদী দক্ষিণ ভারতের নদী
উৎপত্তি ও প্রকৃতি হিমালয় থেকে উৎপত্তি। হিমবাহ ও বৃষ্টির জলে পুষ্ট এবং নিত্যবহ নদী। মালভূমি থেকে উৎপত্তি। শুধুমাত্র বৃষ্টির জলে পুষ্ট, গ্রীষ্মে জল শুকিয়ে যায়।
দৈর্ঘ্য ও ব্যবহার দীর্ঘ নদী, যেমন গঙ্গা 2525 কিমি দীর্ঘ। নৌ-চলাচলের উপযোগী এবং বড় ব-দ্বীপ তৈরি করে। তুলনামূলকভাবে ছোট ও খরস্রোতা। গতিপথে অনেক জলপ্রপাত আছে এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে উপযোগী।
ভূমিরূপ বিশাল প্লাবনভূমি ও ব-দ্বীপ তৈরি করে। ব-দ্বীপ কম গঠন করে, বিশেষ করে পশ্চিমবাহী নদীগুলি খাঁড়ি বা মোহনা তৈরি করে।

3.7 শুষ্ক কৃষি ও আর্দ্র কৃষির পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় শুষ্ক কৃষি আর্দ্র কৃষি
বৃষ্টিপাত ও অবস্থান 75 সেন্টিমিটারের কম বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে সেচ ছাড়া যে চাষ হয়। যেমন রাজস্থান ও গুজরাটে। 100 সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে বা সেচের সাহায্যে যে চাষ হয়। যেমন পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে।
ফসল কম জলে হওয়া ফসল যেমন জোয়ার, বাজরা, রাগি ও বাদাম চাষ করা হয়। বেশি জলে হওয়া ফসল যেমন ধান, পাট, আখ ও চা চাষ করা হয়।
ফলন ও ঝুঁকি ফলন কম এবং খরা ও অনিশ্চিত বৃষ্টির কারণে ঝুঁকি বেশি। ফলন বেশি এবং ঝুঁকি কম।

Madhyamik Geography Model Answers-8

3.8 পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গম চাষ উন্নত কেন?
উত্তর: পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গম চাষ উন্নত হওয়ার কারণগুলি হল –
i. প্রাকৃতিক কারণ: এখানে উর্বর পলি ও দোআঁশ মাটি, সমতল জমি, 50 থেকে 100 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত এবং শীতকালে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার বৃষ্টি গম চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল।
ii. সেচের সুবিধা: ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ ও নলকূপের সাহায্যে এখানে প্রায় 95 শতাংশ জমিতে সেচের সুবিধা রয়েছে।
iii. সবুজ বিপ্লব: এখানে সবুজ বিপ্লব সফল হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল বীজ যেমন HD 2967, রাসায়নিক সার ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।
iv. অর্থনৈতিক কারণ: সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP দেয়, বাজার, ঋণ ও গুদামের ভালো ব্যবস্থা আছে।
v. শ্রমিক ও সরকারি সাহায্য: দক্ষ শ্রমিক ও সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়। তাই পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গমের ফলন হেক্টর প্রতি 4 টন, যেখানে ভারতে গড় ফলন 3 টন।

3.9 পূর্ব ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প কেন্দ্রীভবনের কারণ লেখো।
উত্তর: পূর্ব ভারতে অর্থাৎ ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে ভারতের প্রায় 90 শতাংশ লৌহ-ইস্পাত শিল্প কেন্দ্রীভূত হয়েছে। যেমন জামশেদপুর, বার্নপুর, দুর্গাপুর, বোকারো, রাউরকেলা ও ভিলাই। এর কারণগুলি হল –
i. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ ও কেন্দুঝরে লৌহ আকরিক, ঝরিয়ায় কয়লা, সুন্দরগড়ে চুনাপাথর ও ম্যাঙ্গানিজ একসাথে পাওয়া যায়।
ii. জলের যোগান: দামোদর ও সুবর্ণরেখা নদী থেকে প্রচুর জল পাওয়া যায়।
iii. শ্রমিক: এখানে সস্তা ও দক্ষ আদিবাসী শ্রমিক পাওয়া যায়।
iv. পরিবহন: হাওড়া-মুম্বাই রেলপথ এবং কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে পরিবহনের সুবিধা রয়েছে।
v. বিদ্যুৎ ও বাজার: DVC থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় এবং কাছাকাছি শিল্পাঞ্চলে বাজারও রয়েছে।

3.10 টপো মানচিত্রে স্কেলের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: স্কেল হল মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত। ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে স্কেলের গুরুত্ব হল –
i. স্কেলের সাহায্যে দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব, কোনো অঞ্চলের ক্ষেত্রফল ও নদীর দৈর্ঘ্য সঠিকভাবে মাপা যায়। যেমন 1:50000 স্কেলে মানচিত্রে 1 সেন্টিমিটার মানে ভূমিতে 500 মিটার।
ii. স্কেলের মাধ্যমে ভূমিরূপের আকার ও উচ্চতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।
iii. রাস্তা, বাঁধ ও সেচ প্রকল্পের পরিকল্পনা করার জন্য স্কেল অপরিহার্য।
স্কেল তিন প্রকার – বিবৃতিমূলক স্কেল যেমন 1 সেন্টিমিটারে 1 কিলোমিটার, ভগ্নাংশ সূচক স্কেল বা RF যেমন 1:50000 এবং রৈখিক বা গ্রাফিক স্কেল।

3.11 ভারতে জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর: বয়সের ভিত্তিতে ভারতের জনসংখ্যাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় –
i. শিশু জনসংখ্যা 0 থেকে 14 বছর: ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় 29 শতাংশ। এরা নির্ভরশীল জনসংখ্যা এবং এদের জন্য শিক্ষা ও পুষ্টির প্রয়োজন হয়।
ii. কর্মক্ষম জনসংখ্যা 15 থেকে 59 বছর: ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় 63 শতাংশ। এরা কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জনসংখ্যা। ভারতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি থাকায় একে Demographic Dividend বা জনসংখ্যার লভ্যাংশ বলা হয়।
iii. বৃদ্ধ জনসংখ্যা 60 বছরের বেশি: ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় 8 শতাংশ। এরাও নির্ভরশীল জনসংখ্যা এবং এদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পেনশনের প্রয়োজন হয়। শিশু ও বৃদ্ধ জনসংখ্যা বেশি হলে নির্ভরশীলতা বাড়ে এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি হলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত হয়।

—   ➣Read More


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

2 thoughts on “Madhyamik Geography Model Answers-8

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading