NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Geography Model Answers-8/2

Madhyamik Geography Model Answers-8

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-8) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Geography Model Answers-8

Madhyamik Geograpy Model Answers
Madhyamik Geograpy Model Answers

Geography (ভূগোল)

(Part-2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)

4.1 নদীর মধ্যগতিতে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির চিত্র সহ বর্ণনা করো।
উত্তর: মধ্যগতিতে ভূমির ঢাল কমে যায়, নদীর গতিবেগ কমে, ফলে ক্ষয় ও সঞ্চয় দুই সমানভাবে হয়। প্রধান ভূমিরূপগুলি হল –
i. মিয়েন্ডার বা নদীবাঁক: নদী সমভূমিতে এঁকেবেঁকে চলে। বাঁকের বাইরের দিকে স্রোত বেশি, তাই ক্ষয় হয়, একে ক্ষয়প্রাপ্ত তীর বলে। ভিতরের দিকে স্রোত কম, তাই পলি জমে চর বা Point Bar তৈরি হয়, একে সঞ্চয় তীর বলে।
ii. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: নদীর বাঁক খুব বেশি হলে দুটি বাঁক কাছাকাছি চলে আসে, বন্যার সময় নদী বাঁক কেটে সোজা হয়ে যায়। পুরনো বাঁক মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ তৈরি করে, একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
iii. প্লাবনভূমি: বর্ষাকালে নদী দুই কূল ছাপিয়ে বন্যার জল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতি বছর পলি জমিয়ে উর্বর সমতল সমভূমি তৈরি করে। যেমন গঙ্গার প্লাবনভূমি।
iv. প্রাকৃতিক বাঁধ বা লেভি: প্লাবনভূমির ঠিক নদীর দুই পাশে মোটা বালি ও পলি জমে উঁচু বাঁধের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়।
v. বিনুনি নদী ও চর: মধ্যগতিতে নদীর মাঝে বালি জমে চর তৈরি হয় এবং নদী অনেকগুলি শাখায় ভাগ হয়ে যায়, তখন তাকে বিনুনি নদী বলে।

4.2 বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর:
উপাদান: বায়ুমণ্ডল তিনটি উপাদান দিয়ে তৈরি –
i. গ্যাসীয় উপাদান: নাইট্রোজেন 78%, অক্সিজেন 21%, আর্গন 0.93%, কার্বন-ডাই-অক্সাইড 0.04%, ওজোন, হাইড্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাস।
ii. জলীয় বাষ্প: 0 থেকে 4% পর্যন্ত থাকে। জলীয় বাষ্প থেকে মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, শিশির হয় এবং বায়ুর আর্দ্রতা বোঝায়।
iii. ধূলিকণা: ধূলি, সমুদ্রের লবণ, ধোঁয়া ও ছাই। ধূলিকণা জলীয় বাষ্পকে ঘনীভূত হতে সাহায্য করে এবং সূর্যের আলো ছড়িয়ে আকাশকে নীল দেখায় ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্তে লাল দেখায়।

গুরুত্ব:
i. অক্সিজেন মানুষ ও প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য, নাইট্রোজেন উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির জন্য ও গ্রীনহাউস গ্যাস হিসাবে পৃথিবীকে গরম রাখার জন্য প্রয়োজন।
ii. ওজোন স্তর 20-35 কিমি উচ্চতায় সূর্যের ক্ষতিকর UV রশ্মি শোষণ করে জীবজগতকে রক্ষা করে।
iii. বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে কম্বলের মতো গরম রাখে এবং আবহাওয়া ও জলবায়ু ঘটায়।
iv. আয়নোস্ফিয়ার বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে যোগাযোগে সাহায্য করে এবং মেসোস্ফিয়ার উল্কা পুড়িয়ে দেয়।

4.3 ভারতে বৃষ্টিপাতের বন্টন ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর: ভারতে গড় বৃষ্টিপাত 118 সেমি, কিন্তু বন্টন অত্যন্ত অসম।

বন্টন:
i. বেশি বৃষ্টি 200 সেমির বেশি: পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢাল এবং উত্তর-পূর্ব ভারত – মেঘালয়, অসম, অরুণাচল। মৌসিনরামে 1187 সেমি বৃষ্টি হয়, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।
ii. মাঝারি বৃষ্টি 100-200 সেমি: গাঙ্গেয় সমভূমি, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা ও বিহার।
iii. কম বৃষ্টি 50-100 সেমি: দাক্ষিণাত্য মালভূমি, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা।
iv. খুব কম বৃষ্টি 50 সেমির কম: রাজস্থানের থর মরুভূমিতে মাত্র 10 সেমি, লাদাখ, কচ্ছ।

বৈশিষ্ট্য:
i. মোট বৃষ্টির 75% দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে হয়।
ii. বৃষ্টিপাত অত্যন্ত অনিশ্চিত, কখনও খরা এবং কখনও বন্যা হয়।
iii. পশ্চিমঘাটের পূর্ব ঢাল বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল, সেখানে বৃষ্টি কম।
iv. তামিলনাড়ুতে শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুতে বৃষ্টি হয়।
v. উত্তর-পশ্চিম ভারতে শীতকালে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বৃষ্টি হয়।

4.4 ভারতে অরণ্য ধ্বংসের কারণ ও ফলাফল লেখো।

উত্তর:
কারণ:
i. কৃষিজমি, বসতি, শিল্প, রাস্তা, বাঁধ ও খনির জন্য নির্বিচারে বন কাটা।
ii. অতিরিক্ত পশুচারণ ও ঝুম চাষ।
iii. দাবানল, চোরাশিকার ও কাঠ চুরি।
iv. জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য ও জ্বালানি কাঠের চাহিদা বৃদ্ধি।
v. কাগজ ও আসবাবপত্রের মতো শিল্পের কাঁচামালের জন্য বন কাটা।

ফলাফল:
i. মাটি ক্ষয়, বন্যা, খরা ও ভূমিধস বাড়ে।
ii. জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ে, বৃষ্টি কমে যায়।
iii. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়, বাঘ, হাতি, গন্ডার বিলুপ্তির পথে।
iv. আদিবাসীদের জীবিকা নষ্ট হয়, কাঠ, মধু, ফল কমে যায়।
v. বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাড়ে এবং অক্সিজেন কমে যায়। ভারতে 1951 সালে 22% বনভূমি ছিল, বর্তমানে তা 21.71%।

Madhyamik Geography Model Answers-8

4.5 ভারতে কার্পাস চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর: কার্পাস একটি ক্রান্তীয় ফসল, 200 দিন তুষারমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন।
i. জলবায়ু: 20°-30°C তাপমাত্রা, 50-100 সেমি বৃষ্টিপাত, প্রচুর রোদ ও তুষারমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন। ফুল ফোটার সময় শুষ্ক আবহাওয়া দরকার।
ii. মাটি: কৃষ্ণ মাটি বা রেগুর মাটি কার্পাস চাষের জন্য আদর্শ। এটি লোহা সমৃদ্ধ, জল ধরে রাখতে পারে এবং জল নিকাশি ভালো। দোআঁশ মাটিতেও চাষ হয়।
iii. জমি: সমতল জমি প্রয়োজন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় সেচের মাধ্যমে তুলো চাষ হয়।
iv. শ্রমিক ও অন্যান্য: তুলো তোলার জন্য সস্তা শ্রমিক, কীটনাশক ও সার প্রয়োজন।
v. বাজার: কার্পাস বয়ন শিল্পের কাছে চাষ ভালো হয়, যেমন মুম্বাই, আহমেদাবাদ।

বন্টন: মহারাষ্ট্র 25% উৎপাদন করে, এছাড়া গুজরাট, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব। ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তুলো উৎপাদক।

4.6 ভারতে চিনি শিল্পের সমস্যা ও সমাধান লেখো।
উত্তর:
সমস্যা:
i. কাঁচা আখের অভাব, ফলন কম। ভারতে 70 টন/হেক্টর, অস্ট্রেলিয়ায় 100 টন/হেক্টর। রোগ ও পোকা লাগে।
ii. আখের মরসুম মাত্র 3-4 মাস, তাই চিনিকল বছরের বাকি সময় বেকার থাকে।
iii. পুরনো যন্ত্রপাতি, কম উৎপাদনশীলতা ও বেশি খরচ।
iv. গুড় ও খাণ্ডসারি এবং কৃত্রিম চিনির সাথে প্রতিযোগিতা।
v. সরকারি নিয়ন্ত্রণ, কম দাম ও কৃষকের বকেয়া টাকা না পাওয়া, ফলে অনেক চিনিকল বন্ধ হয়ে যায়।

সমাধান:
i. উন্নত বীজ যেমন CO 0238, সেচ ও সারের ব্যবহার বাড়ানো।
ii. আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং সহ-উৎপাদন যেমন আখের ছিবড়া থেকে ইথানল, বিদ্যুৎ ও কাগজ তৈরি।
iii. ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানো, সহজ ঋণ ও ভর্তুকি দেওয়া।
iv. সমবায় চিনিকল গড়ে তোলা।
v. রপ্তানি বৃদ্ধি ও গবেষণার মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি আনা।

4.7 ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব লেখো।
উত্তর:
কারণ:
i. জন্মহার বেশি 19/1000 এবং মৃত্যুহার কম 6/1000। চিকিৎসা, টিকা ও পুষ্টির উন্নতিতে মৃত্যুহার কমেছে, কিন্তু জন্মহার সেভাবে কমেনি।
ii. বাল্যবিবাহ, নিরক্ষরতা, ধর্মীয় কুসংস্কার ও পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষা।
iii. দারিদ্র্য, সন্তান শ্রমিক হিসাবে কাজ করে তাই বেশি সন্তান নেওয়া।
iv. বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে অভিবাসন।
v. পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অজ্ঞতা।

প্রভাব:
i. অর্থনৈতিক: বেকারত্ব প্রায় 7%, দারিদ্র্য, খাদ্য, বাসস্থান, জল, বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও মাথাপিছু GDP কমে যাওয়া।
ii. সামাজিক: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহনে চাপ, বস্তি সৃষ্টি, অপরাধ ও আন্দোলন বৃদ্ধি।
iii. পরিবেশগত: নির্বিচারে বন কাটা, জমির উপর চাপ, মাটি ক্ষয়, দূষণ ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়া। ভারত 2023 সালে জনসংখ্যায় বিশ্বে প্রথম স্থানে পৌঁছেছে, প্রায় 142 কোটি।

4.8 উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার আলোচনা করো।
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য:
i. মহাকাশ থেকে সেন্সর দ্বারা তোলা ডিজিটাল ছবি, একসাথে বিশাল অঞ্চলের ছবি পাওয়া যায়।
ii. বিভিন্ন ব্যান্ডে ছবি তোলা হয় – সাদা-কালো বা PAN, রঙিন বা FCC যেখানে লাল রঙে উদ্ভিদ ও নীল রঙে জল দেখানো হয়, ইনফ্রারেড ও রাডার বা মাইক্রোওয়েভ ব্যান্ড।
iii. নিয়মিতভাবে একই জায়গার ছবি পাওয়া যায়, প্রতি দিন বা প্রতি সপ্তাহে, ফলে পরিবর্তন বোঝা যায়।
iv. কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করা যায় এবং GIS-এ ব্যবহার করা যায়।

ব্যবহার:
i. আবহাওয়া পূর্বাভাস – ঘূর্ণিঝড়, মৌসুমী বায়ু ও বৃষ্টির পূর্বাভাস।
ii. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা – বন্যা, খরা, দাবানল ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ।
iii. সম্পদ মানচিত্র – বন, কৃষি, জল, মাটি, খনিজ ও শহর মানচিত্র তৈরি।
iv. পরিকল্পনা – নগর পরিকল্পনা, রাস্তা, বাঁধ ও সেচ পরিকল্পনা।
v. প্রতিরক্ষা, GPS নেভিগেশন, পরিবেশ দূষণ ও জনসংখ্যা পর্যবেক্ষণে। ভারতে IRS, INSAT, Cartosat ও RISAT উপগ্রহ ব্যবহৃত হয়।

Madhyamik Geography Model Answers-8

বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)

5.1 বায়ুর ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্র সহ বর্ণনা করো।
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ু প্রধান ক্ষয় ও সঞ্চয়কারী শক্তি।
ক্ষয় কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ:
i. গৌর বা মাশরুম শিলা: নিচে নরম শিলা এবং উপরে কঠিন শিলা থাকে, বায়ুতে বালি ঘষে নিচে বেশি ক্ষয় করে, ফলে নিচে সরু এবং উপরে চওড়া হয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো হয়।
ii. ইয়ারদাং: কঠিন ও নরম শিলা পাশাপাশি থাকলে নরম শিলা ক্ষয়ে খাঁজ এবং কঠিন শিলা উঁচু শৈলশিরা হিসাবে থাকে, দেখতে উল্টানো নৌকার মতো।
iii. জিউগেন: উপরে কঠিন শিলা এবং নিচে নরম শিলা থাকলে টেবিলের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়।
iv. ভেন্টিফ্যাক্ট: বালির ঘষায় পাথরে তিনটি ধারালো কোণ তৈরি হয়।
v. অপসারণ গর্ত, মরু করিডোর, হামাদা: বায়ুতে ধূলি ও বালি উড়ে গিয়ে গর্ত তৈরি হয় এবং পাথুরে মরু করিডোর বা হামাদা পড়ে থাকে।

সঞ্চয় কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ:
i. বার্খান: অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি, দুটি শিং থাকে, বায়ুর দিকে উত্তল ঢাল।
ii. Seif বা অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি: বায়ুর সমান্তরালে দীর্ঘ বালিয়াড়ি, 100 কিমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
iii. লোয়েস সমভূমি: সূক্ষ্ম বালি ও পলি উড়ে দূরে উর্বর হলুদ মাটির সমভূমি তৈরি করে, যেমন চীনের হোয়াংহো নদী উপত্যকা।
iv. প্লায়া হ্রদ: মরুভূমির নিচু অংশে বৃষ্টির জল জমে লবণাক্ত হ্রদ তৈরি হয়, শুকিয়ে লবণ সমভূমি হয়।

5.2 ঘূর্ণবাত কীভাবে সৃষ্টি হয়? ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য লেখো। ভারতে ঘূর্ণবাতের প্রভাব লেখো।
উত্তর: সৃষ্টি: সমুদ্রের জল 27°C-এর বেশি গরম হলে জল বাষ্প হয়ে উপরে উঠে নিম্নচাপ তৈরি হয়, চারপাশ থেকে বায়ু ছুটে আসে এবং কোরিওলিস বলের জন্য ঘুরতে ঘুরতে ঘূর্ণবাত তৈরি হয়। কেন্দ্রে চক্ষু থাকে যা শান্ত, চারপাশে প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টি হয়।
পার্থক্য:
বিষয় ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত
চাপ ও প্রবাহ কেন্দ্রে নিম্নচাপ, বায়ু বাইরে থেকে ভিতরে ঢোকে, উপরে ওঠে। কেন্দ্রে উচ্চচাপ, বায়ু ভিতর থেকে বাইরে বেরোয়, নিচে নামে।
আবহাওয়া মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় ও দুর্যোগ। পরিষ্কার ও শান্ত আবহাওয়া।
ঘূর্ণনের দিক উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে। উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে।
আকার ছোট 100-1000 কিমি। বড় 2000-3000 কিমি।
ভারতে প্রভাব: i. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত: বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় হয়, যেমন আম্ফান, ফণী, ইয়াস। উপকূলে বাড়ি, ফসল ও প্রাণহানি হয় এবং জলোচ্ছ্বাস হয়। ii. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা: নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত, ভূমধ্যসাগর থেকে শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটায়, গম চাষে উপকারী। iii. প্রতীপ ঘূর্ণবাত: শীতকালে উত্তর ভারতে শীতল আবহাওয়া ও কুয়াশা সৃষ্টি করে।

5.3 ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ করো ও বৈশিষ্ট্য লেখো। মৃত্তিকা সংরক্ষণের উপায় লেখো।
উত্তর: ICAR অনুযায়ী 8 প্রকার মৃত্তিকা –
i. পলি মাটি: গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র সমভূমিতে, দোআঁশ, নাইট্রোজেন কম, পটাশ বেশি, অত্যন্ত উর্বর, ধান, গম ও পাট চাষ হয়। ভারতের 43% মাটি।
ii. কৃষ্ণ মাটি বা রেগুর: মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে, ব্যাসল্ট শিলা থেকে তৈরি, কালো, লোহা বেশি, জল ধরে রাখে, তুলো, আখ ও সয়াবিন চাষে উন্নত।
iii. লাল মাটি: ছোটনাগপুর ও তামিলনাড়ুতে, লোহা বেশি, লাল রঙ, কম উর্বর, রাগি ও বাদাম চাষ হয়।
iv. ল্যাটেরাইট: মেঘালয় ও পশ্চিমঘাটে, বেশি বৃষ্টিতে লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম বেশি, ইট, চা ও কাজু বাদাম।
v. মরু মাটি: রাজস্থানে, বালি বেশি, লবণাক্ত, বাজরা ও জোয়ার।
vi. পার্বত্য মাটি: হিমালয়ে, পাতলা ও পাথুরে, ফল ও আলু চাষ।
vii. জৈব বা পিট: সুন্দরবন ও কেরলে, জৈব পদার্থ বেশি।
viii. লবণাক্ত বা ক্ষারীয়: গুজরাট, সুন্দরবন ও পাঞ্জাবে, একে রেহ বা কল্লর বলে।

সংরক্ষণের উপায়: i. বনসৃজন ও সামাজিক বনসৃজন, ii. ধাপ চাষ, ফালি চাষ ও সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ, iii. বাঁধ ও Check Dam, iv. জৈব সার ও ফসল আবর্তন, v. অতিরিক্ত পশুচারণ বন্ধ ও ঝুম চাষ বন্ধ, vi. সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ।

5.4 ভারতে ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর: ধান খরিফ শস্য, ভারতের প্রধান খাদ্য, 23% জমিতে চাষ হয়, বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক।
অনুকূল পরিবেশ: i. জলবায়ু – 20°-30°C তাপমাত্রা, 100-200 সেমি বৃষ্টি, আর্দ্রতা, জল জমা দরকার। ii. মাটি – উর্বর পলি, দোআঁশ, জল ধরে রাখে। iii. জমি – সমতল, নিচু, নদীর পাশে। iv. শ্রমিক – রোপণ ও কাটার জন্য সস্তা শ্রমিক। v. সার, উন্নত বীজ ও সেচ।
বন্টন: পশ্চিমবঙ্গ প্রথম – বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব যেখানে ফলন বেশি সবুজ বিপ্লবের জন্য, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, বিহার, ওড়িশা, অসম। তিনটি মরসুম – আমন বর্ষাকালে প্রধান, আউস শরৎকালে এবং বোরো গ্রীষ্মকালে সেচে।
সমস্যা: i. ক্ষুদ্র জোত, ii. বৃষ্টির উপর নির্ভরতা, বন্যা ও খরা, iii. পুরনো বীজ, কম সার, কম ফলন – ভারতে 2.5 টন/হেক্টর, চীনে 6 টন/হেক্টর, iv. সংরক্ষণ, বাজার, ঋণ ও মধ্যস্বত্বভোগী, v. মাটি ক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তন। সমাধান – উচ্চ ফলনশীল বীজ জয়া, IR8, সেচ, MSP, শস্য বীমা ও SRI পদ্ধতি।

Madhyamik Geography Model Answers-8

5.5 ভারতে শিল্প স্থাপনের কারণগুলি আলোচনা করো। ভারতে তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের উন্নতির কারণ লেখো।
উত্তর:
শিল্প স্থাপনের কারণ: i. কাঁচামাল – লোহা, কয়লা, তুলো, আখ, পাট কাছে থাকতে হবে। ii. শক্তি – বিদ্যুৎ, কয়লা ও তেল। iii. শ্রমিক – সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক। iv. বাজার – পণ্য বিক্রির বাজার, জনবহুল হলে ভালো। v. পরিবহন – সড়ক, রেল, বন্দর, কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের জন্য। vi. মূলধন, সরকারি নীতি, জল ও জলবায়ু। যেমন জামশেদপুরে লোহা, কয়লা, জল, শ্রমিক, রেল ও বন্দর কাছে থাকায় ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।
তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের উন্নতির কারণ: i. দক্ষ শ্রমিক – IIT, NIT, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইংরেজি জানা, সস্তা, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম। ii. সরকারি সাহায্য – STPI, SEZ, কর ছাড়, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট। iii. পরিকাঠামো – বিমানবন্দর, বড় শহর, উন্নত জীবনযাত্রা – বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে, চেন্নাই, দিল্লি। iv. বাজার – আমেরিকা ও ইউরোপে চাহিদা, টাইম জোনের সুবিধা – রাতে কাজ করে সকালে আমেরিকায় পাঠানো যায়। v. বিদেশি বিনিয়োগ ও উদারনীতি 1991। ভারত IT রপ্তানিতে বিশ্বে প্রথম, TCS, Infosys, Wipro বিশ্ব বিখ্যাত।

5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত – লিখিত বর্ণনা
উত্তর: খাতায় মানচিত্রে যেভাবে চিহ্নিত করবে –
[A] মিকির পাহাড়: অসম রাজ্যে, কার্বি আংলং মালভূমিতে অবস্থিত, মিকির উপজাতি বাস করে, উচ্চতা 1000-1500 মিটার, ঘন বন এবং কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের কাছে। মানচিত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতে চিহ্নিত করবে।
[B] ভেম্বানাদ হ্রদ: কেরলে অবস্থিত, কেরলের বৃহত্তম হ্রদ, আয়তন 200 বর্গ কিমি, এটি একটি লেগুন, কোচির কাছে অবস্থিত, নৌকা বাইচের জন্য বিখ্যাত, রামসার সাইট এবং কুমারকম পাখিরালয় এখানে।
[C] মহানদী: ছত্তিশগড়ের সিহাওয়া থেকে উৎপত্তি, ছত্তিশগড় ও ওড়িশার মধ্য দিয়ে 860 কিমি পূর্বে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। হিরাকুদ বাঁধ বিশ্বের দীর্ঘতম বাঁধ এর উপর অবস্থিত, কটকের কাছে ব-দ্বীপ তৈরি করেছে এবং চিল্কা হ্রদ এর কাছে অবস্থিত।
[D] একটি কফি উৎপাদক অঞ্চল – কর্ণাটক: ভারতের 60% কফি কর্ণাটকে উৎপাদিত হয় – চিকমাগালুর, কুর্গ, হাসান, শিমোগায়, পশ্চিমঘাটে, 150-200 সেমি বৃষ্টি, ছায়াযুক্ত, লাল মাটি এবং আরবিকা ও রোবাস্টা দুই প্রকার কফি।
[E] একটি পাট উৎপাদক অঞ্চল – পশ্চিমবঙ্গ: ভারতের 70% পাট পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদিত হয় – মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, হুগলি, উত্তর 24 পরগনা, মালদা, উর্বর পলি, 150 সেমি বৃষ্টি এবং হুগলি নদীর পাশে পাটকল আছে।
[F] কান্ডালা বন্দর: গুজরাটে কচ্ছ উপসাগরে অবস্থিত জোয়ার-ভাটা বন্দর ও মুক্ত বাণিজ্য বন্দর। খনিজ তেল, লবণ, তুলো ও সিমেন্ট রপ্তানি হয়। দেশভাগের পর করাচি বন্দরের বিকল্প হিসাবে 1950 সালে তৈরি করা হয়।
[G] একটি জনবিরল রাজ্য – অরুণাচল প্রদেশ: উত্তর-পূর্ব ভারতে অবস্থিত, জনঘনত্ব 17 জন/বর্গ কিমি, যা সবচেয়ে কম। পাহাড়ি, বন, দুর্গম, চীন সীমান্তে অবস্থিত, কম সমতল ও কম শিল্পের জন্য জনবিরল, তাওয়াং মঠ এখানে অবস্থিত।

➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading