Madhyamik Life sci Model Answers-7/2
Madhyamik Life Sci Model Answers-7
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-7) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Life Sci Model Answers-7

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)
(Part-2)
বিভাগ – ঘ: রচনাধর্মী (5×6=30)
4.1 মানুষের চোখের গঠন + ত্রুটি
চিত্র: আগে দেওয়া আছে – কর্নিয়া, আইরিস, লেন্স, রেটিনা, অপটিক স্নায়ু, ভিট্রিয়াস হিউমার, স্ক্লেরা, কোরয়েড।
গঠন: চোখের প্রাচীর 3 স্তর –
i) স্ক্লেরা: বাইরের সাদা শক্ত স্তর, চোখের আকার রক্ষা। সামনে স্বচ্ছ কর্নিয়া।
ii) কোরয়েড: মাঝের কালো স্তর, রক্তবাহী, আলো শোষণ করে। সামনে আইরিস ও সিলিয়ারি পেশি।
iii) রেটিনা: ভিতরের আলোক সংবেদী স্তর – রড ও কোন কোষে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
iv) লেন্স: দ্বি-উত্তল, ফোকাস করে।
v) অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার: পুষ্টি ও আকার রক্ষা।
চোখের ত্রুটি ও প্রতিকার:
i) মায়োপিয়া: দূরের বস্তু ঝাপসা। কারণ – অক্ষিগোলক লম্বা, প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে। প্রতিকার – অবতল (Concave) লেন্স।
ii) হাইপারমেট্রোপিয়া: কাছের বস্তু ঝাপসা। অক্ষিগোলক ছোট, প্রতিবিম্ব রেটিনার পিছনে। প্রতিকার – উত্তল (Convex) লেন্স।
iii) প্রেসবায়োপিয়া: বয়সে সিলিয়ারি পেশি দুর্বল, উপযোজন ক্ষমতা কমে, বাইফোকাল লেন্স।
iv) অ্যাস্টিগমাটিজম: কর্নিয়ার বক্রতা সমান নয়, সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স।
v) ছানি: লেন্স ঘোলা হয়ে যায়, অপারেশন।
Madhyamik Life Sci Model Answers-7
4.2 ন্যাস্টিক চলন কত প্রকার?
ন্যাস্টিক চলন: উদ্দীপকের গতিপথ নিরপেক্ষ, তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সাময়িক, টারগর চাপে ঘটে, বৃদ্ধি নির্ভর নয়।
5 প্রকার:
i) ফটোন্যাস্টি: আলোর তীব্রতায় – পদ্ম ফুল দিনের আলোতে ফোটে, রাতে বন্ধ।
ii) থার্মোন্যাস্টি: তাপের তীব্রতায় – টিউলিপ ফুল বেশি তাপে (25°C) ফোটে, কমে (5°C) বন্ধ।
iii) সিসমোন্যাস্টি: স্পর্শ বা কম্পনে – লজ্জাবতী গাছ স্পর্শ করলে পাতা নুয়ে পড়ে, পালভিনাসে টারগর কমে।
iv) কেমোন্যাস্টি: রাসায়নিক উদ্দীপনায় – সূর্যশিশির (Drosera) পাতার কর্ষিকা পতঙ্গের রাসায়নিকে বেঁকে পতঙ্গকে ধরে।
v) নিকটিন্যাস্টি: দিন-রাতের আলো-অন্ধকারে ঘুমানো – শিরিষ গাছের পাতা রাতে বন্ধ (sleep movement)।
4.3 কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ ও মাইটোসিসের গুরুত্ব
প্রকারভেদ 3টি:
i) অ্যামাইটোসিস: সরাসরি বিভাজন, নিউক্লিয়াস সরাসরি ভাগ হয়, ব্যাকটেরিয়া, ইস্টে। বেম গঠিত হয় না।
ii) মাইটোসিস: সম বিভাজন, দেহকোষে 2n থেকে 2n, 2টি কোষ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ।
iii) মিয়োসিস: হ্রাস বিভাজন, জনন কোষে 2n থেকে n, 4টি কোষ, ক্রসিং ওভারে প্রকরণ।
মাইটোসিসের গুরুত্ব (5টি):
i) জীবের দেহের বৃদ্ধি ঘটায়।
ii) ক্ষত নিরাময় ও ক্ষয়পূরণ করে।
iii) অযৌন জননের ভিত্তি।
iv) ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রেখে জিনগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
v) ক্যান্সার গবেষণা ও টিস্যু কালচারে কাজে লাগে।
➣[ডাউনলোড করুন]: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান মডেল উত্তরপত্র (PDF)
4.4 সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন চিত্র সহ
চিত্র আগে দিয়েছি – পরাগরেণু → পরাগনালি → ভ্রূণথলি
ধাপ 5টি:
i) পরাগযোগ: পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর।
ii) পরাগরেণুর অঙ্কুরোদগম: গর্ভমুণ্ডের রসে পরাগরেণু থেকে পরাগনালি বের হয়, 2টি পুংগ্যামেট থাকে।
iii) পরাগনালির বৃদ্ধি: পরাগনালি গর্ভদণ্ড দিয়ে ডিম্বকরন্ধ্র দিয়ে ভ্রূণথলিতে প্রবেশ করে।
iv) দ্বিনিষেক: একটি পুংগ্যামেট (n) + ডিম্বাণু (n) = জাইগোট (2n) → ভ্রূণ। অপর পুংগ্যামেট (n) + নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) = শস্য বা এন্ডোস্পার্ম (3n) → পুষ্টি।
v) বীজ ও ফল গঠন: জাইগোট থেকে ভ্রূণ, ডিম্বক থেকে বীজ, ডিম্বাশয় থেকে ফল।
4.5 বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়া কীভাবে বংশগত হয়
উত্তর : উভয়ই X-ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন রোগ, ক্রিস-ক্রস বংশগতি দেখায়।
বর্ণান্ধতা: লাল-সবুজ রং চেনা যায় না। জিন X^C তে।
হিমোফিলিয়া: রক্ত তঞ্চন হয় না, ফ্যাক্টর VIII/IX নেই, জিন X^H তে।
বংশগতি:
বাহক মা X^H X x স্বাভাবিক বাবা XY →
গ্যামেট: মায়ের X^H, X এবং বাবার X, Y
সন্তান:
X^H X = বাহক কন্যা 25%
XX = স্বাভাবিক কন্যা 25%
X^H Y = আক্রান্ত পুত্র 50% এর মধ্যে 25%
XY = স্বাভাবিক পুত্র 25%
অর্থাৎ মা বাহক হলে 50% ছেলে আক্রান্ত হবে। বাবা আক্রান্ত হলে সব মেয়ে বাহক হবে, ছেলে স্বাভাবিক। বাবা আক্রান্ত x মা বাহক হলে 50% মেয়েও আক্রান্ত হতে পারে। তাই ছেলেদের মধ্যে রোগ বেশি।
Madhyamik Life Sci Model Answers-7
4.6 বিবর্তন ও প্রমাণ – তুলনামূলক শারীরস্থান ও জীবাশ্ম
বিবর্তন: ধীর, ক্রমাগত, সময় সাপেক্ষ পরিবর্তনের মাধ্যমে সরল জীব থেকে জটিল জীবের সৃষ্টিকে বিবর্তন বলে।
তুলনামূলক শারীরস্থান প্রমাণ:
i) সমসংস্থ অঙ্গ – অপসারী বিবর্তন: উৎপত্তি ও গঠন একই, কাজ ভিন্ন, একই পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে। যেমন – মানুষের হাত (ধরা), তিমির ফ্লিপার (সাঁতার), বাদুড়ের ডানা (ওড়া), পাখির ডানা – ভিতরে একই হাড় – হিউমেরাস, রেডিয়াস, আলনা, কার্পাল, মেটাকার্পাল, ফ্যালাঞ্জেস। প্রমাণ করে এরা একই পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে।
ii) সমবৃত্তীয় অঙ্গ – অভিসারী বিবর্তন: কাজ একই, গঠন ভিন্ন। যেমন – পাখির ডানা (হাড়, পালক) ও পতঙ্গের ডানা (কাইটিন, হাড় নেই) উভয়ই ওড়ে, কিন্তু উৎপত্তি ভিন্ন। পরিবেশ একই কাজে অভিযোজিত করেছে।
জীবাশ্মের গুরুত্ব: i) বিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ। ii) মিসিং লিঙ্ক – আর্কিওপটেরিক্স (সরীসৃপ ও পাখির মাঝে)। iii) ঘোড়ার বিবর্তন ইওহিপ্পাস থেকে ইকুয়াস পরিষ্কার দেখায়। iv) পৃথিবীর বয়স, প্রাচীন পরিবেশ জানা যায়। v) কার্বন ডেটিংয়ে বয়স নির্ণয়।
4.7 মাছ ও পাখির অভিযোজন
রুই মাছের জলজ অভিযোজন: i) দেহ মাকু আকৃতি, জল কাটতে সুবিধা। ii) পাখনা – জোড় পাখনা (বক্ষ, শ্রোণী) ভারসাম্য ও দিক পরিবর্তন, বিজোড় পাখনা (পৃষ্ঠ, পুচ্ছ) সাঁতার। iii) দেহ আঁশ ও পিচ্ছিল মিউকাসে ঢাকা, ঘর্ষণ কম। iv) ফুলকা দিয়ে জলে দ্রবীভূত O2 গ্রহণ। v) পটকা দিয়ে প্লবতা রক্ষা, জলে ভেসে থাকা। vi) পার্শ্বরেখা দিয়ে জলের চাপ ও কম্পন বোঝে।
পায়রার বায়বীয় অভিযোজন: i) দেহ মাকু, হালকা, পালকযুক্ত, বায়ু নিরোধক। ii) সামনের পা ডানায় পরিণত, পালক বিস্তৃত। iii) অস্থি হালকা, ফাঁপা, বায়ুপূর্ণ। iv) 9টি বায়ুথলি দেহ হালকা করে, $O_2$ সঞ্চয় করে। v) বক্ষ পেশি অত্যন্ত শক্তিশালী, উড়তে সাহায্য। vi) দৃষ্টি প্রখর, হৃদপিণ্ড শক্তিশালী, দ্রুত বিপাক।
Madhyamik Life Sci Model Answers-7
4.8 নাইট্রোজেন চক্র কী? গুরুত্ব, লেগহিমোগ্লোবিন
নাইট্রোজেন চক্র: বায়ুমণ্ডলের N2 থেকে মাটি, উদ্ভিদ, প্রাণী হয়ে আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে যাওয়ার চক্রাকার আবর্তনকে নাইট্রোজেন চক্র বলে। 5 ধাপ – স্থিতিকরণ, অ্যামোনিফিকেশন, নাইট্রিফিকেশন, আত্তীকরণ, ডিনাইট্রিফিকেশন।
গুরুত্ব: i) নাইট্রোজেন দিয়ে প্রোটিন, DNA, RNA, ক্লোরোফিল তৈরি হয়। ii) মাটির উর্বরতা রক্ষা করে। iii) উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। iv) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে।
লেগহিমোগ্লোবিনের কাজ: শিম্ব গোত্রীয় উদ্ভিদের (মটর, ছোলা) মূলে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার নডিউলে গোলাপি রঙের রঞ্জক লেগহিমোগ্লোবিন থাকে। কাজ: i) অতিরিক্ত O2 শোষণ করে নাইট্রোজিনেজ উৎসেচককে O2 এর বিষক্রিয়া থেকে বাঁচায়, কারণ নাইট্রোজিনেজ O2 তে নষ্ট হয়ে যায়। ii) O2 এর সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাকটেরিয়ার শ্বসনে সাহায্য করে।
4.9 JFM ও PBR এর ভূমিকা দূষণ রোধে
JFM – Joint Forest Management: 1971 সালে পশ্চিমবঙ্গের আরাবারি থেকে শুরু। বনদপ্তর + স্থানীয় গ্রামবাসী যৌথভাবে বন রক্ষা করে। গ্রামবাসী বন থেকে শুকনো কাঠ, মধু, ফল পায়, বন রক্ষা করে। ফলে বন ধ্বংস কমে, নতুন গাছ লাগে, মাটি ক্ষয় কমে, CO2 শোষণ বাড়ে, বায়ু দূষণ কমে, জীববৈচিত্র্য বাড়ে। সুন্দরবনে JFM খুব সফল।
PBR – People’s Biodiversity Register: জীববৈচিত্র্য আইন 2002 অনুযায়ী প্রতিটি পঞ্চায়েতে Biodiversity Management Committee (BMC) PBR তৈরি করে। এতে লেখা থাকে – গ্রামে কোন কোন উদ্ভিদ, প্রাণী, ফসল আছে, তাদের স্থানীয় নাম, ঐতিহ্যগত ব্যবহার, ঔষধি গুণ। এর ভূমিকা: i) স্থানীয় প্রজাতি রক্ষা পায়, বিদেশি কোম্পানি জ্ঞান চুরি করতে পারে না। ii) দূষণে কোন প্রজাতি হারাচ্ছে তা বোঝা যায়। iii) স্থানীয় মানুষ সচেতন হয়, দূষণ রোধে এগিয়ে আসে। iv) টেকসই উন্নয়নে সাহায্য করে।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.