NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Life sci Model Answers-7

Madhyamik Life Sci Model Answers-7

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-7) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Life Sci Model Answers-7

Madhyamik Life Sci Model Answers
Madhyamik Life Sci Model Answers

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)

⟽ Previous set

বিভাগ – ক: MCQ – সব প্রশ্ন আবশ্যিক (1×15=15)

1.1 বীজের সুপ্তাবস্থা বজায় রাখে –
[A] ABA [B] অক্সিন [C] জিব্বেরেলিন [D] সাইটোকাইনিন
উত্তর: [A] ABA – Abscisic Acid ডরমিন।

1.2 মানুষের চোখে আইরিসের কাজ –
[A] আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ [B] প্রতিবিম্ব গঠন [C] রঙ চেনা [D] লেন্স ধরে রাখা
উত্তর: [A] আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ – পিউপিল ছোট বড় করে।

1.3 স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহনে সাহায্য করে –
[A] নিউরোট্রান্সমিটার [B] হরমোন [C] রক্ত [D] লসিকা
উত্তর: [A] নিউরোট্রান্সমিটার – অ্যাসিটাইলকোলিন সাইন্যাপসে।

1.4 DNA সংশ্লেষ হয় –
[A] S দশায় [B] G1 দশায় [C] G2 দশায় [D] M দশায়
উত্তর: [A] S দশায় – ইন্টারফেজের Synthesis।

1.5 মানবদেহে কোষ বিভাজন না হলে কী হবে –
[A] বৃদ্ধি বন্ধ [B] ক্ষত নিরাময় হবে না [C] জনন হবে না [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি

1.6 কৃত্রিম অঙ্গজ জনন –
[A] কলম [B] জোড় কলম [C] শাখা কলম [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি

1.7 মেন্ডেলের পরীক্ষায় 7 জোড়া বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি –
[A] ফুলের রং [B] বীজের আকার [C] কান্ডের উচ্চতা [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি – 7টি হল: কান্ড উচ্চতা, ফুলের অবস্থান, ফুলের রং, ফলের রং, ফলের আকার, বীজের রং, বীজের আকার।

1.8 থ্যালাসেমিয়ায় –
[A] হিমোগ্লোবিন কমে [B] RBC কমে [C] রক্তাল্পতা হয় [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি

1.9 ডারউইনের মতে বিবর্তনের চালিকা শক্তি –
[A] প্রাকৃতিক নির্বাচন [B] ব্যবহার ও অব্যবহার [C] মিউটেশন [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] প্রাকৃতিক নির্বাচন

1.10 মরু উদ্ভিদে পত্ররন্ধ্র –
[A] দিনে বন্ধ রাতে খোলে [B] দিনে খোলে রাতে বন্ধ [C] সবসময় খোলা [D] থাকে না
উত্তর: [A] দিনে বন্ধ রাতে খোলে – CAM উদ্ভিদে জল বাঁচাতে।

1.11 নাইট্রোজেন চক্রে অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রাইট করে –
[A] নাইট্রোসোমোনাস [B] নাইট্রোব্যাকটর [C] সিউডোমোনাস [D] রাইজোবিয়াম
উত্তর: [A] নাইট্রোসোমোনাস

1.12 ভারতে প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ –
[A] নীলগিরি [B] সুন্দরবন [C] নন্দাদেবী [D] মানস
উত্তর: [A] নীলগিরি – 1986

1.13 জল দূষণ পরিমাপক –
[A] BOD, COD [B] SPM [C] dB [D] ppm
উত্তর: [A] BOD, COD – SPM বায়ু, dB শব্দ।

1.14 পশ্চিমবঙ্গের একটি জাতীয় উদ্যান –
[A] জলদাপাড়া [B] কানহা [C] গির [D] কাজিরাঙা
উত্তর: [A] জলদাপাড়া – আলিপুরদুয়ার।

1.15 নাইট্রোজেন যুক্ত ক্ষার নয় –
[A] অ্যাডেনিন [B] গুয়ানিন [C] থাইমিন [D] গ্লুকোজ
উত্তর: [D] গ্লুকোজ – এটি শর্করা।

Madhyamik Life Sci Model Answers-7

বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×21=21)

2.1 ক্লাইনোস্ট্যাট যন্ত্রে কী দেখানো হয়?
উত্তর: ক্লাইনোস্ট্যাট যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করা হয় যে জিওট্রপিজম ও ফটোট্রপিজম অক্সিন হরমোন নির্ভর। ক্লাইনোস্ট্যাট যন্ত্রে গাছকে ঘোরালে অক্সিন চারদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে বক্রতা বা ট্রপিক চলন আর হয় না।

2.2 কর্নিয়ার কাজ কী?
উত্তর: কর্নিয়া হল চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ। এর প্রধান কাজ হল বাইরের আলোকে চোখের ভিতরে প্রবেশ করানো এবং আলোর প্রতিসরণ ঘটিয়ে রেটিনার উপর ফোকাস করতে সাহায্য করা। এটি চোখকে বাইরের ধুলোবালি থেকেও রক্ষা করে।

2.3 পেশির ক্লান্তি কেন হয়?
উত্তর: অতিরিক্ত পরিশ্রমের সময় পেশিতে অক্সিজেনের অভাব ঘটে। তখন গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণের ফলে পেশিতে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমা হয়। এই ল্যাকটিক অ্যাসিড জমার কারণেই পেশির ক্লান্তি ও ব্যথা অনুভূত হয়।

2.4 মেডুলা অবলংগাটার কাজ কী?
উত্তর: মেডুলা অবলংগাটা হল মস্তিষ্কের সবচেয়ে নিচের অংশ এবং একে প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। এটি হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং গিলে খাওয়া, বমি হওয়ার মতো অনৈচ্ছিক ক্রিয়াগুলি নিয়ন্ত্রণ করে।

2.5 অ্যাড্রেনালিনকে আপৎকালীন হরমোন বলে কেন?
উত্তর: অ্যাড্রেনালিন হরমোনকে আপৎকালীন হরমোন বলে কারণ ভয়, রাগ, উত্তেজনা বা বিপদের সময় এটি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে বেশি পরিমাণে ক্ষরিত হয়। এটি হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে এবং পেশিতে রক্ত সরবরাহ বাড়িয়ে দেহকে লড়াই বা পালানোর জন্য প্রস্তুত করে।

2.6 ক্রোমোজোম কী দিয়ে তৈরি?
উত্তর: ক্রোমোজোম DNA এবং হিস্টোন প্রোটিন দিয়ে তৈরি। কোষের বিশ্রাম দশায় DNA ও হিস্টোন প্রোটিন একসাথে মিলে ক্রোমাটিন সূত্র গঠন করে, যা পরে কুণ্ডলী পাকিয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে।

2.7 হোমোলোগাস ক্রোমোজোম কী?
উত্তর: যেসব ক্রোমোজোমের আকার, আকৃতি এবং জিনের বিন্যাস একই রকম হয় এবং একটি মাতা থেকে ও অপরটি পিতা থেকে আসে, তাদের হোমোলোগাস বা সমসংস্থ ক্রোমোজোম বলে। এরা মিয়োসিসের সময় জোড়া বাঁধে।

2.8 দাবা কলম কী?
উত্তর: দাবা কলম হল উদ্ভিদের অঙ্গজ জননের একটি কৃত্রিম পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে লতানো উদ্ভিদের কোনো শাখাকে মাটিতে চাপা দিয়ে শিকড় গজানো হয় এবং পরে মাতৃ উদ্ভিদ থেকে কেটে নতুন গাছ তৈরি করা হয়। যেমন – চামেলি, জুঁই।

2.9 ফল কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: নিষেকের পর ফুলের ডিম্বাশয় পরিণত ও পরিপুষ্ট হয়ে ফলে পরিণত হয়। ডিম্বাশয় থেকে গঠিত ফলকে প্রকৃত বা সত্য ফল বলে। আর যদি ডিম্বাশয় ছাড়া ফুলের অন্য অংশ থেকে ফল গঠিত হয়, তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে, যেমন – আপেল, চালতা।

2.10 ভ্রূণের লিঙ্গ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
উত্তর: ভ্রূণের লিঙ্গ নিষেকের সময়ই নির্ধারিত হয় পিতার শুক্রাণুর উপর নির্ভর করে। পিতার X বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হলে কন্যা সন্তান (XX) এবং Y বহনকারী শুক্রাণু মিলিত হলে পুত্র সন্তান (XY) সৃষ্টি হয়।

2.11 সংকরায়ণ কী?
উত্তর: দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত বা ভিন্ন জিনোটাইপযুক্ত জীবের মধ্যে যৌন মিলন বা ক্রস ঘটানোকে সংকরায়ণ বলে। যেমন – বিশুদ্ধ লম্বা (TT) ও বিশুদ্ধ বেঁটে (tt) মটর গাছের মধ্যে সংকরায়ণ।

2.12 বর্ণান্ধতা কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: বর্ণান্ধতা বোঝার জন্য ইশিহারা বই ব্যবহার করা হয়। এই বইতে রঙিন বিন্দুর মধ্যে সংখ্যা লেখা থাকে। স্বাভাবিক ব্যক্তি সেই সংখ্যা পড়তে পারে, কিন্তু বর্ণান্ধ ব্যক্তি বিশেষ করে লাল-সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না এবং সংখ্যা পড়তে পারে না।

2.13 লুপ্তপ্রায় জীব কাকে বলে?
উত্তর: যেসব জীবের সংখ্যা পরিবেশে অত্যন্ত কমে গেছে এবং উপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করলে তারা অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়ে যাবে, তাদের লুপ্তপ্রায় জীব বলে। যেমন – রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, একশৃঙ্গ গন্ডার।

2.14 ল্যামার্কের মতে জিরাফের গলা লম্বা কেন?
উত্তর: ল্যামার্কের মতে, পূর্বে জিরাফের গলা ছোট ছিল। উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার জন্য বার বার গলা টেনে লম্বা করার চেষ্টা করায় ব্যবহারের ফলে গলা ধীরে ধীরে লম্বা হয়েছে এবং এই অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়েছে।

2.15 জীবাশ্ম কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: প্রাচীনকালের কোনো জীব মারা যাওয়ার পর মাটি, বালি ও পলির নিচে চাপা পড়ে যায়। ধীরে ধীরে তার দেহের নরম অংশ পচে যায় এবং কঠিন অংশের ফাঁকে ফাঁকে খনিজ পদার্থ জমে প্রস্তরীভূত হয়ে জীবাশ্ম গঠিত হয়।

2.16 পায়রার বায়ুথলি কী কাজে লাগে?
উত্তর: পায়রার বায়ুথলির কাজ হল দেহকে হালকা করে উড্ডয়নে সাহায্য করা, প্লবতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত অক্সিজেন সঞ্চয় করা, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং উড়ন্ত অবস্থায় দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা।

2.17 অভয়ারণ্য কী?
উত্তর: অভয়ারণ্য হল একটি সংরক্ষিত অঞ্চল যেখানে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদে বসবাস করে। জাতীয় উদ্যানের মতো এখানে কঠোর নিয়ম না থাকলেও, মানুষের কিছু কাজ যেমন গবাদি পশু চারণ ও কাঠ সংগ্রহ অনুমতি সাপেক্ষে করা যায়। যেমন – সজনেখালি পাখিরালয়।

2.18 বায়ু দূষণের দুটি উৎস লেখো।
উত্তর: বায়ু দূষণের দুটি প্রধান উৎস হল – i) কলকারখানার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস এবং ii) মোটরগাড়ি ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড ও সীসা।

2.19 ইউট্রোফিকেশন কীভাবে হয়?
উত্তর: জলাশয়ে কৃষি জমি থেকে আসা রাসায়নিক সার, বর্জ্য পদার্থ থেকে নাইট্রেট ও ফসফেটের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে জলে শৈবাল ও আগাছা অতিরিক্ত বেড়ে যায়, জলের অক্সিজেন কমে যায় এবং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়, একে ইউট্রোফিকেশন বলে।

2.20 প্রকট ও প্রচ্ছন্ন গুণ কী?
উত্তর: প্রকট গুণ হল সেই গুণ যা হেটেরোজাইগাস অবস্থায় প্রকাশ পায়, যেমন – লম্বা বৈশিষ্ট্য (T)। আর প্রচ্ছন্ন গুণ হল সেই গুণ যা শুধুমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থায় প্রকাশ পায়, হেটেরোজাইগাস অবস্থায় প্রকাশ পায় না, যেমন – বেঁটে বৈশিষ্ট্য (t)।

2.21 পরিযায়ী পাখি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব পাখি ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের জন্য এক দেশ বা অঞ্চল থেকে অন্য দেশ বা অঞ্চলে যায়, তাদের পরিযায়ী পাখি বলে। যেমন – সাইবেরিয়ান সারস শীতকালে সাইবেরিয়া থেকে ভারতে আসে।

Madhyamik Life Sci Model Answers-7

বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×12=24)

3.1 উদ্ভিদের চলন ও প্রাণীর গমন পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
উদ্ভিদের চলন: উদ্ভিদের চলনে সমগ্র উদ্ভিদের স্থান পরিবর্তন হয় না, শুধু কোনো অঙ্গের অবস্থান পরিবর্তন হয়। যেমন – ট্রপিক চলনে কাণ্ড আলোর দিকে বাঁকে। এই চলন ধীরগতির, বৃদ্ধিজনিত এবং সাধারণত হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

প্রাণীর গমন: গমনে সমগ্র প্রাণীর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থান পরিবর্তন হয়। যেমন – মানুষের হাঁটা, মাছের সাঁতার। এই গমন দ্রুত, পেশি ও স্নায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং খাদ্য সংগ্রহ, আত্মরক্ষা ও প্রজননের জন্য ঘটে। উদ্ভিদে গমন দেখা যায় না, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ যেমন ভলভক্সে গমন দেখা যায়।

3.2 গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্কের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম: i) এটি অগ্র মস্তিষ্কে অবস্থিত এবং মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (80%)। ii) এটি দুটি গোলার্ধে বিভক্ত, উপরে ধূসর পদার্থ ও ভিতরে শ্বেত পদার্থ থাকে। iii) এর কাজ হল চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি, বিচার, বাক, ঐচ্ছিক চলন ও জ্ঞানেন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ করা।

লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম: i) এটি পশ্চাৎ মস্তিষ্কে অবস্থিত এবং গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে ছোট। ii) এর উপরেও ভাঁজ থাকে এবং বৃক্ষের মতো দেখতে। iii) এর প্রধান কাজ হল দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা, ঐচ্ছিক পেশির চলনে সমন্বয় আনা এবং হাঁটা-চলা নিয়ন্ত্রণ করা।

3.3 অ্যাড্রেনালিন ও ইনসুলিনের কাজ লেখো।
উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন: এটি বৃক্কের উপরে অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির মেডালা থেকে ক্ষরিত হয়। i) একে জরুরিকালীন হরমোন বা Emergency Hormone বলে। ii) ভয়, রাগ, উত্তেজনার সময় হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাসক্রিয়া বাড়ায়। iii) যকৃতে গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে রক্তে শর্করা বাড়ায়, যাতে দেহ লড়াই বা পালানোর জন্য প্রস্তুত হয়।

ইনসুলিন: এটি অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। i) এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়, গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে যকৃৎ ও পেশিতে জমা রাখে। ii) এর অভাবে রক্তে শর্করা বেড়ে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ হয়।

3.4 সাইটোকাইনেসিস কী? উদ্ভিদ ও প্রাণীতে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস বিভাজনের পর সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

উদ্ভিদ কোষে: i) সাইটোকাইনেসিস কোষপাত বা Cell Plate গঠনের মাধ্যমে ঘটে। ii) কোষের মাঝখান থেকে পরিধির দিকে কোষপাত তৈরি হয়, অর্থাৎ ভিতর থেকে বাইরের দিকে। iii) গলগি বডি থেকে কোষপাত তৈরির উপাদান আসে।

প্রাণী কোষে: i) সাইটোকাইনেসিস কোষপর্দায় খাঁজ বা Furrow সৃষ্টির মাধ্যমে ঘটে। ii) পরিধি থেকে মাঝখানের দিকে খাঁজ গভীর হয়ে কোষ দুভাগ হয়, অর্থাৎ বাইরে থেকে ভিতরের দিকে। iii) অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিনের সংকোচনে খাঁজ তৈরি হয়।

3.5 অঙ্গজ জননের সুবিধা লেখো।
উত্তর: অঙ্গজ জননের সুবিধাগুলি হল —
i) দ্রুত ও নিশ্চিত: খুব কম সময়ে ও কম যত্নে বহু সংখ্যক নতুন গাছ তৈরি করা যায়।
ii) মাতৃগুণ বজায়: অপত্য উদ্ভিদ মাতৃ উদ্ভিদের হুবহু অনুরূপ হয়, তাই ভালো বৈশিষ্ট্যগুলি অক্ষুণ্ণ থাকে।
iii) বীজ ছাড়া বংশবিস্তার: যেসব উদ্ভিদে বীজ হয় না বা বীজ থেকে ভালো গাছ হয় না, যেমন কলা, আখ, গোলাপ, সেখানেও এই পদ্ধতিতে বংশবিস্তার সম্ভব।
iv) দ্রুত ফুল-ফল: অঙ্গজ জননে তৈরি গাছে বীজের গাছের তুলনায় অনেক কম সময়ে ফুল ও ফল আসে।

3.6 নিষেকের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: নিষেকের গুরুত্বগুলি হল —
i) জাইগোট গঠন: পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি হয়, যা থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হয়।
ii) ক্রোমোজোম সংখ্যা রক্ষা: গ্যামেটে n ক্রোমোজোম থাকে, নিষেকের পর 2n সংখ্যা ফিরে আসে, ফলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে।
iii) প্রকরণ সৃষ্টি: পিতা ও মাতার বৈশিষ্ট্যের মিলনে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়, যা অভিযোজন ও বিবর্তনে সাহায্য করে।
iv) প্রজাতি রক্ষা: নিষেকের মাধ্যমেই বংশবিস্তার ও প্রজাতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

3.7 মেন্ডেলের প্রথম ও দ্বিতীয় সূত্রের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা পৃথকীকরণ সূত্র: i) এটি একসংকর জননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অর্থাৎ একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা। ii) গ্যামেট গঠনের সময় অ্যালিল দুটি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। iii) F2 জনুতে ফিনোটাইপ অনুপাত 3:1।

মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র: i) এটি দ্বিসংকর জননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অর্থাৎ দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা। ii) গ্যামেট গঠনের সময় একজোড়া বৈশিষ্ট্য অন্যজোড়া বৈশিষ্ট্য থেকে স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়। iii) F2 জনুতে ফিনোটাইপ অনুপাত 9:3:3:1।

3.8 হিমোফিলিয়া কেন পুরুষদের বেশি হয়?
উত্তর: হিমোফিলিয়া হল X-ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন রোগ, অর্থাৎ এর জিন X ক্রোমোজোমে থাকে।
পুরুষদের লিঙ্গ নির্ধারণ হল XY, অর্থাৎ একটি মাত্র X ক্রোমোজোম থাকে। তাই সেই একটিমাত্র X ক্রোমোজোমেই যদি ত্রুটিপূর্ণ হিমোফিলিয়া জিন থাকে, তাহলেই পুরুষে রোগটি প্রকাশ পায়।
স্ত্রীদের লিঙ্গ নির্ধারণ হল XX, অর্থাৎ দুটি X ক্রোমোজোম থাকে। তাই একটি X ত্রুটিপূর্ণ হলে অন্যটি স্বাভাবিক থাকায় স্ত্রী রোগী হয় না, বাহক হয়। রোগ প্রকাশের জন্য দুটি X-ই ত্রুটিপূর্ণ হতে হবে, যা খুব কম ঘটে। তাই হিমোফিলিয়া পুরুষদের মধ্যে বেশি হয়।

3.9 সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
সমসংস্থ অঙ্গ: i) যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন একই কিন্তু কাজ আলাদা, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। ii) এটি অপসারী বিবর্তনের প্রমাণ দেয়, অর্থাৎ একই পূর্বপুরুষ থেকে বিভিন্ন দিকে বিবর্তন। উদা: তিমির ফ্লিপার, পাখির ডানা, মানুষের হাত – সবার উৎপত্তি অগ্রপদ থেকে।

সমবৃত্তীয় অঙ্গ: i) যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন আলাদা কিন্তু কাজ একই, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে। ii) এটি অভিসারী বিবর্তনের প্রমাণ দেয়, অর্থাৎ ভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে একই পরিবেশে একই কাজের জন্য বিবর্তন। উদা: পাখির ডানা ও প্রজাপতির ডানা, উভয়ের কাজ ওড়া কিন্তু গঠন আলাদা।

3.10 ক্যাকটাসের অভিযোজন লেখো।
উত্তর: ক্যাকটাস মরু উদ্ভিদ বা জেরোফাইট, এর অভিযোজনগুলি হল —
i) পাতার পরিবর্তন: জলের অপচয় রোধে পাতা কাঁটায় পরিণত হয়েছে, ফলে বাষ্পমোচন কম হয়।
ii) কাণ্ড: কাণ্ড মোটা, রসালো ও সবুজ হয়ে সালোকসংশ্লেষ করে এবং জল সঞ্চয় করে রাখে।
iii) পুরু কিউটিকল ও পত্ররন্ধ্র: কাণ্ডের উপর পুরু মোমের মতো কিউটিকল থাকে এবং পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ ও রাতে খোলে, যাতে জল বেরিয়ে না যায়। মূল মাটির গভীরে যায় জল শোষণের জন্য।

3.11 নাইট্রোজেন চক্রে মানুষের ভূমিকা কী?
উত্তর: নাইট্রোজেন চক্রে মানুষের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ভূমিকাই আছে —
i) সার উৎপাদন: মানুষ হেবার-বস পদ্ধতিতে কারখানায় নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ করে অ্যামোনিয়া সার তৈরি করছে, যা কৃষিতে সাহায্য করে।
ii) নেতিবাচক প্রভাব: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটি ও জল দূষিত হয়ে ইউট্রোফিকেশন ঘটে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে NO2 গ্যাস বেড়ে অ্যাসিড বৃষ্টি হয়। নির্বিচারে বন ধ্বংসের ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হচ্ছে এবং মাটির উর্বরতা কমছে।

3.12 জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা লেখো।
উত্তর: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা হল —
i) খাদ্য ও ওষুধ: জীববৈচিত্র্য থেকেই আমরা খাদ্য, ওষুধ, বস্ত্র পাই। বহু ওষুধের উৎস হল উদ্ভিদ ও প্রাণী।
ii) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য: জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে, পরাগযোগ, বর্জ্য পরিশোধন, জলচক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
iii) জিন ভান্ডার ও অর্থনীতি: এটি হল বিশাল জিন ভান্ডার, যা থেকে উন্নত শস্য তৈরি হয় এবং পর্যটন ও অর্থনীতিতে সাহায্য করে। এছাড়া নান্দনিক ও নৈতিক মূল্যও আছে।

3.13 শব্দ দূষণের ক্ষতি লেখো।
উত্তর: শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি হল —
i) শ্রবণ ক্ষতি: দীর্ঘদিন 80 ডেসিবেলের বেশি শব্দে থাকলে সাময়িক ও স্থায়ী বধিরতা হতে পারে।
ii) শারীরিক ক্ষতি: উচ্চ শব্দে মাথা ধরা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাঘাত, ক্লান্তি দেখা দেয়।
iii) মানসিক ক্ষতি: কাজে মনোযোগ কমে যায়, বিরক্তি, মানসিক অস্থিরতা, শিশুদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।

—   ➣Read More


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

2 thoughts on “Madhyamik Life sci Model Answers-7

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading