Madhyamik Life sci Model Answers-8
Madhyamik Life Sci Model Answers-8
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-8) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Life Sci Model Answers-8

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)
বিভাগ – ক: MCQ – সব প্রশ্ন আবশ্যিক (1×15=15)
1.1 কোষ বিভাজনে সাহায্য করে –
[A] সাইটোকাইনিন [B] ABA [C] ইথিলিন [D] ফ্লোরিজেন
উত্তর: [A] সাইটোকাইনিন – কোষ বিভাজন ঘটায়, কাইনিন নাম।
1.2 মানুষের দর্শন অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে –
[A] গুরুমস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোব [B] ফ্রন্টাল লোব [C] প্যারাইটাল [D] টেম্পোরাল
উত্তর: [A] অক্সিপিটাল লোব
1.3 মাছের গমন অঙ্গ –
[A] পাখনা [B] পা [C] ডানা [D] সিলিয়া
উত্তর: [A] পাখনা
1.4 মিয়োসিসে ক্রসিং ওভার ঘটে –
[A] প্যাকাইটিন দশায় [B] জাইগোটিন [C] লেপ্টোটিন [D] ডায়াকাইনেসিস
উত্তর: [A] প্যাকাইটিন দশায়
1.5 মানুষের ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম –
[A] 23 টি [B] 46 টি [C] 22 টি [D] 44 টি
উত্তর: [A] 23 টি – হ্যাপ্লয়েড।
1.6 টিউলিপ ফুল ফোটা কোন চলন –
[A] থার্মোন্যাস্টি [B] ফটোন্যাস্টি [C] সিসমোন্যাস্টি [D] কেমোন্যাস্টি
উত্তর: [A] থার্মোন্যাস্টি – তাপে ফোটে।
1.7 পরাগযোগের পর ডিম্বাশয় পরিণত হয় –
[A] ফলে [B] বীজে [C] ভ্রূণে [D] ভ্রূণস্থলীতে
উত্তর: [A] ফলে – তবে নিষেকের পর ফলে, প্রশ্নে পরাগযোগের পর লেখা আছে, আসলে নিষেকের পর।
1.8 একটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ –
[A] থ্যালাসেমিয়া [B] হিমোফিলিয়া [C] বর্ণান্ধতা [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] থ্যালাসেমিয়া – হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা X-লিংকড।
1.9 প্রাণের উৎপত্তি হয় –
[A] সমুদ্রের জলে [B] বায়ুতে [C] মাটিতে [D] মহাকাশে
উত্তর: [A] সমুদ্রের জলে – আদি সমুদ্রে।
1.10 জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায় –
[A] সুন্দরী গাছে [B] ক্যাকটাসে [C] পদ্মে [D] শিমূলে
উত্তর: [A] সুন্দরী গাছে
1.11 ডিনাইট্রিফিকেশন করে –
[A] সিউডোমোনাস [B] নাইট্রোসোমোনাস [C] রাইজোবিয়াম [D] অ্যাজোটোব্যাকটর
উত্তর: [A] সিউডোমোনাস
1.12 ভারতে হাতি প্রকল্প শুরু হয় –
[A] 1992 [B] 1973 [C] 1972 [D] 1980
উত্তর: [A] 1992
1.13 COD এর পুরো নাম –
[A] Chemical Oxygen Demand [B] Combined Oxygen Demand [C] Central Oxygen Demand [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] Chemical Oxygen Demand
1.14 বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী –
[A] CO2, CH4, N2O [B] O2, N2 [C] H2, He [D] CO, SO2
উত্তর: [A] CO2, CH4, N2O
1.15 সুষুম্না কান্ডের কাজ নয় –
[A] প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ [B] মস্তিষ্কে বার্তা পাঠানো [C] চিন্তা করা [D] উদ্দীপনা পরিবহন
উত্তর: [C] চিন্তা করা – চিন্তা সেরিব্রাম করে।
Madhyamik Life Sci Model Answers-8
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত
2.1 একটি উদ্ভিদ হরমোনের নাম লেখো যা ফল পাকায়।
উত্তর: ফল পাকাতে সাহায্য করে এমন একটি উদ্ভিদ হরমোন হল ইথিলিন। ইথিলিনকে পাকানো হরমোন বা রাইপেনিং হরমোনও বলা হয়, এটি ফলের মধ্যে শর্করা বৃদ্ধি করে ফলকে পাকতে সাহায্য করে।
2.2 মানুষের চোখের রেটিনায় কয় প্রকার কোষ থাকে?
উত্তর: মানুষের চোখের রেটিনায় প্রধানত দুই প্রকার আলোক সংবেদী কোষ থাকে – রড কোষ ও কোন কোষ। এছাড়া রেটিনায় বাইপোলার কোষ ও গ্যাংলিয়ন কোষও থাকে যা স্নায়ু সংকেত মস্তিষ্কে পাঠায়।
2.3 চলন ও গমনের পার্থক্য কী?
উত্তর: চলন হল জীবের কোনো অঙ্গ বা অংশের স্থান পরিবর্তন, এতে সমগ্র দেহের স্থান পরিবর্তন নাও হতে পারে, যেমন হাত নাড়ানো। আর গমন হল সমগ্র দেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থান পরিবর্তন, যেমন হাঁটা, দৌড়ানো।
2.4 হাইপোথ্যালামাসের কাজ কী?
উত্তর: হাইপোথ্যালামাস মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর কাজ হল ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম, দেহের তাপমাত্রা, আবেগ এবং পিটুইটারি গ্রন্থির মাধ্যমে অন্যান্য হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করা।
2.5 FSH এর কাজ কী?
উত্তর: FSH বা ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে এবং স্ত্রীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণুকে পরিণত করে এবং ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপনা দেয়।
2.6 জিনোম কী?
উত্তর: কোনো একটি জীবের দেহে অবস্থিত সমস্ত জিনের সমষ্টিকে জিনোম বলে। যেমন – মানুষের জিনোমে 23 জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে অবস্থিত সমস্ত DNA-ই হল মানুষের জিনোম।
2.7 অ্যামাইটোসিস কোথায় ঘটে?
উত্তর: অ্যামাইটোসিস হল সরাসরি কোষ বিভাজন, যেখানে নিউক্লিয়াস সরাসরি দুভাগে ভাগ হয়। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, আদ্যপ্রাণী যেমন অ্যামিবা এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভ্রূণের আবরণী কলায় ঘটে।
2.8 বুলবিল কী?
উত্তর: বুলবিল হল কাক্ষিক মুকুলের রূপান্তরিত, গোলাকার ও মাংসল একটি অঙ্গ যা অযৌন জননে সাহায্য করে। এটি মাতৃ উদ্ভিদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। যেমন – চুপড়ি আলুতে বুলবিল দেখা যায়।
2.9 নিষেকের পর ডিম্বক কীসে পরিণত হয়?
উত্তর: নিষেকের পর ডিম্বক বীজে পরিণত হয় এবং ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয়। বীজের মধ্যে ভ্রূণ সুপ্ত অবস্থায় থাকে, যা পরে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
2.10 বয়ঃসন্ধিতে ছেলেদের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাবে নানা পরিবর্তন ঘটে, যেমন – দাড়ি-গোঁফ গজানো, কণ্ঠস্বর ভারী ও গম্ভীর হওয়া, পেশি বৃদ্ধি পাওয়া এবং শুক্রাশয়ে শুক্রাণু উৎপাদন শুরু হওয়া।
2.11 অ্যালিল কী?
উত্তর: একই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনের বিকল্প রূপকে অ্যালিল বলে। অ্যালিলগুলি সমসংস্থ ক্রোমোজোমের একই লোকাসে অবস্থান করে। যেমন – মটর গাছের উচ্চতার জন্য T (লম্বা) এবং t (বেঁটে) হল পরস্পরের অ্যালিল।
2.12 ক্যারিওটাইপ কী?
উত্তর: কোনো জীবের দেহকোষের সমস্ত ক্রোমোজোমের সংখ্যা, আকার এবং আকৃতি অনুযায়ী সাজানো চিত্রকে ক্যারিওটাইপ বলে। ক্যারিওটাইপ দেখে ক্রোমোজোমজনিত রোগ নির্ণয় করা যায়।
2.13 ডারউইনের তত্ত্বের মূল কথা কী?
উত্তর: ডারউইনের তত্ত্বের মূল কথা হল প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা যোগ্যতমের উদবর্তন। তাঁর মতে, প্রকৃতিতে জীবন সংগ্রামে যে জীব সবচেয়ে যোগ্য, সেই জীবই টিকে থাকবে এবং তার বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হবে।
2.14 অর্জিত বৈশিষ্ট্য কাকে বলে?
উত্তর: জীব তার জীবদ্দশায় পরিবেশের প্রভাবে বা নিজের চেষ্টায় যে বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তাকে অর্জিত বৈশিষ্ট্য বলে। যেমন – ব্যায়াম করে পেশি বৃদ্ধি করা। ল্যামার্কের মতে এই বৈশিষ্ট্য বংশগত হয়, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানে তা সমর্থিত নয়।
2.15 নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ দাও।
উত্তর: নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ হল মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স, কক্সিস বা লেজের হাড় এবং তিমির দেহে অবস্থিত পশ্চাৎ পা। এই অঙ্গগুলি পূর্বপুরুষদের দেহে কার্যকর ছিল কিন্তু বর্তমানে নিষ্ক্রিয়।
2.16 হ্যালোফাইট কী?
উত্তর: যেসব উদ্ভিদ অতিরিক্ত লবণাক্ত মাটি বা জলে জন্মায়, তাদের হ্যালোফাইট বা লবণাম্বু উদ্ভিদ বলে। যেমন – সুন্দরবনের সুন্দরী, গরান, গেওয়া গাছ হল হ্যালোফাইট।
2.17 ক্রায়ো সংরক্ষণ কী?
উত্তর: ক্রায়ো সংরক্ষণ হল অতি নিম্ন তাপমাত্রায় অর্থাৎ -196°C তরল নাইট্রোজেনে কোষ, বীজ, শুক্রাণু, ডিম্বাণু এবং DNA সংরক্ষণ করার পদ্ধতি। এটি এক্স-সিটু সংরক্ষণের একটি আধুনিক পদ্ধতি।
2.18 ওজোন স্তর কোথায় থাকে?
উত্তর: ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 20 থেকে 35 কিলোমিটার উপরে এই ওজোন স্তর থাকে, যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
2.19 অ্যাসিড বৃষ্টি কী?
উত্তর: যখন বায়ুমণ্ডলের সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2) গ্যাস জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) ও নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) তৈরি করে বৃষ্টির জলের সাথে মাটিতে নেমে আসে, তখন তাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
2.20 মেন্ডেলের পরীক্ষায় প্রকট গুণ কোনটি ছিল?
উত্তর: মেন্ডেলের পরীক্ষায় প্রকট গুণগুলি ছিল লম্বা কাণ্ড, বেগুনি ফুল, হলুদ বীজ, গোল বীজ, সবুজ ফলত্বক ইত্যাদি। প্রকট গুণগুলিকে সাধারণত বড় হাতের অক্ষর যেমন T, Y, R দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
2.21 শীতঘুমের উদাহরণ দাও।
উত্তর: শীতঘুম বা হাইবারনেশনের উদাহরণ হল ব্যাঙ, ভাল্লুক, কাঠবেড়ালি। এরা শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমিয়ে থাকে এবং এই সময় তাদের বিপাক ক্রিয়া অত্যন্ত কমে যায়।
Madhyamik Life Sci Model Answers-8
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত
3.1 ট্রপিক চলন কী? প্রকারভেদ লেখো।
উত্তর: যখন বাহ্যিক উদ্দীপকের গতিপথ অনুযায়ী উদ্ভিদের কোনো অঙ্গের বক্রচলন ঘটে, তখন তাকে ট্রপিক চলন বলে। এই চলন উদ্দীপকের দিকে হলে পজিটিভ এবং বিপরীতে হলে নেগেটিভ ট্রপিক চলন বলে। এটি অক্সিন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, ধীর ও স্থায়ী চলন।
প্রকারভেদ: উদ্দীপকের প্রকৃতি অনুযায়ী ট্রপিক চলন পাঁচ প্রকার – i) ফটোট্রপিজম – আলোর দিকে চলন, যেমন কাণ্ডের আলোর দিকে বাঁকা। ii) জিওট্রপিজম – মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে, যেমন মূলের নিচের দিকে বৃদ্ধি। iii) হাইড্রোট্রপিজম – জলের দিকে, যেমন মূলের জলের দিকে বৃদ্ধি। iv) কেমোট্রপিজম – রাসায়নিকের দিকে, যেমন পরাগনালিকার ডিম্বাণুর দিকে বৃদ্ধি। v) থিগমোট্রপিজম – স্পর্শের দিকে, যেমন মটর গাছের আকর্ষের কোনো অবলম্বনকে জড়িয়ে ধরা।
3.2 চোখে উপযোজন কী? কীভাবে হয়?
উত্তর: দূরের বস্তু ও কাছের বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্বের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে উপযোজন বা অ্যাকোমোডেশন বলে।
কীভাবে হয়: সিলিয়ারি পেশি ও সাসপেনসরি লিগামেন্ট দ্বারা এই উপযোজন ঘটে। যখন দূরের বস্তু দেখি, তখন সিলিয়ারি পেশি প্রসারিত হয়, লিগামেন্ট টান টান হয়, লেন্স সরু ও চ্যাপ্টা হয়, ফোকাস দূরত্ব বাড়ে। আবার কাছের বস্তু দেখার সময় সিলিয়ারি পেশি সংকুচিত হয়, লিগামেন্ট ঢিলে হয়, লেন্স মোটা ও উত্তল হয়, ফোকাস দূরত্ব কমে। এইভাবে রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
3.3 স্নায়ুতন্ত্র ও অন্তঃক্ষরা তন্ত্রের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্র: i) এটি তড়িৎ-রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে কাজ করে। ii) বার্তা নিউরন বা স্নায়ুর মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাহিত হয়। iii) এর প্রভাব ক্ষণস্থায়ী এবং নির্দিষ্ট অঙ্গে সীমাবদ্ধ। iv) এটি ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক উভয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
অন্তঃক্ষরা তন্ত্র: i) এটি রাসায়নিক বার্তাবাহক হরমোনের মাধ্যমে কাজ করে। ii) হরমোন রক্তের মাধ্যমে ধীরগতিতে বাহিত হয়। iii) এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যাপক। iv) এটি বৃদ্ধি, বিপাক, জনন ইত্যাদি ধীর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
3.4 মাইটোসিস ও অ্যামাইটোসিসের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
মাইটোসিস: i) এটি উন্নত উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষে ঘটে। ii) এখানে ক্রোমোজোম স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং 4টি দশায় (প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ) বিভাজন সম্পন্ন হয়। iii) বেমতন্তু গঠিত হয় এবং নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস লুপ্ত হয়। iv) অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে।
অ্যামাইটোসিস: i) এটি আদ্যপ্রাণী, ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু অমেরুদণ্ডী প্রাণীতে ঘটে। ii) এখানে নিউক্লিয়াস সরাসরি মাঝখানে সংকুচিত হয়ে দুভাগ হয়, কোনো দশা থাকে না। iii) ক্রোমোজোম, বেমতন্তু দেখা যায় না এবং নিউক্লিয় পর্দা লুপ্ত হয় না। iv) এটি সবচেয়ে সরল কোষ বিভাজন।
3.5 খন্ডীভবন ও পুনরুৎপাদনের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
খন্ডীভবন: i) এটি এক ধরনের স্বাভাবিক অযৌন জনন। ii) জীবের দেহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কয়েকটি খন্ডে ভেঙে যায় এবং প্রতিটি খন্ড থেকে একটি নতুন জীব সৃষ্টি হয়। iii) যেমন – স্পাইরোগাইরা শৈবালে খন্ডীভবন দেখা যায়।
পুনরুৎপাদন: i) এটি ক্ষত নিরাময় সংক্রান্ত অযৌন জনন। ii) দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে বা খন্ডিত হলে সেই খন্ডিত অংশ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন জীব সৃষ্টি হয়। iii) যেমন – প্ল্যানেরিয়া, স্পঞ্জ, তারামাছে পুনরুৎপাদন দেখা যায়। উন্নত প্রাণীতে শুধু ক্ষতস্থান পূরণ হয়, পূর্ণ জীব তৈরি হয় না।
3.6 স্বপরাগযোগের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।
উত্তর:
সুবিধা: i) স্বপরাগযোগে কোনো বাহকের প্রয়োজন হয় না, তাই পরাগযোগ নিশ্চিতভাবে ঘটে। ii) বংশের বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। iii) কম সংখ্যক পরাগরেণুর প্রয়োজন হয়, শক্তি কম খরচ হয়।
অসুবিধা: i) স্বপরাগযোগে দুটি একই গাছের মধ্যে পরাগযোগ হওয়ায় কোনো নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয় না। ii) এর ফলে উৎপন্ন বীজ দুর্বল, অনুর্বর এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়। iii) ক্রমাগত স্বপরাগযোগে প্রজাতির অবনতি ঘটে এবং বিবর্তনে কোনো ভূমিকা নেই।
3.7 মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম কী?
উত্তর: মেন্ডেলের সূত্র সবসময় মেনে চলে না, কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়, যেমন —
i) অসম্পূর্ণ প্রকটতা: সন্ধ্যামালতী ফুলে লাল x সাদা = গোলাপি ফুল হয়, মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
ii) সহপ্রকটতা: মানুষের AB রক্তগ্রুপে A ও B উভয় অ্যালিলই একসাথে প্রকাশ পায়।
iii) লিঙ্গ সংযোজিত বংশগতি: বর্ণান্ধতা, হিমোফিলিয়া মেন্ডেলের সূত্র মানে না, X ক্রোমোজোমের মাধ্যমে যায়।
iv) লিঙ্কেজ ও মাল্টিপল অ্যালিল: একই ক্রোমোজোমে কাছাকাছি জিনগুলি একসাথে যায়, যাকে লিঙ্কেজ বলে।
Madhyamik Life Sci Model Answers-8
3.8 বর্ণান্ধতা ও থ্যালাসেমিয়ার পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বর্ণান্ধতা: i) এটি একটি X-ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন রোগ। ii) রেটিনার কোন কোষে লাল-সবুজ রঞ্জকের ত্রুটির জন্য হয়। iii) আক্রান্ত ব্যক্তি লাল-সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না, পুরুষদের মধ্যে বেশি।
থ্যালাসেমিয়া: i) এটি একটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ, 11 ও 16 নং ক্রোমোজোমে জিন থাকে। ii) হিমোগ্লোবিনের আলফা বা বিটা শৃঙ্খল সংশ্লেষে ত্রুটির জন্য হয়। iii) প্রধান লক্ষণ হল তীব্র রক্তাল্পতা, জন্ডিস, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া। এটি পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েরই হতে পারে।
3.9 বিবর্তনে ডারউইনের পর্যবেক্ষণগুলি কী?
উত্তর: ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের পর্যবেক্ষণগুলি ছিল —
i) অত্যধিক বংশবৃদ্ধি: জীব জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করে।
ii) খাদ্য ও স্থান সীমিত: পরিবেশে খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত।
iii) প্রকরণ: জীবের মধ্যে নানা প্রকরণ দেখা যায়।
iv) অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: সীমিত সম্পদের জন্য জীবের মধ্যে অন্তঃপ্রজাতি, আন্তঃপ্রজাতি ও পরিবেশের সাথে সংগ্রাম হয়।
এই পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুটি সিদ্ধান্তে আসেন – যোগ্যতমের উদবর্তন এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি।
3.10 উটের লোহিত রক্তকণিকার অভিযোজন লেখো।
উত্তর: উটের লোহিত রক্তকণিকার বিশেষ অভিযোজন হল —
i) আকৃতি: মানুষের RBC গোলাকার, কিন্তু উটের RBC ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার। ফলে ঘন রক্তেও সহজে চলাচল করতে পারে।
ii) জল সহনশীলতা: ডিম্বাকার হওয়ায় বেশি জল শোষণ করে ফেটে যায় না, আবার জলের অভাবে কুঁচকে যায় না। এটি অধিক অভিস্রবণ চাপ সহ্য করতে পারে।
iii) গুরুত্ব: মরুভূমিতে দীর্ঘদিন জল না পেয়ে রক্ত ঘন হয়ে গেলেও RBC রক্ত চলাচল বজায় রাখে এবং জল পান করার পর দ্রুত জল শোষণ করে ফেটে যায় না।
3.11 মাইকোরাইজা কী? গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: যখন কোনো ছত্রাক উদ্ভিদের মূলের সাথে মিথোজীবী সম্পর্ক গড়ে তোলে, তখন তাকে মাইকোরাইজা বলে।
এই সম্পর্কে ছত্রাক মাটি থেকে জল ও ফসফেট শোষণ করে উদ্ভিদকে দেয় এবং উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষে তৈরি খাদ্য ছত্রাককে দেয়।
গুরুত্ব: i) উদ্ভিদের জল ও খনিজ শোষণ ক্ষমতা বাড়ে, বিশেষ করে ফসফেট। ii) মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। iii) পাইন, অর্কিড, শাল গাছে মাইকোরাইজা দেখা যায়।
3.12 জীববৈচিত্র্য কী? প্রকারভেদ লেখো।
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা পৃথিবীতে উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে জীববৈচিত্র্য বা Biodiversity বলে।
প্রকারভেদ: জীববৈচিত্র্য তিন প্রকার —
i) জিনগত বৈচিত্র্য: একই প্রজাতির জীবের মধ্যে জিনের পার্থক্যের জন্য বৈচিত্র্য, যেমন – মানুষের মধ্যে উচ্চতা, গায়ের রং।
ii) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: একটি অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে যে বৈচিত্র্য, যেমন – সুন্দরবনে বাঘ, হরিণ, কুমির।
iii) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য: বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র যেমন – মরুভূমি, অরণ্য, জলাভূমির মধ্যে বৈচিত্র্য।
3.13 জৈব বিবর্ধন কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে অবিশ্লেষ্য কীটনাশক বা দূষক পদার্থের ঘনত্ব নিম্ন পুষ্টিস্তর থেকে উচ্চ পুষ্টিস্তরে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়াকে জৈব বিবর্ধন বা Biomagnification বলে।
উদাহরণ: জমিতে DDT ব্যবহার করা হলে জলে তার ঘনত্ব থাকে 0.01 ppm। সেই জলের শৈবাল খায় ছোট মাছ, তখন মাছে ঘনত্ব হয় 1 ppm। সেই মাছ বড় মাছ বা পাখি খেলে ঘনত্ব হয় 10 ppm। মানুষ যখন সেই মাছ বা পাখি খায়, তখন মানুষের দেহে DDT-র ঘনত্ব আরও অনেক বেশি হয়ে ক্যান্সার ও স্নায়ুর ক্ষতি করে।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-9 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-7/2 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-8/2 » NIRYAS.IN