Narendra Modi, The Legendary Prime Minister of India
Prime Minister’s Story in India
1947 সালের 15ই আগস্ট স্বাধীন ভারতের আত্মপ্রকাশ । সেই সময়কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার ও তার প্রধানমন্ত্রী ভারতের অগ্রগতিকে তরান্বিত করার জন্য তাদের কার্যাবলী সম্পাদন করেন । ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁদের কার্যকালে সংঘটিত ঘটনাবলী থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে বিভিন্ন প্রশ্ন এসে থাকে । ঘটনাপরম্পরা সমন্ধে সম্যক ধারণা থাকলে এই প্রশ্নগুলির উত্তর সহজেই দেওয়া সম্ভব । বিষয়টি মাথায় রেখে গল্পের ছলে ভারতের বিভিন্ন প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল ও তাঁদের সময়কালীন ঘটনাবলী উপস্থাপন করা হল Prime Minister’s Story তে । Narendra Modi পোস্টে থাকছে ভারতের চতুর্দশ প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi, The Legendary Prime Minister of India) ব্যক্তিগত jiban সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি ।
নরেন্দ্র মোদী, ভারতের কিংবদন্তি প্রধানমন্ত্রী

⟽ Previous Post : BRICS 2026: ভারতে বিশ্ব শক্তির মহামঞ্চ – ইতিহাস, বিস্তার ও তাৎপর্য
নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী (Narendra Modi): নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী 1950 সালের 17ই সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের মেহসানা জেলার ভাদনগর নামক ছোট্ট শহরে এক গুজরাটি হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন স্বর্গীয় দামোদরদাস মূলচাঁদ মোদী এবং মাতা হলেন হীরাবেন মোদী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ছোটবেলায় পিতার চায়ের দোকানে সাহায্য করতেন এবং ভাদনগর রেল স্টেশনে চা বিক্রি করতেন বলে জানা যায়।
বাল্যকাল থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এর প্রতি আকৃষ্ট হন। মাত্র 8 বছর বয়সে তিনি RSS এর বাল স্বয়ংসেবক হিসাবে যোগ দেন। কৈশোরে তিনি গৃহত্যাগ করে সন্ন্যাস জীবনের খোঁজে দুই বছর ভারত ভ্রমণ করেন এবং হিমালয় সহ বিভিন্ন স্থানে যান। পরবর্তীতে তিনি আবার সংঘের কাজে ফিরে আসেন এবং 1971 সালে RSS এর পূর্ণকালীন প্রচারক হন। 1975 সালে জরুরি অবস্থার সময় তিনি আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
1985 সালে RSS তাকে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) নিযুক্ত করে। সংগঠনের কাজে তার নিষ্ঠা ও কৌশল দ্রুত নজর কাড়ে। 1987 সালে তিনি গুজরাট বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দলের ভিতকে মজবুত করতে অক্লান্ত কাজ করেন। 1990 সালে লালকৃষ্ণ আদবানীর ঐতিহাসিক সোমনাথ থেকে অযোধ্যা রথযাত্রা এবং 1991-92 সালে মুরলী মনোহর যোশীর কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত একতা যাত্রায় তিনি ছিলেন প্রধান সংগঠকের ভূমিকায়। এই দুই যাত্রাই বিজেপিকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করে তোলে। এরপর তার উত্থান আরও দ্রুত হয় — 1995 সালে তিনি বিজেপির জাতীয় সম্পাদক এবং 1998 সালে দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে উন্নীত হন। এই সময়ে তিনি হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবের দলীয় কার্যক্রমের দায়িত্ব সামলান। এই দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাই তাকে 2001 সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তুলেছিল।
2001 সালের 7ই অক্টোবর কেশুভাই প্যাটেলের বিকল্প হিসাবে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের চতুর্দশতম মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। তখন গুজরাট ভুজ ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনের কঠিন সময় পার করছিল। এরপর তিনি 2002, 2007 এবং 2012 সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরপর জয়লাভ করে একটানা 13 বছর (2001-2014) পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকেন, যা গুজরাটের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদ।
তার এই সময়কালে গুজরাটের উন্নয়নের তিনটি স্তম্ভ বিশেষ উল্লেখযোগ্য, যথাঃ i. Vibrant Gujarat Summit: 2003 সালে শুরু হওয়া এই শিল্প সম্মেলন গুজরাটকে দেশের সবচেয়ে বিনিয়োগ-বান্ধব রাজ্যে পরিণত করে। টাটা ন্যানো কারখানা গুজরাটে নিয়ে আসা তার বড় সাফল্য। ii. জ্যোতিগ্রাম যোজনা: গ্রামের কৃষকদের জন্য আলাদা ফিডার এবং 24 ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের এই যোজনা গুজরাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দেয়। iii. নর্মদা বাঁধ ও কৃষি বিপ্লব: সর্দার সরোবর বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি, সুজলাম সুফলাম এবং কৃষি মহোৎসবের মাধ্যমে গুজরাটে কৃষি বৃদ্ধির হার 10% ছাড়িয়ে যায়।
2013 সালের 13ই সেপ্টেম্বর গোয়ায় বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে দল আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের মুখ হিসাবে ঘোষণা করে। 2014 সালের ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশে “মোদী লেহের” বয়ে যায়। “আচ্ছে দিন আনে ওয়ালে হ্যায়” এবং “আবকি বার মোদী সরকার” স্লোগানে বিজেপি এককভাবে 282টি আসন পেয়ে 30 বছর পর দেশে প্রথম পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠন করে। এর মাধ্যমে তিনি একটি নতুন ইতিহাস তৈরি করেন — স্বাধীন ভারতে জন্মগ্রহণকারী (জন্ম 1950, স্বাধীনতা 1947-এর পর) প্রথম ব্যক্তি হিসাবে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। 26শে মে 2014, রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে তিনি ভারতের 14তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবার শপথ গ্রহণ করেন।
2019 সালের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে “ফির একবার মোদী সরকার” স্লোগানে তিনি পুনরায় ঝড় তোলেন। বিজেপি আগের থেকেও বেশি 303টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং 30শে মে 2019 তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন, যা “Modi 2.0” নামে পরিচিত। এই 5 বছরে তাঁর সরকার এমন কিছু ঐতিহাসিক ও কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় যা দশকের পর দশক ধরে আটকে ছিল, যথাঃ i. Article 370 বিলোপ (5ই আগস্ট 2019): জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে তাকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা। ii. রাম মন্দির নির্মাণ: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর 5ই আগস্ট 2020-এ অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমিপূজন এবং 22শে জানুয়ারি 2024-এ প্রাণ প্রতিষ্ঠা। iii. তিন তালাক বিলোপ (2019): মুসলিম মহিলাদের অধিকার সুরক্ষায় তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা। iv. CAA পাস (2019): পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের আইন। এছাড়াও এই পর্বেই বিশ্বের বৃহত্তম কোভিড টিকাকরণ অভিযান, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
2024 সালের অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে 240টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে আসে এবং NDA জোট 293টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। 9ই জুন 2024 তিনি তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেন, যা “Modi 3.0” নামে পরিচিত। এর ফলে তিনি জওহরলাল নেহরুর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। আর তারপর আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত — 10ই জুন 2026 তিনি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর টানা 4,398 দিন প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড অতিক্রম করেন। বর্তমানে তিনি ভারতের 14তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এবং বিকশিত ভারত-2047 (Viksit Bharat 2047) – অর্থাৎ 2047 সালে স্বাধীনতার 100 বছরে ভারতকে একটি উন্নত, আত্মনির্ভর ও বিশ্বগুরু হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন।
ভাদনগরের চা বিক্রেতা থেকে 3 বারের প্রধানমন্ত্রী — এ শুধু একজন ব্যক্তির নয়, এ এক যুগের গল্প। 75তম জন্মদিনে দেশের প্রধান সেবককে শতকোটি প্রণাম। শুভ জন্মদিন মোদী জী! ➣পড়ুন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী’র গল্প
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.