Madhyamik Life sci Model Answers-1
Madhyamik Life Sci Model Answers-1
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-1) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Life Sci Model Answers-1

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)
বিভাগ – ক: MCQ – সব প্রশ্ন আবশ্যিক (1×15=15)
1.1 মানুষের অক্ষিগোলকের রেটিনায় যে কোষ রঙ চিনতে সাহায্য করে –
[A] রড কোষ [B] কোন কোষ [C] স্নায়ু কোষ [D] গ্রন্থি কোষ
উত্তর: [B] কোন কোষ – রড কোষ আলো-আঁধারি দেখে, কোন কোষ রঙ চেনে
1.2 উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে –
[A] অক্সিন [B] জিব্বেরেলিন [C] সাইটোকাইনিন [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি
1.3 মানুষের সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা –
[A] 12 জোড়া [B] 31 জোড়া [C] 10 জোড়া [D] 24 জোড়া
উত্তর: [B] 31 জোড়া – করোটি 12 জোড়া
1.4 মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোম বিষুব অঞ্চলে আসে –
[A] প্রোফেজ [B] মেটাফেজ [C] অ্যানাফেজ [D] টেলোফেজ
উত্তর: [B] মেটাফেজ
1.5 মানব দেহে জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা –
[A] 46 [B] 23 [C] 44 [D] 22
উত্তর: [B] 23 – হ্যাপ্লয়েড, দেহকোষে 46
1.6 ইতর পরাগযোগের বাহক –
[A] বায়ু [B] জল [C] পতঙ্গ [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি
1.7 মটর গাছের ক্ষেত্রে হলুদ বীজ (Y) সবুজ বীজের (y) উপর প্রকট, Yy x Yy সংকরায়ণে হলুদ বীজের অনুপাত –
[A] 75% [B] 25% [C] 50% [D] 100%
উত্তর: [A] 75% – জিনোটাইপ YY, Yy, Yy = 3/4 হলুদ, 1/4 সবুজ
1.8 থ্যালাসেমিয়া হল –
[A] অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন [B] লিঙ্গ সংযোজিত [C] অটোজোমাল প্রকট [D] পরিবেশগত রোগ
উত্তর: [A] অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন
1.9 ঘোড়ার বিবর্তনে আদি ঘোড়া –
[A] ইওহিপ্পাস [B] মেসোহিপ্পাস [C] ইকুয়াস [D] প্লায়োহিপ্পাস
উত্তর: [A] ইওহিপ্পাস – 60 মিলিয়ন বছর আগে
1.10 উটের কুঁজে সঞ্চিত থাকে –
[A] জল [B] ফ্যাট [C] গ্লাইকোজেন [D] প্রোটিন
উত্তর: [B] ফ্যাট – জল ভেবে ভুল করে সবাই
1.11 নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া –
[A] রাইজোবিয়াম [B] ল্যাকটোব্যাসিলাস [C] ই-কোলাই [D] ক্লস্ট্রিডিয়াম
উত্তর: [A] রাইজোবিয়াম – শিম্ব গোত্রীয় মূলে
1.12 ভারতে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ প্রথম –
[A] নীলগিরি [B] সুন্দরবন [C] কানহা [D] কাজিরাঙা
উত্তর: [A] নীলগিরি – 1986 সালে
1.13 বায়ু দূষণের ফলে হয় –
[A] ব্রঙ্কাইটিস [B] কলেরা [C] টাইফয়েড [D] ম্যালেরিয়া
উত্তর: [A] ব্রঙ্কাইটিস
1.14 জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (JFM) শুরু হয় –
[A] 1971 [B] 1990 [C] 1980 [D] 2000
উত্তর: [A] 1971 – পশ্চিমবঙ্গে আরাবারিতে প্রথম, সরকারিভাবে 1990 সালে সারা ভারতে
1.15 ক্যান্সারের কারণ –
[A] অনকোজিন [B] প্রোটো-অনকোজিনের সক্রিয়তা [C] উভয়ই [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [C] উভয়ই
➣মাধ্যমিক ভূগোল মডেল উত্তরপত্র দেখতে এখানে ক্লিক/টাচ করুন
Madhyamik Life Sci Model Answers-1
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর (1×21=21)
2.1 একটি নাইট্রোজেন বিহীন উদ্ভিদ হরমোনের নাম লেখো।
উত্তর: নাইট্রোজেন বিহীন একটি উদ্ভিদ হরমোন হল অক্সিন বা জিব্বেরেলিন বা ইথিলিন। এদের রাসায়নিক গঠনে নাইট্রোজেন থাকে না, অন্যদিকে সাইটোকাইনিন এবং ABA-তে নাইট্রোজেন থাকে।
2.2 মানব চোখের কোন অংশে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
উত্তর: মানব চোখের রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। বিশেষ করে রেটিনার হলুদ বিন্দু বা ফোবিয়া সেন্ট্রালিসে সবচেয়ে স্পষ্ট এবং উল্টো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, যা পরে সোজা হয়ে মস্তিষ্কে যায়।
2.3 একটি প্রাণীর গমনের উদাহরণ দাও যা ট্যাকটিক চলন।
উত্তর: ট্যাকটিক চলনের উদাহরণ হল ক্ল্যামাইডোমোনাসের আলোর দিকে গমন, যাকে ফটোট্যাকটিক চলন বলে। এছাড়া ইউগ্লিনার আলোর দিকে চলনও ট্যাকটিক চলনের উদাহরণ।
2.4 CNS এর পুরো নাম কী?
উত্তর: CNS এর পুরো নাম হল Central Nervous System, বাংলায় যাকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বলে। এটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে গঠিত।
2.5 একটি নিউরোট্রান্সমিটারের নাম লেখো।
উত্তর: একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার হল অ্যাসিটাইলকোলিন। অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটার হল ডোপামিন, সেরোটোনিন, GABA ইত্যাদি, যা এক স্নায়ুকোষ থেকে অন্য স্নায়ুকোষে সংকেত বহন করে।
2.6 কোষচক্রের কোন দশায় DNA সংশ্লেষ হয়?
উত্তর: কোষচক্রের ইন্টারফেজ দশার S দশায় বা Synthesis Phase-এ DNA সংশ্লেষ বা প্রতিলিপি গঠন হয়। এই দশায় DNA এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়।
2.7 ক্রসিং ওভার কোথায় ঘটে?
উত্তর: ক্রসিং ওভার মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-I দশার প্যাকাইটিন উপদশায় ঘটে। এই সময় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে।
2.8 একটি অযৌন জননের উদাহরণ দাও।
উত্তর: অযৌন জননের একটি উদাহরণ হল অ্যামিবার দ্বিবিভাজন। অন্যান্য উদাহরণ হল হাইড্রার কোরকোদগম এবং স্পাইরোগাইরার খন্ডীভবন।
2.9 পরাগরেণুর বাইরের আবরণকে কী বলে?
উত্তর: পরাগরেণুর বাইরের শক্ত আবরণকে এক্সাইন বলে। এটি স্পোরোপোলেনিন দিয়ে তৈরি, আর ভিতরের পাতলা আবরণকে ইনটাইন বলে।
2.10 মানুষের শুক্রাণু কোথায় উৎপন্ন হয়?
উত্তর: মানুষের শুক্রাণু শুক্রাশয়ের ভিতরে অবস্থিত সেমিনিফেরাস নালিকা বা শুক্রজনন নালিকায় উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াকে স্পার্মাটোজেনেসিস বলে।
2.11 মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের নাম কী?
উত্তর: মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের নাম হল স্বাধীন বিন্যাস সূত্র বা স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র। এই সূত্র অনুযায়ী, জননকোষ গঠনের সময় বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জিনগুলি পরস্পর থেকে স্বাধীনভাবে সঞ্চারিত হয়।
2.12 হিমোফিলিয়া কোন ধরনের বংশগত রোগ?
উত্তর: হিমোফিলিয়া হল একটি X-ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন বংশগত রোগ, যা লিঙ্গ সংযোজিত বা সেক্স-লিংকড রোগ। এই রোগে রক্ত তঞ্চনে ব্যাঘাত ঘটে।
2.13 একটি জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ দাও।
উত্তর: একটি জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ হল প্লাটিপাস বা লিমুলাস (রাজকাঁকড়া)। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে জিঙ্কো বাইলোবা একটি জীবন্ত জীবাশ্ম, যারা প্রাচীনকাল থেকে প্রায় অপরিবর্তিত আছে।
2.14 ল্যামার্কের মতবাদের মূল কথা কী?
উত্তর: ল্যামার্কের মতবাদের মূল কথা হল অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার এবং অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি। অর্থাৎ জীব পরিবেশের প্রভাবে যে বৈশিষ্ট্য অর্জন করে তা পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।
2.15 সমসংস্থ অঙ্গ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন একই কিন্তু কাজ আলাদা, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন – মানুষের হাত, পাখির ডানা, তিমির ফ্লিপার ও ঘোড়ার অগ্রপদ হল পরস্পর সমসংস্থ অঙ্গ।
2.16 সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল কেন থাকে?
উত্তর: সুন্দরী গাছ লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে জন্মায় যেখানে অক্সিজেনের অভাব হয়। তাই শ্বাসকার্যের জন্য এর কিছু মূল মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসে, যাদের শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে।
2.17 একটি ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ দাও।
উত্তর: ইন-সিটু সংরক্ষণের একটি উদাহরণ হল সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান বা কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান। এছাড়া নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভও ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ।
2.18 SPM এর পুরো নাম কী?
উত্তর: SPM এর পুরো নাম হল Suspended Particulate Matter, বাংলায় ভাসমান ধূলিকণা। এটি বায়ু দূষণের একটি প্রধান উপাদান।
2.19 একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: একটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস হল কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি হল মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), CFC এবং জলীয় বাষ্প।
2.20 মানুষের কত জোড়া ক্রোমোজোম অটোজোম?
উত্তর: মানুষের দেহে মোট 23 জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে 22 জোড়া হল অটোজোম এবং 1 জোড়া হল সেক্স ক্রোমোজোম। অটোজোমগুলি দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
2.21 মৌমাছির নৃত্য কী ধরনের আচরণ?
উত্তর: মৌমাছির নৃত্য হল একটি সামাজিক ও যোগাযোগমূলক সহজাত আচরণ। কর্মী মৌমাছি ওয়াগল নৃত্যের মাধ্যমে খাদ্যের উৎসের দূরত্ব ও দিক অন্য মৌমাছিদের জানায়।
➣মাধ্যমিক বাংলা মডেল উত্তরপত্র দেখতে এখানে ক্লিক/টাচ করুন
Madhyamik Life Sci Model Answers-1
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত উত্তর (2×12=24)
3.1 ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য হল —
i) উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: ট্রপিক চলন উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ উদ্দীপক যে দিক থেকে আসে, উদ্ভিদের বক্রতা সেই দিক অনুযায়ী হয়। যেমন – আলোর দিকে কাণ্ডের বাঁকা। অন্যদিকে ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, গতিপথের উপর নির্ভর করে না। যেমন – পদ্ম ফুল আলোর তীব্রতায় ফোটে।
ii) প্রকৃতি ও হরমোন নির্ভরতা: ট্রপিক চলন হল অক্সিন হরমোন নির্ভর, ধীরগতির এবং বৃদ্ধিজনিত স্থায়ী চলন। ন্যাস্টিক চলন সাধারণত দ্রুত এবং সাময়িক হয়, এটি টারগর চাপের পরিবর্তনে ঘটে। যেমন – লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শে বন্ধ হয়ে যাওয়া হল ন্যাস্টিক চলন।
3.2 প্রতিবর্ত চাপ কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে নির্দিষ্ট স্নায়ুপথে প্রতিবর্ত ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে প্রতিবর্ত চাপ বা Reflex Arc বলে।
এর পাঁচটি অংশ থাকে —
গ্রাহক (Receptor) → সংজ্ঞাবহ স্নায়ু (Sensory Nerve) → সুষুম্নাকাণ্ডের প্রতিবর্ত কেন্দ্র (Reflex Centre) → আজ্ঞাবহ স্নায়ু (Motor Nerve) → কারক অঙ্গ (Effector – পেশি/গ্রন্থি)
উদাহরণ: গরম পাত্রে হঠাৎ হাত লেগে গেলে সাথে সাথে হাত সরিয়ে নেওয়া হল প্রতিবর্ত ক্রিয়া। এখানে ত্বকের তাপগ্রাহক উদ্দীপনা গ্রহণ করে সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর মাধ্যমে সুষুম্নাকাণ্ডে পাঠায়, সেখান থেকে আজ্ঞাবহ স্নায়ুর মাধ্যমে হাতের পেশিতে আদেশ আসে এবং হাত সরে যায়।
3.3 হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
i) প্রকৃতি ও পরিবহন: হরমোন হল রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়ে রক্তের মাধ্যমে ধীরগতিতে বাহিত হয়। অন্যদিকে স্নায়ুতন্ত্রে বার্তা তড়িৎ-রাসায়নিক সংকেত রূপে স্নায়ুর মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাহিত হয়।
ii) কাজের স্থায়িত্ব ও গতি: হরমোনের ক্রিয়া ধীরে শুরু হয় কিন্তু প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সারা দেহে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত শুরু হয় কিন্তু প্রভাব ক্ষণস্থায়ী এবং নির্দিষ্ট অঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকে।
3.4 মাইটোসিসকে সমবিভাজন বলে কেন?
উত্তর: মাইটোসিসকে সমবিভাজন বলা হয় কারণ এই কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় এবং অপত্য কোষগুলিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। অর্থাৎ 2n ক্রোমোজোম বিশিষ্ট মাতৃকোষ থেকে 2n ক্রোমোজোম বিশিষ্ট অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়। ক্রোমোজোমের সংখ্যা সমান থাকায় দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ হয় এবং প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে, তাই একে সমবিভাজন বলে।
3.5 স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
i) সংজ্ঞা ও বাহক: স্বপরাগযোগ হল একই ফুলের বা একই গাছের দুটি ফুলের মধ্যে পরাগযোগ, এতে কোনো বাহকের প্রয়োজন হয় না। ইতর পরাগযোগ হল একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন গাছের ফুলের মধ্যে পরাগযোগ, এতে বায়ু, জল, পতঙ্গ, পাখি ইত্যাদি বাহকের প্রয়োজন হয়।
ii) গুরুত্ব: স্বপরাগযোগে বংশের বিশুদ্ধতা বজায় থাকে কিন্তু কোনো নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয় না। ইতর পরাগযোগে নতুন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে প্রকরণ সৃষ্টি হয়, যা বিবর্তনে সহায়ক এবং উন্নত বীজ সৃষ্টি হয়।
3.6 যৌন ও অযৌন জননের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
i) জনক ও গ্যামেট: অযৌন জননে একটি মাত্র জনক অংশ নেয়, গ্যামেট গঠন ও নিষেক ঘটে না, এটি মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে। যৌন জননে দুটি জনক (পুং ও স্ত্রী) অংশ নেয়, গ্যামেট গঠন ও নিষেক অপরিহার্য এবং মিয়োসিস বিভাজন ঘটে।
ii) প্রকরণ ও বিবর্তন: অযৌন জননে অপত্য জীব মাতৃ জীবের হুবহু অনুরূপ হয়, কোনো প্রকরণ সৃষ্টি হয় না এবং এটি দ্রুত সম্পন্ন হয়। যৌন জননে পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে প্রকরণ সৃষ্টি হয়, যা বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
3.7 প্রকট ও প্রচ্ছন্ন গুণের পার্থক্য লেখো উদাহরণ সহ।
উত্তর: যে গুণ হেটেরোজাইগাস অবস্থায় (Yy) প্রকাশ পায়, তাকে প্রকট গুণ বলে। আর যে গুণ শুধুমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থায় (yy) প্রকাশ পায়, হেটেরোজাইগাস অবস্থায় প্রকাশ পায় না, তাকে প্রচ্ছন্ন গুণ বলে।
উদাহরণ: মটর গাছে হলুদ বীজের রঙ (Y) হল প্রকট গুণ এবং সবুজ বীজের রঙ (y) হল প্রচ্ছন্ন গুণ। Yy জিনোটাইপে বীজ হলুদ হবে কারণ Y প্রকট, কিন্তু yy হলে তবেই বীজ সবুজ হবে।
3.8 বর্ণান্ধতা কী? এটি কেন পুরুষদের বেশি হয়?
উত্তর: বর্ণান্ধতা হল একটি X-ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন বংশগত রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি লাল ও সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না।
পুরুষদের বেশি হওয়ার কারণ: বর্ণান্ধতার জিন X ক্রোমোজোমে থাকে। পুরুষদের একটি মাত্র X ক্রোমোজোম (XY) থাকে, তাই একটি মিউট্যান্ট X জিন থাকলেই পুরুষ বর্ণান্ধ হয়। কিন্তু স্ত্রীদের দুটি X ক্রোমোজোম (XX) থাকে, তাই দুটি X-এই মিউট্যান্ট জিন থাকলে তবেই স্ত্রী বর্ণান্ধ হয়। একটি X মিউট্যান্ট হলে স্ত্রী বাহক হয়, রোগী হয় না। তাই পুরুষদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়।
3.9 ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের পাঁচটি মূল স্তম্ভ হল —
i) জীবের অত্যধিক বংশবৃদ্ধি: জীব জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করে।
ii) অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে জীবের মধ্যে অন্তঃপ্রজাতি ও আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম হয়।
iii) প্রকরণের উদ্ভব: জীবের মধ্যে নানা প্রকরণ দেখা যায়।
iv) যোগ্যতমের উদবর্তন: যে জীব পরিবেশের সাথে সবচেয়ে যোগ্য, সেই জীবই টিকে থাকে।
v) প্রাকৃতিক নির্বাচন: যোগ্য জীবের বৈশিষ্ট্যগুলি প্রকৃতি নির্বাচন করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
3.10 অভিযোজন কাকে বলে? পায়রার বায়ুথলির অভিযোজনগত গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকা, আত্মরক্ষা ও বংশবিস্তারের জন্য জীবের দেহে যে স্থায়ী গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটে, তাকে অভিযোজন বলে।
পায়রার বায়ুথলির অভিযোজনগত গুরুত্ব: i) দেহকে হালকা করে ও প্লবতা বাড়িয়ে উড়তে সাহায্য করে। ii) অতিরিক্ত অক্সিজেন সঞ্চয় করে দীর্ঘক্ষণ উড়তে সাহায্য করে। iii) দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। iv) উড়ন্ত অবস্থায় দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
3.11 নাইট্রোজেন চক্রে ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা কী?
উত্তর: নাইট্রোজেন চক্রে ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা হল মাটিতে অবস্থিত নাইট্রেট (NO3-) লবণকে ভেঙে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস (N2) এ পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেওয়া। এর ফলে মাটি নাইট্রোজেন শূন্য হয়। এই প্রক্রিয়াকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে। উদাহরণ – Pseudomonas, Thiobacillus denitrificans নামক ব্যাকটেরিয়া।
3.12 জৈব বৈচিত্র্যের হটস্পট কাকে বলে? ভারতের একটি হটস্পটের নাম লেখো।
উত্তর: পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যক এন্ডেমিক বা স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি আছে এবং যারা বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে আছে, সেইসব অঞ্চলকে জৈব বৈচিত্র্যের হটস্পট বলে। হটস্পট হিসাবে গণ্য হওয়ার জন্য কমপক্ষে 1500 এন্ডেমিক উদ্ভিদ প্রজাতি থাকতে হবে।
ভারতের একটি হটস্পটের নাম হল পশ্চিমঘাট ও শ্রীলঙ্কা। ভারতের অন্য হটস্পটগুলি হল পূর্ব হিমালয়, ইন্দো-বার্মা এবং সুন্দাল্যান্ড।
3.13 বায়ু দূষণ রোধে ছাত্রছাত্রী হিসাবে তোমার দুটি ভূমিকা লেখো।
উত্তর: বায়ু দূষণ রোধে ছাত্রছাত্রী হিসাবে আমাদের দুটি ভূমিকা হল —
i) বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতা: বেশি করে গাছ লাগানো ও গাছের যত্ন নেওয়া, কারণ গাছ CO2 শোষণ করে O2 দেয়। বন্ধুদের এবং পাড়ার লোকজনকে বায়ু দূষণের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করা।
ii) দূষণ কমানো: যতটা সম্ভব সাইকেল ব্যবহার করা, গাড়ির ধোঁয়া পরীক্ষা করানো, প্লাস্টিক ও আবর্জনা না পোড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
➣[ডাউনলোড করুন]: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান মডেল উত্তরপত্র (PDF)
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-2 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-1/2 » NIRYAS.IN