NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Life Sci Model Answers-4

Madhyamik Life Sci Model Answers-4

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-4) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Life Sci Model Answers-4

Madhyamik Life Sci Model Answers
Madhyamik Life Sci Model Answers

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)

⟽ Previous set

বিভাগ – ক: MCQ – সব প্রশ্ন আবশ্যিক (1×15=15)

1.1 বনচাঁড়াল উদ্ভিদে দেখা যায় –
[A] কেমোন্যাস্টি [B] সিসমোন্যাস্টি [C] ফটোন্যাস্টি [D] থার্মোন্যাস্টি
উত্তর: [A] কেমোন্যাস্টি – বনচাঁড়ালের পত্রক রসায়নের প্রভাবে নড়ে, তবে বইতে এর চলনকে স্বতঃস্ফূর্ত বা ভাইটাল চলনও বলে।

1.2 মানুষের চোখে লেন্সের কাজ –
[A] প্রতিবিম্ব গঠন [B] আলো নিয়ন্ত্রণ [C] রঙ চেনা [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] প্রতিবিম্ব গঠন – আলো প্রতিসরিত করে রেটিনায় ফোকাস করে। আলো নিয়ন্ত্রণ করে আইরিস।

1.3 প্যারামেসিয়ামের গমন অঙ্গ –
[A] সিলিয়া [B] ফ্ল্যাজেলা [C] সিউডোপোডিয়া [D] পা
উত্তর: [A] সিলিয়া – সমগ্র দেহ সিলিয়ায় ঢাকা।

1.4 ক্রোমোজোমের যে স্থানে বেমতন্তু যুক্ত হয় –
[A] সেন্ট্রোমিয়ার [B] টেলোমিয়ার [C] ক্রোমোমিয়ার [D] গৌণ খাঁজ
উত্তর: [A] সেন্ট্রোমিয়ার – কাইনেটোকোরে বেম যুক্ত হয়।

1.5 মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণী ক্রোমোজোম –
[A] X ও Y [B] 22 জোড়া অটোজোম [C] 44 টি [D] সবগুলি
উত্তর: [A] X ও Y

1.6 পরাগরেণু থেকে ভ্রূণস্থলী পর্যন্ত নালীকে বলে –
[A] পরাগনালী [B] গর্ভদন্ড [C] ডিম্বক নালী [D] বৃতি
উত্তর: [A] পরাগনালী

1.7 YyRr x YyRr তে সবুজ কুঁচকানো বীজের অনুপাত –
[A] 1/16 [B] 9/16 [C] 3/16 [D] 1/4
উত্তর: [A] 1/16 – yyrr = 1/4 x 1/4 = 1/16

1.8 হিমোফিলিয়া রোগে –
[A] রক্ত জমাট বাঁধে না [B] রক্ত কম হয় [C] RBC নষ্ট হয় [D] WBC বাড়ে
উত্তর: [A] রক্ত জমাট বাঁধে না

1.9 বিবর্তনের প্রমাণ দেয় –
[A] জীবাশ্ম [B] ভ্রূণতত্ত্ব [C] তুলনামূলক শারীরস্থান [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি

1.10 রুই মাছের পটকায় গ্যাস –
[A] O2 [B] N2 [C] CO2 [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি – প্রধানত O2, সঙ্গে N2, CO2

1.11 লেগহিমোগ্লোবিন থাকে –
[A] রাইজোবিয়াম নডিউলে [B] পাতায় [C] কান্ডে [D] মূলে
উত্তর: [A] রাইজোবিয়াম নডিউলে – গোলাপি রঙ, O2 নিয়ন্ত্রণ করে।

1.12 ভারতে কুমির প্রকল্প শুরু হয় –
[A] 1975 [B] 1973 [C] 1972 [D] 1980
উত্তর: [A] 1975

1.13 মিনামাটা রোগ হয় –
[A] পারদ দূষণে [B] ক্যাডমিয়াম দূষণে [C] আর্সেনিক দূষণে [D] সীসা দূষণে
উত্তর: [A] পারদ দূষণে – জাপানের মিনামাটা উপসাগরে।

1.14 সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করা হয় –
[A] 1987 [B] 1972 [C] 1990 [D] 2000
উত্তর: [A] 1987 – UNESCO

1.15 DNA এর গঠন আবিষ্কার করেন –
[A] ওয়াটসন ও ক্রিক [B] মেন্ডেল [C] ডারউইন [D] ল্যামার্ক
উত্তর: [A] ওয়াটসন ও ক্রিক – 1953, ডাবল হেলিক্স।

Madhyamik Life Sci Model Answers-4

বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×21=21)

2.1 জিওট্রপিজমে কোন হরমোন কাজ করে?
উত্তর: জিওট্রপিজমে প্রধানত অক্সিন হরমোন কাজ করে। কাণ্ডে অক্সিনের ঘনত্ব বেশি হলে বৃদ্ধি বেশি হয় তাই কাণ্ড অভিকর্ষের বিপরীতে উপরে ওঠে, আর মূলে অক্সিন বেশি হলে বৃদ্ধি কমে যায় তাই মূল অভিকর্ষের দিকে নিচে নামে।

2.2 রড কোষের কাজ কী?
উত্তর: রড কোষের প্রধান কাজ হল মৃদু বা কম আলোতে দেখতে সাহায্য করা এবং আলো-আঁধারির পার্থক্য বোঝা। রড কোষে রোডপসিন নামক রঞ্জক থাকে, এটি রঙ চিনতে পারে না, শুধু সাদা-কালো দেখতে সাহায্য করে।

2.3 অ্যামিবার গমন কী ধরনের চলন?
উত্তর: অ্যামিবার গমন হল অ্যামিবয়েড চলন। এই চলনে অ্যামিবা ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া তৈরি করে দেহের প্রোটোপ্লাজমকে প্রবাহিত করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

2.4 গুরুমস্তিষ্কের কাজ কী?
উত্তর: গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম হল চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি, বিচার, বাকশক্তি, ঐচ্ছিক পেশির চলন এবং পঞ্চ ইন্দ্রিয় থেকে আসা সংবেদন গ্রহণ ও বিশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।

2.5 অক্সিটোসিনের কাজ কী?
উত্তর: অক্সিটোসিন হরমোনের প্রধান কাজ হল প্রসবের সময় জরায়ুর পেশির সংকোচন ঘটিয়ে সন্তান প্রসবে সাহায্য করা এবং সন্তান প্রসবের পর স্তনগ্রন্থি থেকে দুধ ক্ষরণে সাহায্য করা। তাই একে প্রসব হরমোনও বলে।

2.6 ক্যারিওকাইনেসিস কী?
উত্তর: কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে। এটি কোষ বিভাজনের প্রথম ধাপ, এর পর সাইটোকাইনেসিস বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে।

2.7 সিন্যাপসিস কোথায় ঘটে?
উত্তর: সিন্যাপসিস ঘটে মিয়োসিস-I কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-I দশার জাইগোটিন উপদশায়। এই সময় সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলি জোড়া বাঁধে এবং বাইভ্যালেন্ট গঠন করে।

2.8 রজন কীভাবে অযৌন জননে সাহায্য করে?
উত্তর: প্রশ্নে ‘রজন’ নয়, এটি ‘পাতা’ হবে। পাথরকুচি গাছের পাতার কিনারা থেকে অযৌন জননের মাধ্যমে নতুন চারা গাছ সৃষ্টি হয়। পাতার খাঁজ থেকে মুকুল তৈরি হয়ে মাটিতে পড়ে নতুন গাছ হয়।

2.9 গর্ভমুন্ড কী?
উত্তর: গর্ভমুন্ড হল গর্ভপত্র বা স্ত্রীস্তবকের সবচেয়ে উপরের আঠালো ও রসালো অংশ। এটি পরাগরেণুকে ধরে রাখে এবং পরাগরেণুর অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে।

2.10 টেস্টোস্টেরনের কাজ কী?
উত্তর: টেস্টোস্টেরন হল প্রধান পুরুষ যৌন হরমোন। এর কাজ হল পুরুষের গৌণ যৌন লক্ষণ যেমন গোঁফ-দাড়ি, গলার স্বর গম্ভীর হওয়া প্রকাশ করা, শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করা এবং পেশি ও হাড়ের বৃদ্ধি ঘটানো।

2.11 মেন্ডেলের পরীক্ষায় কত জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য ছিল?
উত্তর: মেন্ডেল তার মটর গাছের পরীক্ষায় 7 জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেছিলেন। যেমন – লম্বা-বেঁটে কাণ্ড, হলুদ-সবুজ বীজ, গোল-কুঁচকানো বীজ ইত্যাদি।

2.12 থ্যালাসেমিয়া রোগে কী হয়?
উত্তর: থ্যালাসেমিয়া রোগে হিমোগ্লোবিনের আলফা বা বিটা গ্লোবিন শৃঙ্খল তৈরি হয় না বা কম তৈরি হয়। এর ফলে তীব্র রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা যায় এবং বারবার রক্ত দিতে হয়। এটি একটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ।

2.13 আর্কিওপটেরিক্স কেন সংযোগী প্রাণী?
উত্তর: আর্কিওপটেরিক্সকে সরীসৃপ ও পাখির সংযোগী প্রাণী বলা হয় কারণ এর দেহে সরীসৃপের মতো দাঁতযুক্ত চোয়াল, লম্বা লেজ, নখরযুক্ত ডানা এবং পাখির মতো পালক ও ডানা উভয় বৈশিষ্ট্যই ছিল।

2.14 ল্যামার্কের বইয়ের নাম কী?
উত্তর: ল্যামার্কের বিখ্যাত বইটির নাম হল “Philosophie Zoologique”। বইটি 1809 সালে প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি ব্যবহার ও অব্যবহার এবং অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতির মতবাদ প্রকাশ করেন।

2.15 নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কাকে বলে?
উত্তর: নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বা অবশেষ অঙ্গ হল সেইসব অঙ্গ যা পূর্বপুরুষদের দেহে সক্রিয় ছিল কিন্তু বিবর্তনের ফলে বর্তমান প্রজন্মে নিষ্ক্রিয় ও অকেজো অবস্থায় রয়ে গেছে। যেমন – মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স, কক্সিস।

2.16 জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম কী?
উত্তর: জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হল ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে দেখা যায় এমন একটি বিশেষ অঙ্কুরোদগম, যেখানে বীজ ফল গাছে থাকা অবস্থাতেই অঙ্কুরিত হয়ে চারা গাছ তৈরি করে। পরে চারাটি মাটিতে পড়ে নতুন গাছ হয়। যেমন – সুন্দরী, গরান।

2.17 রেড ডাটা বুক কী?
উত্তর: রেড ডাটা বুক হল IUCN অর্থাৎ International Union for Conservation of Nature দ্বারা প্রকাশিত একটি তালিকা বা বই, যেখানে পৃথিবীর সমস্ত বিপন্ন, বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম ও তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে।

2.18 শব্দ দূষণে মানুষের কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: শব্দ দূষণের ফলে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, মাথা ধরা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক অস্থিরতা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মনোযোগের অভাব দেখা যায়।

2.19 ব্ল্যাকফুট ডিজিজ কীসের জন্য হয়?
উত্তর: ব্ল্যাকফুট ডিজিজ হয় আর্সেনিক দূষিত জল দীর্ঘদিন ধরে পান করার জন্য। এই রোগে মানুষের পা কালো হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে পচন ধরে, তাই একে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ বলে।

2.20 হেটেরোজাইগাস কী?
উত্তর: যখন কোনো জীবের কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী দুটি অ্যালিল ভিন্ন প্রকৃতির হয়, তখন তাকে হেটেরোজাইগাস বলে। যেমন – Yy, Rr, Tt। একে সংকরও বলে।

2.21 মৌমাছি কীভাবে খাবারের উৎস জানায়?
উত্তর: কর্মী মৌমাছি ওয়াগল নৃত্যের মাধ্যমে খাদ্যের উৎসের খবর জানায়। নৃত্যের গতিবেগ ও সময়কাল দিয়ে দূরত্ব এবং সূর্যের সাপেক্ষে নাচের কোণ দিয়ে দিক নির্দেশ করে।

Madhyamik Life Sci Model Answers-4

বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×12=24)

3.1 ন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যখন উদ্ভিদের চলন বাহ্যিক উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় কিন্তু উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, অর্থাৎ চলনের দিক উদ্দীপকের দিকের উপর নির্ভর করে না, তখন তাকে ন্যাস্টিক চলন বলে।
এই চলন টারগর চাপের পরিবর্তনে ঘটে এবং দ্রুত ও সাময়িক হয়।
উদাহরণ: i) লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শ করলে মুড়ে যাওয়া হল সিসমোন্যাস্টি এবং ii) পদ্ম ফুল আলোর তীব্রতায় ফোটা হল ফটোন্যাস্টি।

3.2 মানুষের অক্ষিগোলকের গঠন লেখো।
উত্তর: মানুষের অক্ষিগোলক প্রায় গোলাকার এবং তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত —
i) বাইরের স্তর – স্ক্লেরা: এটি সাদা, শক্ত আবরণ যাকে শ্বেতমণ্ডল বলে। সামনের স্বচ্ছ অংশকে কর্নিয়া বলে।
ii) মধ্য স্তর – কোরয়েড: এতে রক্তজালক থাকে, সামনে আইরিস ও সিলিয়ারি বডি গঠন করে। আইরিসের মাঝে পিউপিল বা তারারন্ধ্র থাকে।
iii) ভিতরের স্তর – রেটিনা: এটি আলোক সংবেদী স্তর, এখানে রড ও কোন কোষ থাকে। রেটিনায় অন্ধবিন্দু ও সবচেয়ে বেশি দেখার জন্য হলুদ বিন্দু বা ফোবিয়া থাকে।
এছাড়া অক্ষিগোলকের ভিতরে দ্বি-উত্তল লেন্স, সামনে অ্যাকুয়াস হিউমর এবং পিছনে ভিট্রিয়াস হিউমর থাকে।

3.3 উদ্ভিদ হরমোন ও প্রাণী হরমোনের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
উদ্ভিদ হরমোন: i) একে বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক বা ফাইটোহরমোন বলে। ii) নির্দিষ্ট কোনো গ্রন্থি নেই, কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে, পাতা, বীজে তৈরি হয়। iii) পরিবহন ধীর এবং ব্যাপন ও জাইলেম-ফ্লোয়েমের মাধ্যমে ঘটে। iv) কম ঘনত্বে কাজ করে।

প্রাণী হরমোন: i) এটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। ii) রক্তের মাধ্যমে দ্রুত পরিবাহিত হয়। iii) কাজ অনেক বেশি জটিল এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য অঙ্গে কাজ করে। iv) প্রাণী হরমোন প্রোটিন, স্টেরয়েড ইত্যাদি প্রকৃতির হয়।

3.4 কোষ বিভাজনে স্পিন্ডল তন্তুর কাজ কী?
উত্তর: কোষ বিভাজনে স্পিন্ডল তন্তু বা বেমতন্তুর প্রধান কাজগুলি হল —
i) ক্রোমোজোমকে বিষুব অঞ্চলে আনা: প্রোফেজ ও মেটাফেজ দশায় স্পিন্ডল তন্তু গঠিত হয়ে ক্রোমোজোমগুলিকে কোষের মধ্যবর্তী বিষুব অঞ্চলে সাজাতে সাহায্য করে।
ii) ক্রোমোজোমকে মেরুতে টানা: অ্যানাফেজ দশায় স্পিন্ডল তন্তু কাইনেটোকোরের সাথে যুক্ত হয়ে সিস্টার ক্রোমাটিডকে আলাদা করে দুই বিপরীত মেরুর দিকে টেনে নিয়ে যায়, ফলে দুটি অপত্য কোষে সমান ক্রোমোজোম বণ্টিত হয়।

3.5 কোষ বিভাজনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: কোষ বিভাজনের গুরুত্বগুলি হল —
i) বৃদ্ধি: মাইটোসিসের মাধ্যমে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।
ii) ক্ষয়পূরণ ও জনন: দেহের ক্ষতস্থান পূরণ এবং অনেক জীবের অযৌন জননে সাহায্য করে।
iii) ক্রোমোজোম সংখ্যা রক্ষা: মাইটোসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে, মিয়োসিসে জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখে।
iv) প্রকরণ সৃষ্টি: মিয়োসিসে ক্রসিং ওভারের ফলে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়, যা বিবর্তনে সাহায্য করে।

3.6 সপুষ্পক উদ্ভিদে যৌন জননের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: সপুষ্পক উদ্ভিদে যৌন জননের গুরুত্ব হল —
i) প্রকরণ সৃষ্টি: দুটি ভিন্ন গ্যামেটের মিলনে নতুন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে প্রকরণ সৃষ্টি হয়।
ii) উন্নত বীজ ও অভিযোজন: এর ফলে উৎপন্ন বীজ অধিক জীবনীশক্তি সম্পন্ন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয় এবং নতুন পরিবেশে অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ে।
iii) বিবর্তন: প্রকরণ সৃষ্টির মাধ্যমে বিবর্তন ও নতুন প্রজাতি সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
iv) বীজ ও ফল: যৌন জননের ফলেই ফল ও বীজ সৃষ্টি হয়, যা বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

3.7 অসম্পূর্ণ প্রকটতা কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যখন দুটি বিপরীত বিশুদ্ধ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে F1 জনুতে কোনো একটি প্রকট গুণ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ না পেয়ে দুটি গুণের মাঝামাঝি একটি নতুন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তখন তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে।
উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী ফুলে লাল ফুলযুক্ত গাছ (RR) এর সাথে সাদা ফুলযুক্ত গাছ (rr) এর সংকরায়ণ ঘটালে F1 জনুতে সব ফুল গোলাপি (Rr) হয়। এখানে লাল বা সাদা কোনোটিই সম্পূর্ণ প্রকট নয়, মাঝামাঝি গোলাপি রং প্রকাশ পেয়েছে। এটি মেন্ডেলের প্রকটতার সূত্রকে সমর্থন করে না।

3.8 লিঙ্গ সংযোজিত বংশগতি কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব বৈশিষ্ট্যের জিন সেক্স ক্রোমোজোমে অর্থাৎ X বা Y ক্রোমোজোমে অবস্থান করে এবং সেই ক্রোমোজোমের মাধ্যমেই বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়, তাকে লিঙ্গ সংযোজিত বা সেক্স লিংকড বংশগতি বলে।
এই বংশগতিতে ক্রিস-ক্রস বংশগতি দেখা যায়, অর্থাৎ পিতার বৈশিষ্ট্য কন্যাতে এবং মাতার বৈশিষ্ট্য পুত্রে যায়।
উদাহরণ: মানুষের বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়া হল X-লিংকড প্রচ্ছন্ন লিঙ্গ সংযোজিত বংশগতির উদাহরণ।

3.9 মিলার ও উরের পরীক্ষাটি লেখো।
উত্তর: 1953 সালে বিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলার ও হ্যারল্ড উরে জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তির পরীক্ষা করেন।
তারা একটি আবদ্ধ ফ্লাস্কে আদিম পৃথিবীর বিজারক পরিবেশ তৈরি করেন – মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), হাইড্রোজেন (H2) এবং জলীয় বাষ্প নেন। সেখানে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ক্ষরণ ঘটান। এক সপ্তাহ পর দেখা যায়, ফ্লাস্কে গ্লাইসিন, অ্যালানিনের মতো অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়েছে।
এই পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয় যে আদিম পৃথিবীর বিজারক পরিবেশে অজৈব পদার্থ থেকে জৈব পদার্থের সৃষ্টি সম্ভব এবং জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি ঘটেছিল।

3.10 সুন্দরী গাছের লবণ সহন অভিযোজন লেখো।
উত্তর: সুন্দরী গাছ লবণাম্বু উদ্ভিদ, এর লবণ সহন অভিযোজনগুলি হল —
i) শ্বাসমূল: লবণাক্ত কর্দমাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব, তাই মাটি ভেদ করে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর উপরে উঠে আসে।
ii) জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: বীজ ফলের মধ্যে থাকা অবস্থায় অঙ্কুরিত হয়ে যায়, যাতে লবণাক্ত জলে ডুবে না যায়।
iii) লবণ ত্যাগ: পাতায় অবস্থিত লবণ গ্রন্থির মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ বাইরে বের করে দেয়।
iv) অন্যান্য: পাতা পুরু কিউটিকল যুক্ত ও রসালো হয়, যাতে জল অপচয় কম হয়।

3.11 নাইট্রোজেন চক্র কী? গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: যে চক্রাকার প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন (N2) মাটিতে আবদ্ধ হয়ে উদ্ভিদে, তারপর প্রাণীতে যায় এবং আবার ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে, তাকে নাইট্রোজেন চক্র বলে।
গুরুত্ব: i) নাইট্রোজেন প্রোটিন, DNA, RNA গঠনের অপরিহার্য উপাদান, নাইট্রোজেন চক্র জীবকে এই নাইট্রোজেন সরবরাহ করে। ii) মাটির উর্বরতা বজায় রাখে এবং বাস্তুতন্ত্রে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে।

3.12 ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ইন-সিটু সংরক্ষণ: i) প্রাকৃতিক বাসস্থানেই উদ্ভিদ ও প্রাণীকে সংরক্ষণ করা হয়। ii) এতে জীব তার স্বাভাবিক পরিবেশে থাকে, তাই প্রকরণ সংরক্ষিত হয়। iii) উদাহরণ – জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, সংরক্ষিত বন।

এক্স-সিটু সংরক্ষণ: i) প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিমভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ii) এতে জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে আনা হয়। iii) উদাহরণ – চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিন ব্যাংক, ক্রায়ো সংরক্ষণ।

3.13 মানুষের স্বাস্থ্যের উপর দূষণের প্রভাব লেখো।
উত্তর:
i) বায়ু দূষণের প্রভাব: ধোঁয়া, SPM, CO, SO2 এর ফলে ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার, চোখ জ্বালা হয়।
ii) জল দূষণের প্রভাব: দূষিত জলে কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, জন্ডিস হয়। আর্সেনিক দূষণে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ ও চর্ম ক্যান্সার হয়।
iii) শব্দ দূষণের প্রভাব: অতিরিক্ত শব্দে বধিরতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাঘাত ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়।

—    ➣Read More


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

2 thoughts on “Madhyamik Life Sci Model Answers-4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading