Madhyamik Life sci Model Answers-5
Madhyamik Life Sci Model Answers-5
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-5) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Life Sci Model Answers-5

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)
বিভাগ – ক: MCQ – সব প্রশ্ন আবশ্যিক (1×15=15)
1.1 লজ্জাবতী লতার পাতা মুদে যাওয়া হল –
[A] সিসমোন্যাস্টি [B] ফটোন্যাস্টি [C] কেমোন্যাস্টি [D] থার্মোন্যাস্টি
উত্তর: [A] সিসমোন্যাস্টি – স্পর্শ বা আঘাতে হয়, তাই সিসমো।
1.2 মানুষের চোখে কোন কোষ কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে –
[A] রড [B] কোন [C] স্নায়ু [D] পেশি
উত্তর: [A] রড – রোডপসিন রঞ্জক থাকে, মৃদু আলোতে দেখায়।
1.3 অ্যামিবার ক্ষণপদ কীসের জন্য –
[A] গমন ও খাদ্য গ্রহণ [B] শুধু গমন [C] শুধু খাদ্য [D] জনন
উত্তর: [A] গমন ও খাদ্য গ্রহণ – সিউডোপোডিয়া দিয়ে অ্যামিবয়েড চলন ও ফ্যাগোসাইটোসিস।
1.4 নিউক্লিয়াস বিভাজনকে বলে –
[A] ক্যারিওকাইনেসিস [B] সাইটোকাইনেসিস [C] উভয়ই [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] ক্যারিওকাইনেসিস
1.5 মানুষের জনন কোষে অটোজোম সংখ্যা –
[A] 22 টি [B] 44 টি [C] 23 টি [D] 22 জোড়া
উত্তর: [A] 22 টি – জনন কোষ হ্যাপ্লয়েড, তাই 22 টি অটোজোম + 1 টি সেক্স।
1.6 বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে –
[A] জিব্বেরেলিন [B] অক্সিন [C] ABA [D] সাইটোকাইনিন
উত্তর: [A] জিব্বেরেলিন – ABA সুপ্তি বজায় রাখে।
1.7 মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র –
[A] স্বাধীন সঞ্চারণ [B] পৃথকীকরণ [C] প্রকটতা [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] স্বাধীন সঞ্চারণ – দ্বিসংকরে 9:3:3:1
1.8 বর্ণান্ধ ব্যক্তি চিনতে পারে না –
[A] লাল-সবুজ [B] নীল-হলুদ [C] সাদা-কালো [D] সব রঙ
উত্তর: [A] লাল-সবুজ – সবচেয়ে বেশি, একে প্রোটানোপিয়া ও ডিউটেরানোপিয়া বলে।
1.9 উভচর ও সরীসৃপের মধ্যে যোগসূত্র –
[A] সিমোর [B] আর্কিওপটেরিক্স [C] পেরিপেটাস [D] প্লাটিপাস
উত্তর: [A] সিমোর / সিমুরিয়া – Seymouria
1.10 পায়রার বায়ুথলির সংখ্যা –
[A] 9 টি [B] 5 টি [C] 4 টি [D] 7 টি
উত্তর: [A] 9 টি
1.11 মাটিতে নাইট্রোজেন ফিরিয়ে দেয় –
[A] ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া [B] নাইট্রিফাইং [C] রাইজোবিয়াম [D] অ্যাজোটোব্যাকটর
উত্তর: [A] ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া – যেমন সিউডোমোনাস, NO3- থেকে N2 বায়ুতে ফেরায়।
1.12 ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান –
[A] হেইলি ন্যাশনাল পার্ক [B] কানহা [C] কাজিরাঙা [D] সুন্দরবন
উত্তর: [A] হেইলি ন্যাশনাল পার্ক – 1936, বর্তমানে জিম করবেট।
1.13 জলে O2 এর পরিমাণ মাপে –
[A] BOD [B] COD [C] DO [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি – DO সরাসরি O2, BOD, COD পরোক্ষভাবে O2 চাহিদা মাপে। MCQ তে সরাসরি হলে DO।
1.14 ইটাই-ইটাই রোগ হয় –
[A] ক্যাডমিয়াম [B] পারদ [C] আর্সেনিক [D] সীসা
উত্তর: [A] ক্যাডমিয়াম – জাপানে, হাড় ভঙ্গুর।
1.15 জীববৈচিত্র্য শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন –
[A] রোজেন [B] ডারউইন [C] ল্যামার্ক [D] মেন্ডেল
উত্তর: [A] রোজেন – ওয়াল্টার রোজেন 1985 সালে Biodiversity শব্দটি দেন।
Madhyamik Life Sci Model Answers-5
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×21=21)
2.1 টিউলিপ ফুলের ফোটা কোন চলন?
উত্তর: টিউলিপ ফুলের ফোটা হল থার্মোন্যাস্টি চলনের উদাহরণ। এই চলন তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে ঘটে, বেশি তাপে ফুল ফোটে এবং কম তাপে বন্ধ হয়ে যায়। এটি এক ধরনের ন্যাস্টিক চলন।
2.2 মানুষের কত জোড়া করোটিক স্নায়ু?
উত্তর: মানুষের 12 জোড়া করোটিক স্নায়ু বা ক্র্যানিয়াল নার্ভ আছে। এগুলি সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে উৎপন্ন হয়ে মাথা, ঘাড় এবং বিভিন্ন ইন্দ্রিয় অঙ্গে যায়।
2.3 ফ্ল্যাজেলার গমন উদাহরণ দাও।
উত্তর: ফ্ল্যাজেলার গমনের উদাহরণ হল ইউগ্লিনা এবং ক্ল্যামাইডোমোনাস। এই জীবগুলি ফ্ল্যাজেলা নামক চাবুকের মতো অঙ্গের সাহায্যে জলে সাঁতার কেটে গমন করে।
2.4 থ্যালামাসের কাজ কী?
উত্তর: থ্যালামাস হল সংবেদনের প্রধান রিলে স্টেশন বা সংবেদন কেন্দ্র। ঘ্রাণ ছাড়া অন্যান্য সমস্ত সংবেদন যেমন দৃষ্টি, শ্রবণ, স্পর্শ, স্বাদ প্রথমে থ্যালামাসে আসে এবং তারপর সেরিব্রামে পাঠানো হয়।
2.5 ইনসুলিন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
উত্তর: ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। এটি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
2.6 কোষ বিভাজনে ক্রোমোজোম কোথায় থাকে?
উত্তর: কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি কোষের বিষুব অঞ্চলে বা মেটাফেজ প্লেটে সুসজ্জিত অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় ক্রোমোজোমগুলিকে সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়।
2.7 ক্রোমাটিড কী?
উত্তর: কোষ বিভাজনের প্রোফেজ দশায় যখন প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে দুটি সমান সূত্রে বিভক্ত হয়, তখন প্রতিটি সূত্রকে ক্রোমাটিড বলে। দুটি ক্রোমাটিড সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত থাকে।
2.8 গাঁদের কন্দ কী?
উত্তর: আলুর কন্দ হল একটি রূপান্তরিত ভূগর্ভস্থ কাণ্ড, যা খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয়। এটি অযৌন জননে সাহায্য করে, কারণ এর চোখ বা মুকুল থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।
2.9 ডিম্বাণুর মধ্যে কয়টি নিউক্লিয়াস থাকে?
উত্তর: সাধারণত একটি পরিণত ডিম্বাণুর মধ্যে একটি নিউক্লিয়াস থাকে। তবে সপুষ্পক উদ্ভিদের ভ্রূণথলিতে মোট 8টি নিউক্লিয়াস থাকে – 1টি ডিম্বাণু, 2টি সহকারী কোষ, 3টি প্রতিপাদ কোষ এবং 2টি মেরু নিউক্লিয়াস যা মিলে নির্ণীত নিউক্লিয়াস গঠন করে।
2.10 বয়ঃসন্ধিকাল কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের জীবনে 10 থেকে 19 বছর বয়সকালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। এই সময় যৌন হরমোনের ক্ষরণের ফলে দেহে শারীরিক, মানসিক এবং আচরণগত নানা পরিবর্তন ঘটে।
2.11 অ্যালিল কাকে বলে?
উত্তর: একই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনের বিকল্প রূপকে অ্যালিল বলে। অ্যালিলগুলি সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থান করে। যেমন – লম্বা বৈশিষ্ট্যের জন্য T এবং বেঁটে বৈশিষ্ট্যের জন্য t হল পরস্পরের অ্যালিল।
2.12 বাহক কাকে বলে?
উত্তর: যে হেটেরোজাইগাস জীব প্রচ্ছন্ন রোগের জিন বহন করে কিন্তু নিজে রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে না, তাকে বাহক বলে। যেমন – থ্যালাসেমিয়ার বাহকরা নিজেরা সুস্থ কিন্তু সন্তানের মধ্যে রোগ সঞ্চার করতে পারে।
2.13 জীবন্ত জীবাশ্ম কাকে বলে?
উত্তর: যেসব জীব বহু প্রাচীনকালে উৎপন্ন হয়েছিল এবং বিবর্তনের ধারায় প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় এখনও পৃথিবীতে বেঁচে আছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। যেমন – পেরিপেটাস, ল্যাটিমেরিয়া মাছ, প্লাটিপাস, জিঙ্কো বাইলোবা।
2.14 অভিযোজন কী?
উত্তর: পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকা, আত্মরক্ষা এবং বংশবিস্তারের জন্য জীবের দেহে যে বিশেষ গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় এবং আচরণগত স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে, তাকে অভিযোজন বলে।
2.15 লুপ্তপ্রায় প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যেসব প্রাণীর সংখ্যা পরিবেশে এত কমে গেছে যে উপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করলে অদূর ভবিষ্যতে তারা পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়ে যাবে, তাদের লুপ্তপ্রায় প্রাণী বলে। যেমন – রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, একশৃঙ্গ গন্ডার।
2.16 সুন্দরবনের একটি বিপন্ন প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: সুন্দরবনের একটি প্রধান বিপন্ন প্রাণী হল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়া সুন্দরবনের অন্যান্য বিপন্ন প্রাণী হল লোনা জলের কুমির, বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ইত্যাদি।
2.17 জিন ব্যাঙ্ক কী?
উত্তর: জিন ব্যাঙ্ক হল একটি বিশেষ সংরক্ষণাগার যেখানে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির বীজ, শুক্রাণু, ডিম্বাণু, DNA এবং জার্মপ্লাজমকে কৃত্রিমভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এটি এক্স-সিটু সংরক্ষণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
2.18 গ্রিনহাউস গ্যাস কী?
উত্তর: যেসব গ্যাস পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ শোষণ করে ধরে রাখে এবং পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি করে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলে। যেমন – কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), CFC।
2.19 ফ্লুরোসিস কীসের জন্য হয়?
উত্তর: ফ্লুরোসিস রোগ হয় ফ্লোরাইড দূষিত জল দীর্ঘদিন ধরে পান করার জন্য। এই রোগে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায় এবং হাড় বেঁকে যায় ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
2.20 হোমোজাইগাস কী?
উত্তর: যখন কোনো জীবের কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী দুটি অ্যালিল একই রকম হয়, তখন তাকে হোমোজাইগাস বলে। যেমন – বিশুদ্ধ লম্বা TT এবং বিশুদ্ধ বেঁটে tt হল হোমোজাইগাস।
2.21 প্রাণীর আচরণ কী?
উত্তর: পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপনার প্রভাবে প্রাণী যে বিশেষ পদ্ধতিতে সাড়া দেয় বা প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাকে প্রাণীর আচরণ বলে। যেমন – মৌমাছির ওয়াগল নৃত্য, পাখির বাসা বাঁধা, পিঁপড়ার দলবদ্ধ চলন ইত্যাদি।
Madhyamik Life Sci Model Answers-5
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×12=24)
3.1 ফটোট্রপিজম কী? উদাহরণ সহ পরীক্ষা লেখো।
উত্তর: আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে বক্রচলন ঘটে, তাকে ফটোট্রপিজম বলে। কাণ্ড সাধারণত আলোর দিকে বাঁকে বলে পজিটিভ ফটোট্রপিক এবং মূল আলোর বিপরীতে বাঁকে বলে নেগেটিভ ফটোট্রপিক।
পরীক্ষা: একটি অন্ধকার বাক্সের মধ্যে একটি টবের গাছ রাখো। বাক্সের একদিকে একটি ছোট ছিদ্র করে আলো আসতে দাও। কয়েক দিন পর দেখা যাবে গাছের কাণ্ড ছিদ্রের দিকে অর্থাৎ আলোর দিকে বেঁকে গেছে।
কারণ: আলোর বিপরীত দিকে অক্সিন হরমোন বেশি জমা হয়, ফলে সেই দিকের কোষগুলি বেশি বৃদ্ধি পায় এবং কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকে যায়।
3.2 মানব চোখে রড ও কোন কোষের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
রড কোষ: i) সংখ্যায় প্রায় 120 মিলিয়ন, রেটিনার প্রান্তে বেশি থাকে। ii) এতে রোডপসিন রঞ্জক থাকে। iii) মৃদু বা কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে, কিন্তু রং চিনতে পারে না। রাতের দৃষ্টির জন্য দায়ী।
কোন কোষ: i) সংখ্যায় প্রায় 6-7 মিলিয়ন, হলুদ বিন্দু বা ফোবিয়াতে সবচেয়ে বেশি থাকে। ii) এতে আয়োডপসিন রঞ্জক থাকে। iii) উজ্জ্বল আলোতে দেখতে ও রং চিনতে সাহায্য করে। দিনের দৃষ্টি ও বর্ণ দৃষ্টির জন্য দায়ী।
3.3 থাইরক্সিন ও ইনসুলিনের কাজ লেখো।
উত্তর:
থাইরক্সিনের কাজ: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। i) দেহের বিপাক ক্রিয়া ও BMR বৃদ্ধি করে। ii) দেহের বৃদ্ধি, বিশেষ করে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। iii) এর অভাবে ক্রেটিনিজম ও গলগন্ড রোগ হয়।
ইনসুলিনের কাজ: এটি অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। i) রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়, গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে জমা রাখে। ii) এর অভাবে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ হয়, যাতে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়।
3.4 ইন্টারফেজের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: ইন্টারফেজ হল দুটি কোষ বিভাজনের মধ্যবর্তী প্রস্তুতি পর্ব, এটি কোষচক্রের সবচেয়ে দীর্ঘ দশা।
এর তিনটি উপদশা আছে — G1 দশা: কোষের বৃদ্ধি ঘটে, RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষ হয়। S দশা: DNA এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয় বা DNA প্রতিলিপি গঠন হয়। G2 দশা: বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, বিশেষ করে স্পিন্ডল তন্তুর প্রোটিন সংশ্লেষ হয় এবং কোষ বিভাজনের জন্য প্রস্তুত হয়।
ইন্টারফেজ ছাড়া কোষ বিভাজন সম্ভব নয়।
3.5 পুনরুৎপাদন কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণীর দেহের খন্ডিত বা বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন জীব সৃষ্টি হয়, তাকে পুনরুৎপাদন বা রিজেনারেশন বলে।
উদাহরণ: নিম্নশ্রেণির প্রাণী যেমন প্ল্যানেরিয়া, স্পঞ্জ ও তারামাছে পুনরুৎপাদন ক্ষমতা বেশি। প্ল্যানেরিয়াকে কয়েক টুকরো করলে প্রতিটি টুকরো থেকে একটি করে নতুন প্ল্যানেরিয়া সৃষ্টি হয়। উন্নত প্রাণীতে এই ক্ষমতা কম, শুধু ক্ষতস্থান পূরণ বা যকৃতের কিছু অংশ পুনরুৎপাদিত হয়।
3.6 পরাগযোগ ও নিষেকের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
পরাগযোগ: i) এটি পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে পড়ার ঘটনা। ii) এটি একটি বাহ্যিক ঘটনা এবং বায়ু, জল, পতঙ্গ ইত্যাদি বাহকের প্রয়োজন হয়। iii) এটি নিষেকের আগের ধাপ।
নিষেক: i) এটি পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠনের প্রক্রিয়া। ii) এটি ডিম্বাশয়ের ভিতরে ঘটে, একটি অভ্যন্তরীণ ঘটনা। iii) এর ফলে নতুন জিনের সংমিশ্রণ ও ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, এটি পরাগযোগের পরে ঘটে।
3.7 প্রকট ও প্রচ্ছন্ন গুণের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
প্রকট গুণ: i) যে গুণ হোমোজাইগাস (TT) এবং হেটেরোজাইগাস (Tt) উভয় অবস্থাতেই প্রকাশ পায়। ii) প্রকট গুণকে বড় হাতের অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়, যেমন T। iii) যেমন – লম্বা গাছ প্রকট।
প্রচ্ছন্ন গুণ: i) যে গুণ শুধুমাত্র হোমোজাইগাস (tt) অবস্থাতেই প্রকাশ পায়, হেটেরোজাইগাস অবস্থায় প্রকট গুণের দ্বারা ঢাকা পড়ে যায়। ii) প্রচ্ছন্ন গুণকে ছোট হাতের অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়, যেমন t। iii) যেমন – বেঁটে গাছ প্রচ্ছন্ন।
3.8 থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফিলিয়ার পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
থ্যালাসেমিয়া: i) এটি একটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ, 11 নং ক্রোমোজোমে জিন থাকে। ii) হিমোগ্লোবিনের আলফা বা বিটা শৃঙ্খল সংশ্লেষে ত্রুটির জন্য হয়। iii) প্রধান লক্ষণ হল তীব্র রক্তাল্পতা, জন্ডিস, প্লীহা বড় হওয়া।
হিমোফিলিয়া: i) এটি একটি X-ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন রোগ। ii) রক্ত তঞ্চনের ফ্যাক্টর VIII বা IX এর অভাবে হয়। iii) প্রধান লক্ষণ হল সামান্য আঘাতেও দীর্ঘক্ষণ রক্তপাত বন্ধ না হওয়া। পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
3.9 জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি লেখো।
উত্তর: বিজ্ঞানী ওপারিন ও হ্যালডেনের মতে, জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি ঘটেছিল।
আদিম পৃথিবীতে বিজারক পরিবেশ ছিল, যেখানে O2 ছিল না, কিন্তু CH4, NH3, H2, জলীয় বাষ্প ছিল। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি ও বজ্রপাতের শক্তিতে এই অজৈব পদার্থ থেকে প্রথমে সরল জৈব যৌগ যেমন অ্যামাইনো অ্যাসিড, নিউক্লিওটাইড তৈরি হয়। পরে তারা জটিল হয়ে কোয়াসারভেট, মাইক্রোস্ফিয়ার এবং শেষে প্রথম প্রোটোসেল বা আদি কোষ সৃষ্টি করে। 1953 সালে মিলার ও উরে পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে এই পরিবেশ তৈরি করে অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি করে এই মতবাদকে প্রমাণ করেন।
3.10 পায়রার উড়তে সাহায্যকারী অভিযোজন লেখো।
উত্তর: পায়রার উড়তে সাহায্যকারী অভিযোজনগুলি হল —
i) দেহের আকৃতি: দেহ মাকু আকৃতির ও হালকা, বায়ু প্রতিরোধ কমায়।
ii) পালক ও অস্থি: দেহ পালকে ঢাকা যা হালকা ও তাপরোধক। অস্থি ফাঁপা ও বায়ুপূর্ণ, তাই ওজন কম।
iii) বায়ুথলি ও পেশি: দেহে 9টি বায়ুথলি থাকে যা দেহ হালকা করে ও অক্সিজেন সঞ্চয় করে। বক্ষ পেশি খুব শক্তিশালী যা ডানা নাড়াতে সাহায্য করে। ডানা উড়তে সাহায্য করে এবং প্রখর দৃষ্টি দূর থেকে খাদ্য দেখতে সাহায্য করে।
3.11 নাইট্রোজেন চক্রের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: নাইট্রোজেন চক্রের গুরুত্ব হল —
i) জীবের পুষ্টি: নাইট্রোজেন প্রোটিন, DNA, RNA, ক্লোরোফিল গঠনের অপরিহার্য উপাদান। নাইট্রোজেন চক্রের মাধ্যমে বায়ুর নাইট্রোজেন মাটিতে আবদ্ধ হয়ে উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য হয় এবং খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রাণীতে যায়।
ii) মাটির উর্বরতা ও ভারসাম্য: এই চক্র মাটির উর্বরতা বজায় রাখে এবং বায়ুমণ্ডল ও মাটির মধ্যে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে। নাইট্রোজেন চক্র ছাড়া জীবজগৎ টিকে থাকতে পারত না।
3.12 সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় JFM এর ভূমিকা লেখো।
উত্তর: JFM বা Joint Forest Management হল বনদপ্তর ও স্থানীয় মানুষের যৌথ বন পরিচালনা ব্যবস্থা।
সুন্দরবনে এর ভূমিকা হল — i) স্থানীয় মানুষকে সাথে নিয়ে ম্যানগ্রোভ অরণ্য রোপণ ও রক্ষা করা হয়, ফলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়। ii) বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব কমানোর জন্য গ্রামবাসীদের সচেতন করা হয়। iii) মধু, মাছ, কাঁকড়া আহরণ নিয়ন্ত্রিতভাবে করা হয়, ফলে বনের উপর চাপ কমে। iv) স্থানীয় মানুষ বিকল্প জীবিকার সুযোগ পায় এবং বন সংরক্ষণে উৎসাহিত হয়।
3.13 অ্যাসিড বৃষ্টির ক্ষতি কী?
উত্তর: কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত SO2 ও NO2 গ্যাস জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে H2SO4 ও HNO3 তৈরি করে বৃষ্টির সাথে নেমে আসে, একে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
ক্ষতি: i) মাটির pH কমে যায়, ফলে ফসল ও অরণ্য নষ্ট হয়। ii) নদী ও হ্রদের জলের pH কমে জলজ জীব মারা যায়। iii) তাজমহলের মতো মার্বেলের স্থাপত্যের ক্ষয় হয়, একে স্টোন ক্যান্সার বলে। iv) মানুষের চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্ট হয়।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-6 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-5/2 » NIRYAS.IN