NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Life sci Model Answers-6

Madhyamik Life Sci Model Answers-6

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-6) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Life Sci Model Answers-6

Madhyamik Life Sci Model Answers
Madhyamik Life Sci Model Answers

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)

⟽ Previous set

বিভাগ – ক: MCQ – সব প্রশ্ন আবশ্যিক (1×15=15)

1.1 ইথিলিনের কাজ –
[A] ফল পাকানো [B] বৃদ্ধি রোধ [C] কোষ বিভাজন [D] মূল বৃদ্ধি
উত্তর: [A] ফল পাকানো – একমাত্র গ্যাসীয় হরমোন।

1.2 মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ –
[A] গুরুমস্তিষ্ক [B] লঘুমস্তিষ্ক [C] থ্যালামাস [D] হাইপোথ্যালামাস
উত্তর: [A] গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম – 80% ওজন।

1.3 হাঁটুতে আঘাত লাগলে পা সরে যাওয়া –
[A] প্রতিবর্ত ক্রিয়া [B] ঐচ্ছিক ক্রিয়া [C] আচরণ [D] চলন
উত্তর: [A] প্রতিবর্ত ক্রিয়া – knee jerk reflex

1.4 মাইটোসিসের কোন দশায় নিউক্লিয় পর্দা লুপ্ত হয় –
[A] প্রোফেজ [B] মেটাফেজ [C] অ্যানাফেজ [D] টেলোফেজ
উত্তর: [A] প্রোফেজ – শেষে, প্রো-মেটাফেজে পুরো লোপ।

1.5 ক্রোমোজোমের গঠনগত একক –
[A] DNA [B] জিন [C] ক্রোমাটিন [D] হিস্টোন
উত্তর: [A] DNA – জিন কার্যগত একক। গঠনগত DNA + হিস্টোন = ক্রোমাটিন। MCQ তে [A] বেস্ট।

1.6 অঙ্গজ জননে বংশধর –
[A] মাতৃ উদ্ভিদের মতো [B] ভিন্ন [C] অর্ধেক মিল [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] মাতৃ উদ্ভিদের মতো – ক্লোন।

1.7 মটর গাছে বেগুনি ফুল সাদার উপর প্রকট হলে Bb x bb তে বেগুনি –
[A] 50% [B] 75% [C] 25% [D] 100%
উত্তর: [A] 50% – টেস্ট ক্রস, 1:1

1.8 হিমোফিলিয়ার জিন থাকে –
[A] X ক্রোমোজোমে [B] Y তে [C] অটোজোমে [D] সবগুলিতে
উত্তর: [A] X ক্রোমোজোমে

1.9 সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ীর যোগসূত্র –
[A] প্লাটিপাস [B] ক্যাঙ্গারু [C] তিমি [D] বাদুড়
উত্তর: [A] প্লাটিপাস – ডিম পাড়ে আবার দুধ খাওয়ায়।

1.10 রুই মাছের পটকার কাজ –
[A] ভাসতে সাহায্য [B] শ্বাসে সাহায্য [C] গমনে সাহায্য [D] a ও c
উত্তর: [D] a ও c – প্লবতা ও ভারসাম্য, O2 সঞ্চয়ও করে তাই অনেকে সবগুলিই ধরে।

1.11 অ্যাজোটোব্যাকটর হল –
[A] মুক্তজীবী নাইট্রোজেন স্থিতিকারী [B] মিথোজীবী [C] রোগ সৃষ্টিকারী [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] মুক্তজীবী নাইট্রোজেন স্থিতিকারী

1.12 ভারতে জীববৈচিত্র্য আইন পাশ হয় –
[A] 2002 [B] 1972 [C] 1980 [D] 1990
উত্তর: [A] 2002

1.13 বায়ুতে CO2 বৃদ্ধির ফল –
[A] বিশ্ব উষ্ণায়ন [B] অ্যাসিড বৃষ্টি [C] ওজোন ছিদ্র [D] কোনটিই নয়
উত্তর: [A] বিশ্ব উষ্ণায়ন

1.14 সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমার কারণ –
[A] চোরাশিকার [B] বাসস্থান ধ্বংস [C] খাদ্যাভাব [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি

1.15 জিনোমের প্রথম নকশা প্রকাশিত হয় –
[A] 2003 [B] 1990 [C] 1953 [D] 2000
উত্তর: [A] 2003 – Human Genome Project সম্পূর্ণ। খসড়া 2000।

Madhyamik Life Sci Model Answers-6

বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×21=21)

2.1 হাইড্রোট্রপিজম কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: জলের উদ্দীপনায় উদ্ভিদের অঙ্গের বক্র চলনকে হাইড্রোট্রপিজম বলে। উদ্ভিদের মূল সাধারণত জলের দিকে বেঁকে যায়, তাই এটি পজিটিভ হাইড্রোট্রপিজমের উদাহরণ।

2.2 চোখের কোন অংশ আলো নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর: চোখের আইরিস আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। আইরিস পিউপিল বা তারারন্ধ্রকে ছোট-বড় করে চোখের ভিতরে প্রবেশকারী আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, বেশি আলোতে পিউপিল ছোট হয় এবং কম আলোতে বড় হয়।

2.3 ইউগ্লিনার গমন অঙ্গ কী?
উত্তর: ইউগ্লিনার গমন অঙ্গ হল ফ্ল্যাজেলা। ইউগ্লিনা তার লম্বা চাবুকের মতো ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে জলে সাঁতার কেটে চলন সম্পন্ন করে।

2.4 CSF এর পুরো নাম কী?
উত্তর: CSF এর পুরো নাম হল Cerebro Spinal Fluid বা সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড, বাংলায় মস্তিষ্ক-সুষুম্না রস। এটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে, পুষ্টি সরবরাহ করে এবং বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে।

2.5 গ্লুকাগনের কাজ কী?
উত্তর: গ্লুকাগন অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্সের আলফা কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। এর প্রধান কাজ হল রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। এটি যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে, যা ইনসুলিনের ঠিক বিপরীত কাজ।

2.6 কোষচক্র কী?
উত্তর: একটি কোষের সৃষ্টি থেকে শুরু করে বৃদ্ধি এবং বিভাজনের মাধ্যমে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি পর্যন্ত যে ধারাবাহিক পর্যায়গুলি ঘটে, তাকে কোষচক্র বলে। এটি G1, S, G2 এবং M দশা নিয়ে গঠিত।

2.7 জিন কী?
উত্তর: জিন হল DNA অণুর একটি নির্দিষ্ট খন্ডাংশ যা একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। জিন হল বংশগতির গঠনগত ও কার্যগত একক, যা পিতামাতা থেকে সন্তানে বৈশিষ্ট্য বহন করে।

2.8 কচুরিপানার অযৌন জনন কীভাবে হয়?
উত্তর: কচুরিপানার অযৌন জনন অফসেট বা রানারের মাধ্যমে হয়। এর কাণ্ড অনুভূমিকভাবে জলের উপর বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি পর্ব থেকে নতুন চারা গাছ সৃষ্টি করে, যা মাতৃ উদ্ভিদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচে।

2.9 সাইফনোগ্যামি কী?
উত্তর: সাইফনোগ্যামি হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে পরাগনালী বা Pollen Tube-এর মাধ্যমে পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছায়। এই ধরনের নিষেক সপুষ্পক উদ্ভিদে দেখা যায়।

2.10 ঋতুচক্র কী?
উত্তর: স্ত্রীদেহে প্রতি 28 দিন অন্তর অন্তর ডিম্বাশয় ও জরায়ুতে যে চক্রাকার পরিবর্তন ঘটে, তাকে ঋতুচক্র বলে। এই চক্রে ডিম্বাণু নিঃসরণ, জরায়ুর প্রাচীরের বৃদ্ধি এবং যদি নিষেক না ঘটে তবে জরায়ু প্রাচীর খসে পড়ে ঋতুস্রাব হয়।

2.11 লোকাস কী?
উত্তর: ক্রোমোজোমের উপর জিনের নির্দিষ্ট অবস্থানকে লোকাস বলে। প্রতিটি জিনের জন্য ক্রোমোজোমে একটি নির্দিষ্ট লোকাস থাকে, যেখানে সেই জিনটি অবস্থান করে।

2.12 মিউটেশন কাকে বলে?
উত্তর: কোনো জীবের জিন বা ক্রোমোজোমের গঠনে আকস্মিক এবং স্থায়ী পরিবর্তনকে মিউটেশন বলে। মিউটেশনের ফলে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে এবং এটি বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

2.13 ফসিল কী?
উত্তর: ফসিল বা জীবাশ্ম হল কোটি কোটি বছর আগের প্রাচীন উদ্ভিদ বা প্রাণীর প্রস্তরীভূত দেহ বা তাদের দেহের কোনো চিহ্ন, যা মাটির নিচে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফসিল থেকে বিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

2.14 প্রাকৃতিক নির্বাচন কী?
উত্তর: প্রাকৃতিক নির্বাচন হল ডারউইনের মতবাদের মূল বিষয়। এর মতে প্রকৃতিতে যে জীব পরিবেশের সাথে সবচেয়ে যোগ্য, সেই জীবই টিকে থাকে এবং অযোগ্য জীব ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

2.15 সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের পার্থক্য কী?
উত্তর: সমসংস্থ অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন একই কিন্তু কাজ আলাদা, যেমন – পাখির ডানা ও মানুষের হাত। আর সমবৃত্তীয় অঙ্গের কাজ একই কিন্তু উৎপত্তি ও গঠন আলাদা, যেমন – পাখির ডানা ও পতঙ্গের ডানা।

2.16 লবণাম্বু উদ্ভিদের শ্বাসমূল কেন থাকে?
উত্তর: লবণাম্বু উদ্ভিদ বা হ্যালোফাইট যেমন সুন্দরী গাছ লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে জন্মায় যেখানে অক্সিজেনের অভাব থাকে। তাই শ্বাসকার্যের জন্য এদের কিছু মূল মাটি ভেদ করে উপরের দিকে উঠে আসে, যাকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে।

2.17 বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কী?
উত্তর: বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট একটি বড় অঞ্চল। এতে তিনটি অঞ্চল থাকে – কোর জোন যেখানে কোনো মানুষের প্রবেশ নিষেধ, বাফার জোন এবং ট্রানজিশন জোন যেখানে সীমিত মানুষের কার্যকলাপ চলে।

2.18 ওজোন ছিদ্র কী?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলে CFC-এর মতো রাসায়নিক গ্যাসের প্রভাবে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যে ছিদ্রের সৃষ্টি হয়, তাকে ওজোন ছিদ্র বলে। এর ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি বেশি পরিমাণে পৃথিবীতে প্রবেশ করে। এটি আন্টার্কটিকা অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।

2.19 গ্রিনহাউস প্রভাবের কারণ কী?
উত্তর: গ্রিনহাউস প্রভাবের প্রধান কারণ হল বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস যেমন CO2, CH4, N2O, CFC ইত্যাদির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। এই গ্যাসগুলি পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপকে আটকে রাখে, ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।

2.20 বিশুদ্ধ ও সংকর জীব কাকে বলে?
উত্তর: যখন কোনো জীবের কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী দুটি অ্যালিল একই রকম হয়, তখন তাকে বিশুদ্ধ জীব বলে, যেমন – TT বা tt। আর যখন দুটি অ্যালিল ভিন্ন রকম হয়, তখন তাকে সংকর জীব বলে, যেমন – Tt।

2.21 শীতঘুম কী?
উত্তর: শীতকালে অত্যধিক ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচার জন্য কিছু প্রাণী যেমন ভাল্লুক, ব্যাঙ, সাপ দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমিয়ে থাকে, এই অবস্থাকে শীতঘুম বা হাইবারনেশন বলে। এই সময় তাদের বিপাক হার কমে যায়।

Madhyamik Life Sci Model Answers-6

বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×12=24)

3.1 কেমোন্যাস্টি ও ফটোন্যাস্টি উদাহরণ সহ লেখো।
উত্তর:
কেমোন্যাস্টি: যখন রাসায়নিক উদ্দীপকের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের ন্যাস্টিক চলন ঘটে, তখন তাকে কেমোন্যাস্টি বলে। এটি উদ্দীপকের গতিপথ নিরপেক্ষ।
উদাহরণ: সূর্যশিশির নামক পতঙ্গভুক উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত কর্ষিকাগুলি পতঙ্গ থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে বেঁকে গিয়ে পতঙ্গকে আটকে দেয়।

ফটোন্যাস্টি: যখন আলোর তীব্রতার প্রভাবে ন্যাস্টিক চলন ঘটে, তখন তাকে ফটোন্যাস্টি বলে।
উদাহরণ: পদ্ম, সূর্যমুখী ফুল দিনের উজ্জ্বল আলোতে ফোটে এবং রাতে বা অন্ধকারে বন্ধ হয়ে যায়। এটি আলোর তীব্রতার উপর নির্ভর করে, আলোর দিকের উপর নয়।

3.2 অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ডেনড্রন: i) এটি নিউরনের কোষদেহ থেকে উৎপন্ন ছোট ও শাখা-প্রশাখাযুক্ত প্রবর্ধক। ii) এর কাজ হল অন্য নিউরন বা গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোষদেহে নিয়ে আসা। iii) এতে নিসল দানা থাকে কিন্তু মায়েলিন আবরণ থাকে না।

অ্যাক্সন: i) এটি নিউরনের কোষদেহ থেকে উৎপন্ন একটি দীর্ঘ, অশাখা প্রবর্ধক। ii) এর কাজ হল কোষদেহ থেকে উদ্দীপনা দূরে পরবর্তী নিউরন বা কারক অঙ্গে বহন করে নিয়ে যাওয়া। iii) এর উপর সাধারণত মায়েলিন আবরণ থাকে এবং শেষ প্রান্তে সাইন্যাপটিক নব থাকে।

3.3 গ্রোথ হরমোন ও থাইরক্সিনের কাজ লেখো।
উত্তর:
গ্রোথ হরমোন বা GH: এটি পিটুইটারি গ্রন্থির অগ্রভাগ থেকে ক্ষরিত হয়। i) এটি হাড় ও পেশির বৃদ্ধি ঘটায়। ii) শৈশবে কম ক্ষরিত হলে বামনত্ব বা ডোয়ারফিজম এবং বেশি ক্ষরিত হলে অতিকায়ত্ব বা জাইগানটিজম হয়। iii) প্রোটিন সংশ্লেষ বাড়ায়।

থাইরক্সিন: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়, এতে আয়োডিন থাকে। i) দেহের বিপাক হার বা BMR নিয়ন্ত্রণ করে। ii) শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে অপরিহার্য। iii) এর অভাবে শিশুদের ক্রেটিনিজম এবং প্রাপ্তবয়স্কদের গলগন্ড রোগ হয়।

3.4 উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের মাইটোসিসের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
উদ্ভিদ কোষে মাইটোসিস: i) সেন্ট্রিওল থাকে না, তাই বেমতন্তু কোষের মেরু অঞ্চল থেকে তৈরি হয়। ii) সাইটোকাইনেসিস বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজন কোষপাত গঠনের মাধ্যমে ঘটে, যা মাঝখান থেকে পরিধির দিকে হয়। iii) বেমতন্তু বেশি স্থায়ী হয়।

প্রাণী কোষে মাইটোসিস: i) সেন্ট্রিওল থাকে, সেন্ট্রিওল থেকে অ্যাস্ট্রাল রশ্মি ও বেমতন্তু তৈরি হয়। ii) সাইটোকাইনেসিস কোষপর্দায় খাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে ঘটে, যা পরিধি থেকে মাঝখানের দিকে হয়। iii) অ্যাস্টার গঠন দেখা যায়।

3.5 অযৌন জননের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: অযৌন জননের বৈশিষ্ট্যগুলি হল —
i) এই জননে একটি মাত্র জনক অংশ নেয়।
ii) গ্যামেট গঠন ও নিষেক ঘটে না, মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে।
iii) অপত্য জীব মাতৃ জীবের হুবহু অনুরূপ হয়, অর্থাৎ ক্লোন সৃষ্টি হয়।
iv) খুব দ্রুত ও কম শক্তিতে সম্পন্ন হয় এবং কোনো প্রকরণ সৃষ্টি হয় না।

3.6 নিষেকের পর ফুলের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: নিষেকের পর ফুলের বিভিন্ন অংশে যে পরিবর্তনগুলি হয় —
i) ডিম্বাশয়: ডিম্বাশয়টি ফলে পরিণত হয়।
ii) ডিম্বক: ডিম্বকটি বীজে পরিণত হয়। ডিম্বকের মধ্যে ভ্রূণ এবং শস্য তৈরি হয়।
iii) অন্যান্য অংশ: বৃতি, দলমণ্ডল, গর্ভদণ্ড, পুংকেশর সাধারণত শুকিয়ে ঝরে পড়ে। কিছু ফলে বৃতি থেকে যায়, যেমন বেগুন। এই পরিবর্তনের ফলে ফুল থেকে ফল ও বীজ সৃষ্টি হয়।

3.7 মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম – অসম্পূর্ণ প্রকটতা লেখো।
উত্তর: মেন্ডেলের মতে একটি বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ প্রকট হয়, কিন্তু অসম্পূর্ণ প্রকটতা এই সূত্রের ব্যতিক্রম।
এখানে দুটি বিশুদ্ধ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংকরায়ণে F1 জনুতে কোনো একটি বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ প্রকাশ না পেয়ে মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী ফুলে বিশুদ্ধ লাল ফুল (RR) এর সাথে বিশুদ্ধ সাদা ফুলের (rr) সংকরায়ণে F1 জনুতে সব ফুল গোলাপি (Rr) হয়। F2 জনুতে ফিনোটাইপ অনুপাত 1 লাল : 2 গোলাপি : 1 সাদা অর্থাৎ 1:2:1 হয়, যা মেন্ডেলের 3:1 অনুপাত নয়। জিনোটাইপ অনুপাতও 1:2:1 হয়।

3.8 বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ লেখো।
উত্তর:
কারণ: i) বর্ণান্ধতা হল X-ক্রোমোজোমে অবস্থিত একটি প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। ii) রেটিনার কোন কোষে লাল ও সবুজ রং শোষণের জন্য দায়ী রঞ্জকের ত্রুটির জন্য এই রোগ হয়। iii) এটি বংশগতভাবে ক্রিস-ক্রস পদ্ধতিতে সঞ্চারিত হয়।

লক্ষণ: i) আক্রান্ত ব্যক্তি লাল ও সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না। ii) এটি পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, মহিলারা সাধারণত বাহক হয়। iii) এটি জন্মগত এবং সারাজীবন থাকে।

3.9 অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি – ল্যামার্কের মতবাদ লেখো।
উত্তর: ল্যামার্ক 1809 সালে তাঁর ফিলোসফি জুলজিক বইতে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি মতবাদ দেন। এর মূল বক্তব্য হল —
i) ব্যবহার ও অব্যবহার: জীব যে অঙ্গ বেশি ব্যবহার করে সেই অঙ্গ বেশি বৃদ্ধি পায় এবং যে অঙ্গ ব্যবহার করে না, তা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত বা লুপ্ত হয়ে যায়।
ii) অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি: জীবদ্দশায় পরিবেশের প্রভাবে যে বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়, তা পরবর্তী বংশে সঞ্চারিত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: জিরাফ উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার জন্য বারবার গলা লম্বা করার চেষ্টা করায় গলা লম্বা হয়েছে এবং সাপের পা অব্যবহারে লুপ্ত হয়েছে বলে ল্যামার্ক মনে করতেন।

3.10 রুই মাছের জলজ অভিযোজন লেখো।
উত্তর: রুই মাছের জলজ অভিযোজনগুলি হল —
i) দেহের আকৃতি: দেহ মাকু আকৃতির বা স্ট্রিমলাইন্ড, ফলে জলে সাঁতার কাটতে সুবিধা হয়।
ii) পাখনা ও আঁশ: পাখনা সাঁতার ও দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে। দেহ পিচ্ছিল আঁশ ও মিউকাসে ঢাকা, যা জল প্রতিরোধ কমায়।
iii) শ্বসন ও অন্যান্য: ফুলকার মাধ্যমে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে। পটকা বা বায়ুথলি প্লবতা রক্ষা করে ওঠা-নামায় সাহায্য করে। পার্শ্বরেখা জলের চাপ ও কম্পন বুঝতে সাহায্য করে।

3.11 নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ কী? প্রকারভেদ লেখো।
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেন (N2) অন্য কোনো যৌগে, বিশেষ করে অ্যামোনিয়ায় (NH3) পরিণত হয়ে মাটিতে আবদ্ধ হয়, তাকে নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ বলে।
এর প্রকারভেদ হল —
i) জৈবিক স্থিতিকরণ: মাটির ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়। যেমন – সিম্বায়োটিক রাইজোবিয়াম (মটর গাছের মূলে) এবং মুক্তজীবী অ্যাজোটোব্যাকটর।
ii) অজৈব বা প্রাকৃতিক স্থিতিকরণ: বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ ক্ষরণে N2 ও O2 মিলে নাইট্রেট তৈরি হয়।
iii) শিল্প স্থিতিকরণ: হেবার-বস পদ্ধতিতে কারখানায় উচ্চ চাপ ও তাপে N2 থেকে অ্যামোনিয়া ও সার তৈরি করা হয়।

3.12 জৈব বৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ লেখো।
উত্তর: জৈব বৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণগুলি হল —
i) বাসস্থান ধ্বংস: চাষ, নগরায়ণ, শিল্পায়নের জন্য বন কেটে ফেলায় জীবের বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে।
ii) চোরাশিকার ও অতিরিক্ত আহরণ: মূল্যবান চামড়া, শিং, দাঁতের জন্য নির্বিচারে প্রাণী হত্যা।
iii) দূষণ ও বহিরাগত প্রজাতি: জল, বায়ু, মাটি দূষণে বহু জীব মারা যাচ্ছে। বহিরাগত প্রজাতি যেমন কচুরিপানা দেশীয় প্রজাতিকে ধ্বংস করছে।
iv) অন্যান্য: জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন।

3.13 ক্যান্সারের কারণ লেখো।
উত্তর: ক্যান্সারের কারণগুলি হল —
i) জিনগত কারণ: কোষে অনকোজিন সক্রিয় হয়ে যাওয়া এবং টিউমার সাপ্রেসর জিন নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়ে ক্যান্সার হয়।
ii) বাহ্যিক কারণ: ধূমপান, তামাক সেবন, রাসায়নিক পদার্থ যেমন অ্যাসবেস্টস, UV রশ্মি, X-রে, কিছু ভাইরাস যেমন হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস।
iii) অভ্যাস ও বংশগতি: অনিয়মিত জীবনযাপন, ফাস্টফুড, মদ্যপান এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও ক্যান্সার হতে পারে।

—   ➣Read More


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

2 thoughts on “Madhyamik Life sci Model Answers-6

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading